" কুন্তীদেবীর শিক্ষা " সুধি ভগবদ্ভক্তগণ কর্তৃক অতি সমাদৃত এই গ্রন্থ

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি Teachings of Queen Kunti গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ । অনুবাদক : শ্রীমদ্ সুভগ স্বামী মহারাজ

  • অবিদ্যা ও যাতনা থেকে মুক্তি

    শ্লোক: ১৮
    ভবেহস্মিন্ ক্লিশ্যমানানামবিদ্যাকামকর্মভিঃ ।
    শ্রবণস্মরণার্হাণি করিষ্যন্নিতি কেচন ॥ ১৮ ॥
  • অনুবাদ : আর অন্যান্যরা বলেন যে , শ্রবণ , স্মরণ , পূজনাদি সমন্বিত ভগবদ্ভক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তুমি আবির্ভূত হও , যাতে জাগতিক তাপক্লিষ্ট বদ্ধ জীবেরা তার সুযোগ গ্রহণ করে মুক্তিলাভ করতে পারে । ( ভাঃ ১/৮/৩৫ )
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান ঘোষণা করেছেন যে , ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি প্রতি যুগে অবতরণ করেন । ধর্ম সাক্ষাৎ ভগবানই প্রণয়ন করেন । কোন কোন উচ্চাভিলাষীর ক্ষেত্রে এটি ফ্যাশান হলেও , কেউই নতুন ধর্ম সৃষ্টি করতে পারে না । বাস্তব ধর্ম হচ্ছে ভগবান শ্রীহরিকে পরম কর্তারূপে স্বীকার করে স্বতঃস্ফূর্ত প্রেমভক্তির দ্বারা তাঁর সেবা করা । জীবাত্মা সেবাহীন থাকতে পারে না , কেন না স্বরূপত এই উদ্দেশ্যেই জীব গঠিত হয়েছে । জীবাত্মার একমাত্র কাজ হচ্ছে ভগবানের পাদপদ্ম সেবা করা । ভগবান হচ্ছেন মহান এবং জীবকুল ভগবৎ অধীন । তাই , জীবের কর্তব্য হচ্ছে শুধু ভগবানের সেবা করা । দুর্ভাগ্যবশত অবিদ্যাগ্রস্ত , বিভ্রান্ত জীব জড় কামনার মাধ্যমে ইন্দ্রিয়ের দাসে পরিণত হয় । এই বাসনাকে অবিদ্যা অথবা অজ্ঞান বলে । আর এই রকম অবিদ্যার বশীভূত হয়ে জীব বিকৃত মৈথুন জীবন কেন্দ্রিক জড় ভোগময় বিভিন্ন পরিকল্পনা করে । এইভাবে জীব ভগবৎ নির্দেশে বিভিন্ন গ্রহলোকে দেহান্তরের মাধ্যমে জন্মমৃত্যুময় সংসার আবর্তে আবদ্ধ হয় । তাই অবিদ্যার সীমানা অতিক্রম না করে , কেউ সংসার জীবনের -ত্রিতাপক্লেশ থেকে মুক্ত হতে পারে না । এটি হচ্ছে জড়া প্রকৃতির নিয়ম ।

       সে যাই হোক , ভগবান তাঁর অহৈতুকী কৃপায় , যেহেতু তিনি দুর্দশাক্লিষ্ট জীবদের প্রতি তাদের আশাতীত ও অধিক কৃপা - পরায়ণ , তাই তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হন এবং শ্রবণ , কীর্তন , স্মরণ , দাস্য , পূজন , বন্দনা , সহযোগিতা ও তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ সমন্বিত ভগবভক্তির পন্থা পুনরুজ্জীবিত করেন ।

       উপরোক্ত সমস্ত অঙ্গগুলি গ্রহণ , অথবা তাদের যে কোন একটি অঙ্গ অবিদ্যার বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত হতে বন্ধ জীবাত্মাকে সাহায্য করতে পারে এবং এভাবে বহিরঙ্গা শক্তির দ্বারা মোহগ্রস্ত জীবাত্মার দ্বারা সৃষ্ট সমস্ত জাগতিক ক্লেশ মুক্ত করতে পারে । শ্রীচৈতন্য মহপ্রভুরূপে ভগবান এই বিশেষ ধরনের কৃপা জীবকে প্রদান করেছেন ।

       এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকে ভবেহস্মিন্ কথার অর্থ এই সংসার জগতে । ভব শব্দের আরও অর্থ হচ্ছে ' বৃদ্ধি পাওয়া ' এবং এই শব্দে যা জন্মগ্রহণ করেছে তাকেও বুঝায় । জড় জগতে ছয় রকম পরিবর্তন হয় । প্রথমে জন্ম , তারপর বৃদ্ধি এবং তারপর যা জন্মগ্রহণ করেছে এবং বৃদ্ধি হয়েছে তা কিছুকাল স্থায়ী হয় , কিছু উপজাত দ্রব্য উৎপন্ন করে , তারপর অবক্ষয় হয় এবং অবশেষে অন্তর্হিত হয় । এই ছয়টি পরিবর্তনকে ষড়বিকার বলে । যেমন , কোন এক বিশেষ তারিখে দেহের জন্ম হয় , তারপর দেহের বৃদ্ধি হয় এবং কিছুকাল এই দেহ স্থায়ী হয় । এই দেহ থেকে বহু পুত্র - কন্যাদি উপজাত হয় , তারপর এই জড় শরীর পুরানো ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে অত্যন্ত জরাগ্রস্ত দেহের অবসান ঘটে ।

       কিন্তু দেহের বিনাশে আমি বিনাশ প্রাপ্ত হই না । জড় দেহের অবসানে , আমি মন , বুদ্ধি ও অহঙ্কারযুক্ত সূক্ষ্ম দেহে অবস্থান করি , এবং এই সূক্ষ্ম দেহ আমাকে অন্য এক স্থূল দেহে নিয়ে যায় । যদিও প্রত্যেক জীবকেই সূক্ষ্ম দেহ গ্রহণ করতে হয় , কিন্তু বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরা এটি দেখতে অক্ষম । আমার একটি মন আছে এবং আপনারও একটি মন আছে , কিন্তু আমি আপনার মনকে দেখতে পারি না এবং আপনিও আমার মনকে দেখতে পারেন না । আমার বুদ্ধি আছে এবং আপনারও বুদ্ধি আছে , কিন্তু আপনি আমার বুদ্ধিকে দেখতে পারেন না , আমিও আপনার বুদ্ধিকে দেখতে পারি না , কারণ বুদ্ধি অত্যন্ত সূক্ষ্ম । সেই রকম , চেতন আত্মা আরও সূক্ষ্ম তাই জড় বিজ্ঞানীরা তা দেখবে কিভাবে । তারা মন , বুদ্ধি অথবা অহঙ্কারকে দেখতে অক্ষম , আত্মাকে দেখার কথাই উঠে না । তাই তারা বলে , " এই জড় দেহই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দেহাতীত আর কিছুই নেই । ” সে যাই হোক বস্তুত তা সত্য নয় ।

       বাস্তব সত্য হচ্ছে যে , চেতন আত্মা অত্যন্ত ক্ষুদ্র । বালাগ্রশতভাগস্য শতধা কল্পিতস্য চ ( শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ ৫/৯ ) । আত্মার আয়তন হচ্ছে কেশাগ্রের দশ সহস্রাংশের একভাগ । যেমন , একটি চুল নিয়ে তাকে একশত ভাগ করতে হবে । আমরা কি এই কাজ পারব ? না , আমরা পারব না । কিন্তু যদি আমরা এই কাজ করতে পারি , এবং ঐ বিভক্ত অংশকে আবার একশত ভাগ করলে , এক একটি অংশ হবে আত্মার আয়তন ।

       নিঃসন্দেহে , পরীক্ষামূলক জ্ঞানের মাধ্যমে এটি উপলব্ধি করা সম্ভব নয় , তা হলে কিভাবে এটি শিক্ষণীয় ? প্রামাণিক সূত্র থেকে এটি শিক্ষা করতে হবে । আমাদের জ্ঞান এতই ত্রুটিযুক্ত যে , এই রকম সূক্ষ্ম বিষয়ে তা বিচার করতে পারে না , এবং যেহেতু মূঢ় , দুর্জনেরা তা অনুশীলনে অক্ষম , তাই তারা অনুমান করে যে , জড় পদার্থই জীবনের মূল কারণ , তা সত্ত্বেও , তারা প্রদর্শন করতে সক্ষম নয় যে , জড় থেকে চেতনের প্রকাশ । কারণ পরীক্ষাগারে রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে তারা হাত - পা - চোখ সমন্বিত একটি ক্ষুদ্র - কীটই সৃষ্টি করুক । প্রতি রাত্রে আমরা চোখ ও অন্যান্য অঙ্গ সমন্বিত বহু ক্ষুদ্র কীটকে আলোকের সম্মুখীন হতে দেখি । এই রকম ক্ষুদ্র কীট থেকে ব্রহ্মা পর্যন্ত ৮৪ লক্ষ আকৃতি সম্পন্ন বিভিন্ন রকম জীব রয়েছে । তাদের মধ্যে এক দেহ থেকে অন্য দেহে আমরা ভ্রমণ করছি- এক দেহ ত্যাগ করছি এবং অন্য দেহে প্রবেশ করছি , যা ভগবদ্‌গীতায় কৃষ্ণ বর্ণনা করেছেন ( তথা দেহান্তরপ্রাপ্তি )। সুতরাং হয় কৃষ্ণের বাণীকে আমাদের অস্বীকার করতে হবে নয়তো জড় থেকে জীবনের উৎপত্তি এই তথাকথিত বৈজ্ঞানিক মতবাদ কে বর্জন করতে হবে । কৃষ্ণানুশীলনই আমাদের জীবনের ব্রত , তাই আমরা কৃষ্ণের বাণীকে অস্বীকার করতে পারি না । কৃষ্ণ যখন বলেন যে , আমরা দেহ থেকে দেহান্তরে ভ্রমণ করছি , আমরা তখন তা স্বীকার করি ।

       এই ভবসংসারে প্রতিটি জীবই অবিদ্যায় আচ্ছন্ন । অবিদ্যাকর্মসংজ্ঞান্যা তৃতীয়া শক্তিরিষ্যতে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত শক্তিসম্পন্ন ( পরাস্য শক্তির্বিবিধৈব শ্রূয়তে ) । এই শক্তিগুলিকে সংক্ষেপে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে বহিরঙ্গা শক্তি , অন্তরঙ্গা শক্তি ও তটস্থা শক্তি । তটস্থা ও অন্তরঙ্গা শক্তি একই চিৎশক্তি গুণসম্পন্ন , কিন্তু তৃতীয় বহিরঙ্গা শক্তি হচ্ছে নিকৃষ্ট ।

    বিষ্ণুশক্তিঃ পরা প্রোক্তা ক্ষেত্রজ্ঞাখ্যা তথাপরা ।
    অবিদ্যা - কর্মসংজ্ঞান্যা তৃতীয়া শক্তিরিষ্যতে ( বিষ্ণুপুরাণ ৬/৭/৬১ )

       এই জড় জগতে সকলেই অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন ( অবিদ্যা) । ভগবান কৃষ্ণ থেকে দিব্যজ্ঞান প্রাপ্ত হওয়ার আগে ব্রহ্মাও অজ্ঞানতায় আচ্ছন্ন ছিলেন । তাই কারো জ্ঞান নিয়ে বড়াই করা উচিত নয় । এই জড় জগতে সকলেই মূঢ়। কোন বিশেষ জীব ইচ্ছা করে , “ যদি আমি ব্রহ্মার পদ প্রাপ্ত হই , তা হলে আমি একটি বিশাল ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করতে পারি । " এভাবে সে ব্রহ্মার দেহ লাভ করে । আবার কোন ক্ষুদ্র কীট মনে মনে ভাবে , “ এই কক্ষের মধ্যে আমি একটি ছোট গর্ভ করতে পারলে , সেখানে খাওয়াদাওয়া করে আমি শান্তিতে বসবাস করতে পারি । " এইভাবে ব্রহ্মা এক ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করার ইচ্ছা করে , আমরা আকাশচুম্বী অট্টালিকা তৈরির ইচ্ছা করি , এবং একটি পিপীলিকা ঘরে একটি গর্ত তৈরি করার ইচ্ছা করে , কিন্তু সে কাজের বৈশিষ্ট্য একই । যে যাই হোক আমরা সবাই মূঢ় , কেন না আমরা হৃদয়ঙ্গম করি না যে , যেহেতু এগুলি সবই জড় পদার্থ , তাই স্থায়ী হবে না । অজ্ঞানে আচ্ছন্ন হয়ে আমরা ভাবি , “ এগুলি বেশ ভাল হবে , ঐগুলি খুব চমৎকার হবে । ” কামকর্মভিঃ । আমরা কিছু বাসনা ( কাম ) সৃষ্টি করি এবং সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করি । পরিণামে আমাদের অনেক ক্লেশ ভোগ করতে হয় ( ক্লিশ্যন্তি ) । ব্রহ্মা হওয়া খুব সহজ নয় । ব্রহ্মার পদ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে , যিনি কঠোর তপস্যা ও কৃষ্ণসাধনে অত্যন্ত উন্নত , এইরকম অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন জীবকে ব্রহ্মার পদ দেওয়া হয় । কিন্তু ব্রহ্মাও আমাদের মতোই একজন জীব । আমেরিকায় অনেক নাগরিক আছেন । মিঃ ফোর্ডও একজন নাগরিক , কিন্তু তাঁর প্রদীপ্ত কর্মদক্ষতা ও কূটনীতির বলে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির পদ অর্জন করেন । তবু তিনি একজন সাধারণ নাগরিক । যেমন , রাষ্ট্রপতি নিক্সনকে এখন পদচ্যুত করা হয়েছে , তিনি এখন আর রাষ্ট্রপতি নন । কারণ তিনি একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন । সেই রকম , ইচ্ছা করলে আমরাও ব্রহ্মার পদ অর্জন করতে পারি । তাই ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন-

    কীটজন্ম হউ যথা তুয়া দাস
    বহির্মুখ ব্রহ্মজন্মে নাহি আশ

       " আপনার শুদ্ধ ভক্তের গৃহে আমি এক ক্ষুদ্র কীট হয়ে জন্মগ্রহণ করতে চাই , কেন না ভগবদ্ভক্তের পদধূলায় অবগাহন করে আমার জীবন সফল হবে । " ভক্তিবিনোদ ঠাকুর বলেছেন , বহির্মূখ ব্রহ্মজন্মে নাহি আশ " আমি কৃষ্ণভক্তিহীন ব্রহ্মার পদ কামনা করি না । "

       আমরা অবিদ্যাগ্রস্ত বা মায়াবিষ্ট হওয়ায় , যে কোন মুহূর্তে কৃষ্ণকে ভুলে যেতে পারি । তাই আমাদের সব সময় কৃষ্ণানুশীলনে নিযুক্ত থাকতে হবে , যাতে আমরা ভগবান মুকুন্দকে না তুলি । কুন্তীদেবী শ্রবণস্মরণার্হাণি কথার মাধ্যমে এই ভাবই প্রকাশ করেছেন । শ্রবণ শব্দের অর্থ ' শোনা ' , স্মরণ শব্দের অর্থ ' অনুচিন্তন ' এবং অর্হণ শব্দে ' কৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহ উপাসনা ' বুঝায় । প্রতিনিয়তই কৃষ্ণকথা শ্রবণ , কৃষ্ণস্মরণ ও কৃষ্ণোপাসনায় নিয়োজিত রাখা উচিত । একমাত্র এই উদ্দেশ্যেই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের সকল কেন্দ্রগুলি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে , এবং কীর্তন , নৃত্য ও কৃষ্ণোপাসনার সুযোগ দানের ব্যবস্থা হয়েছে , যাতে আমরা কখনও কৃষ্ণকে না ভুলে যাই । সদা তদ্ভাব ভাবিতঃ — যদি আমরা সব সময়ই কৃষ্ণচিন্তা করি , তা হলে জীবনের অন্তিম সময়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করার সম্ভাবনা থাকবে ( অন্তে নারায়ণস্মৃতি ) ।

       যে কোন কাজের সুষ্ঠু সাধন অনুশীলন সাপেক্ষ । যেমন , নাট্টমঞ্চে নৃত্য করতে চাইলে , তাকে তার পূর্বে নৃত্যের কলাকৌশলে নিপুণতার জন্য বহুবার অনুশীলন করতে হবে । তারপর নৃত্যে অভিজ্ঞ হয়ে তিনি মঞ্চে অনুষ্ঠান করলে , জয়ধ্বনি করে লোকে বলবে , “ আহা , কি চমৎকার নৃত্য । " কিন্তু কেউ বলতে পারেন , “ আমি মঞ্চে উঠে চমৎকার নৃত্য প্রদর্শন করতে পারি ? " সেই কাজ সম্ভব নয় । কেউ বলতে পারে , " না , না , না । মঞ্চে নৃত্যানুশীলনের মহড়ার আমার কোন দরকারই নেই । আমাকে শুধু মঞ্চে উঠার সুযোগ দিন এবং আমি সুন্দরভাবে নৃত্যানুষ্ঠান করব । " কিন্তু পরিচালক এই সুযোগ দিবেন না , কেন না অনুশীলন ছাড়া উত্তম নর্তক হওয়া যায় না । জীবনের অন্তিম মুহূর্তে কৃষ্ণস্মরণই ( অন্তে নারায়ণস্মৃতি ) মানব - জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য । মৃত্যুর সময় কৃষ্ণকে স্মরণ করতে সমর্থ হলে , জীবন সফল হয় ।

       এই ভবসংসারে সকলকেই জড় ক্লেশ ভোগ করতে হয় , কিন্তু মূঢ় দুর্জনরা এই কথা হৃদয়ঙ্গম করতে যত্নবান হয় না , কারণ তারা অজ্ঞানে আচ্ছন্ন । চোরাকারবারী গ্রেপ্তার ও শাস্তির কথা জেনেও তার অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যায় । একজন চোর জানতে পারে যে , অপরাধমূলক কাজের জন্য গ্রেপ্তারবরণ করে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে , এমন কি সে কয়েকবার শাস্তিভোগ করেছে , তবু সে আবার সেই অপরাধই করবে ( পুনঃ পুনশ্চর্বিতচবর্ণানাম্ ) । কেন ? অজ্ঞানতা । অজ্ঞানতায় সে এমনই আবিষ্ট যে , সে ভেবেও দেখে না , আমি বারবার চুরি করে ধরা পড়ছি এবং জেলে গিয়ে আমার শাস্তি পেতে হবে । কেন আমি এভাবে চুরি করে চলেছি । এর পরিণাম কখনই শুভ হবে না । " একজন কামার্ত ব্যক্তি বারবার যৌনরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা লাভ করতে পারে , কিন্তু সে আবার গণিকালয়ে যাবে । এই হচ্ছে অবৈধ স্ত্রীসঙ্গ । কিন্তু বৈধ স্ত্রীসঙ্গেও অনেক জটিল সমস্যার উদ্ভব হয় । সহবাসের পর স্ত্রীলোকটি গর্ভবর্তী হয় এবং তাকে দশ মাস কষ্টভোগ করতে হয় । তা ছাড়া প্রসবের সময় কখনও কখনও অত্যন্ত সঙ্কটজনক অবস্থার সৃষ্টি হয় । সন্তানের জন্মের পর , সন্তানের সুষ্ঠু প্রতিপালন পিতার অবশ্য কর্তব্য । সন্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য পিতাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে । তাই বৈদিক শাস্ত্রে বলা হয়েছে , বহুদুঃখহভাজঃ- অবৈধ বা বৈধ যেভাবেই হোক , স্ত্রীসঙ্গের পর নানা সমস্যার উদ্ভব হয় । তৃপ্যন্তি নেহ কৃপণাঃ -- কিন্তু মৃঢ় দুর্জনরাই অতৃপ্ত থাকে । পক্ষান্তরে , সে বার বার ঐ একই কাজ করবে ( পুনঃ পুনশ্চর্বিতচর্বণানাম্ ) ।
    একেই বলে ভবরোগ ।

    যন্মৈথুনাদি গৃহমেধিসুখং হি তুচ্ছং কণ্ডুয়নেন করয়োরিব দুঃখদুঃখম্ ( ভাঃ ৭/৯/৪৫ )

       তাই , বৈদিক সভ্যতায় , ছেলেরা যাতে , যৌন সমস্যায় বিজড়িত না হয় তার জন্য তাদেরকে ব্রহ্মচর্য শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে । কিন্তু ব্রহ্মচর্য রক্ষা করা সম্ভব না হলে তিনি বিবাহ করতে পারেন । প্রথম জীবনে ব্রহ্মচর্য শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে , তিনি দীর্ঘকাল গৃহস্থাশ্রমে থাকবেন না । তিনি অনতিবিলম্বেই বানপ্রস্থ আশ্রম অবলম্বন করবেন এবং তারপর তিনি সন্ন্যাস আশ্রম গ্রহণ করবেন ।

       এই ভব সংসারে পশু, পাখি , বৃক্ষ , লতা , জন্ত এবং এমন কি ব্রহ্মা , সকলেই দুঃখক্লেশ ভোগ করছে । ইন্দ্রও নিরাপদে নেই , ইন্দ্রও তাঁর ভাবী প্রতিদ্বন্দ্বী সম্বন্ধে উদ্বিগ্ন ।

    তৎ সাধু মন্যেহসুরবর্য দেহিনাং
    সদা সমুদ্বিগ্নধিয়ামসদ্গ্রহাৎ ( ভাঃ ৭/৫/৪৫ )

       এই ভব - সংসারে প্রত্যেকেই সর্বদা উদ্বিগ্নচিত্ত কেন ? অবিদ্যাকামকর্মভিঃ- কেন না তারা সবাই মূঢ় । এই জন্য কৃষ্ণ দৃঢ়ভাবে বলেছেন , “ তোমরা মূঢ় , তোমাদের অর্থহীন কার্যকলাপ ত্যাগ করে আমার শরণাগত হও । " এই হচ্ছে কৃষ্ণের অতি উত্তম কৃপা । কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম পিতা । তাই তিনি স্বয়ং বলেছেন , সর্বগুহ্যতমম্ “ এটি হচ্ছে সবচেয়ে গোপনীয় জ্ঞান । " সর্বধমান পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ " তোমরা মূর্খ , সব কিছু পরিত্যাগ করে শুধু আমার শরণাপন্ন হও ।

       তাই কুন্তীদেবী বলেছেন , " এই রকম মূর্খদের শিক্ষা দেবার জন্য এবং তাদেরকে ভগবৎ - কথা শ্রবণ , কীর্তন , স্মরণ ও উপাসনায় নিযুক্ত করার জন্যই তুমি অবতরণ করেছে । এই হচ্ছে ভক্তি। শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণুোঃ- কৃষ্ণকথা, বিষ্ণুকথা শ্রবণ ও কীর্তন করা উচিত । কিন্তু ভগবদ্ভক্তদের বিষ্ণুকথা শ্রবণ ও কীর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোন মূর্খ স্বামী বলবে , " না , যে কোন নাম শ্রবণ ও কীর্তন করা চলবে ; শুধু বিষ্ণুনাম কেন ? কালীর নাম শ্রবণ ও কীর্তন হবে না কেন ? " বাংলায় একদল লোক ' কালীকীর্তন ' অর্থাৎ কালীদেবীর নামকীর্তন আবিষ্কার করেছে । এ আবার কি উৎপাত ? বৈদিক শাস্ত্রে ' কালীকীর্তন ' বলে কিছু নেই । কীর্তন গানে শ্রবণং কীর্তনং বিষ্ণোঃ- হরি বা কৃষ্ণের পবিত্র নাম শ্রবণ ও কীর্তন । বৈদিক শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে হরের্নাম অর্থাৎ কৃষ্ণ বা হরির পবিত্র নাম কীর্তন করা এবং অন্য কারও নামের উল্লেখ নেই ।

       শ্রীমদ্ভাগবতের দ্বিতীয় স্কন্ধে ( ২/৪/১৫ ) এই শ্রবণ ও কীর্তন প্রসঙ্গে শুকদেব গোস্বামী সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন । তিনি বলেছেন-

    যৎকীর্তনং যৎস্মরণং যদীক্ষণং
    যদ্বন্দনং যচ্ছ্রবণং যদর্হণম্ ।

       লোকস্য সদ্যো বিধুনোতি কল্মষং
    তস্মৈ সুভদ্রশ্রবসে নমো নমঃ ॥

       শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যার আগে শুকদেব গোস্বামী এই শ্লোকটির মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বন্দনা করেন । তিনি বলেছেন , আমি ভগবান শ্রীহরির বন্দনা করি , কেন না শুধু হরিকথা শ্রবণই সুভদ্র অর্থাৎ শুভ । " সমগ্র ভাগবতই হচ্ছে কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন এবং শুকদেব গোস্বামী এই মহিমা কীর্তন করেছেন । তিনি বলেছেন যে , শুধু কৃষ্ণের গুণকীর্তন করে , কৃষ্ণের ধ্যান করে , অথবা কৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহের সম্মুখে উপবেশন করে এবং শ্রীবিগ্রহ দর্শন করে তারা ভাবতে পারে , শ্রীকৃষ্ণের কি অপরূপ সাজ । শ্রীমতী রাধারাণী কি চমৎকার সাজে সজ্জিতা । শুধু এই রকম চিন্তা করেই একজন সম্পূর্ণ নির্মল হতে পারে । যে কৃষ্ণ কীর্তনে সক্ষম নয় বা মন চঞ্চল হওয়ায় কৃষ্ণে মনোনিবেশ করতে পারে না , তখন তাকে এই সুযোগ দেওয়া হয় এখানে শ্রীবিগ্রহ আছে । শুধু তাঁকে দর্শন করুন । কেউ যদি শ্রীবিগ্রহের সেবায় নিয়োজিত থাকেন , তা হলে তিনি দিনের ২৪ ঘণ্টা সর্বদাই ভগবানকে দর্শনের সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে থাকেন । মন্দির মার্জনের সময় , শ্রীবিগ্রহের বেশভূষা পরানোর সময় , শ্রীবিগ্রহের অভিষেকের সময় অথবা ভোগ নিবেদনের সময় সর্বদাই ভগবৎ - দর্শন হবে । এই হচ্ছে ভগবানের পন্থা , কিন্তু জনগণ এতই পতিত , অধম ও মূঢ় যে , তারা শ্রীবিগ্রহ দর্শনেও যায় না । তারা অনুমান করে বলে , “ ওঃ , এই শ্রীবিগ্রহ উপাসনা আবার কি ? এতো মূর্তিপূজা । " তারা গান্ধী বা অন্য কারও মূর্তির পূজা করতে পারে , কিন্তু ভগবৎ - বিগ্রহ উপাসনায় আমন্ত্রিত হলে তারা বলবে , " না , এ তো মূর্তিপূজা।”

       আমি কলকাতার চৌরঙ্গী স্কোয়ারে স্যার আশুতোষ মুখার্জীর একটি মূর্তি দেখেছি । সারা বছর কাক সেই মূর্তির মুখে বিষ্ঠা ত্যাগ করে , তারপর সেই বিষ্ঠা কেকের আকারে শক্ত দলায় পরিণত হয় । তাই বছরে একদিন সকালে একজন নগণ্য ঝাড়ুদার ঝাড়ু দিয়ে মূর্তিটি পরিষ্কার করে , এবং সন্ধ্যায় একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ঐ মূর্তিতে একটি পুষ্পমাল্য দান করে । তারপর সেই সন্ধ্যার পর তাঁরা সব চলে যায় , এবং পরদিন সকালে কাক আবার ঐ মূর্তির মুখে বিষ্ঠা ত্যাগ করতে থাকে । এইভাবে মিউনিসিপ্যালটির ঝাড়ু দিয়ে স্যার আশুতোষের মুখ মার্জন — এই রকম উপাসনা গ্রহণীয় ও স্বীকৃত , কিন্তু আমরা কৃষ্ণবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করে সুন্দরভাবে ভগবানের উপাসনা করলে , লোক বলবে যে এতা মূর্তিপূজা ।

       অতত্রব জনসাধারণও অবিদ্যা বা অজ্ঞানতার দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে তারা হতবুদ্ধিগ্রস্ত । এখন যে পন্থার মাধ্যমে অজ্ঞানের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করে তাদের শিক্ষা প্রদান করা যায় তা হচ্ছে ভগবদ্ভজন । তাই শুকদেব গোস্বামী ব্যাখ্যা করে বলেছেন , কেউ কৃষ্ণকীর্তন করতে পারে অথবা কৃষ্ণধ্যান করতে পারে , আর যে কৃষ্ণধ্যান করতে অক্ষম , সে শুধু উপবিষ্ট হয়ে কৃষ্ণবিগ্রহ দর্শন করতে পারে । এমন কি একটি শিশুও দর্শন করতে পারে , " এই হচ্ছেন কৃষ্ণ । এই হচ্ছেন শ্রীমতী রাধারাণী । " এমন কি একটি ছোট শিশু অথবা একটি পশুও এইভাবে উপকৃত হতে পারে , অথবা আরও বুদ্ধিমান ব্যক্তি ভগবানের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করতে পারে , আর সদ্গুরুর কাছে শিক্ষাপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ ভগবদ্ভক্ত যথাযথভাবে শ্রীবিগ্রহ উপাসনা করতে পারে ।

       খ্রিস্টান এবং মুসলমানরাও বৈষ্ণব বা ভগবানের ভক্ত , কেননা তারাও ভগবানের কাছে প্রার্থনা নিবেদন করে । তারা বলে , “ হে ভগবান , আমাদের প্রাত্যহিক আহার্য প্রদান করুন । " যারা এই রকম প্রার্থনা করে , তারা ভগবদ্ভজনের বিশেষ কিছুই জানে না এবং তারা ভজনের নিম্নস্তরে অবস্থিত হলেও , এভাবেই ভজনের সূচনা হয় , কারণ তারা ভগবানের শরণাপন্ন হয়েছে । গির্জা বা মসজিদে যাওয়াও পুণ্যকর্ম ( চতুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন ) । সুতরাং যারা এইভাবে শুরু করে তারাও একদিন শুদ্ধ বৈষ্ণব হবে । কিন্তু গির্জা , মসজিদ অথবা মন্দিরে যাওয়া নিষেধ – নিরীশ্বরবাদীদের এই রকম অপপ্রচার মানব - সমাজের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক ।

       পারমার্থিক পথে অতিশয় উন্নত না হলেও , ভগবৎ - উপলব্ধির জন্য অন্তত সামান্য কিছু প্রয়াস করা উচিত । একটি শিশুকে শিক্ষানিকেতনে প্রেরণ করা হয় , সে হয়ত অ - আ - ক - খ শিখতে পারে , কিন্তু আগ্রহী হলে সে একদিন একজন খুব বড় পণ্ডিত ব্যক্তি হতে পারে । সেই রকম , একজন পুণ্যাত্মা ব্যক্তি একদিন শুদ্ধ হরিভক্তে পরিণত হতে পারেন । সম্পূর্ণভাবে ধর্মত্যাগ করে নিরপেক্ষ হবে কেন ? কেবল কারখানা খুলে নাট বল্টু তৈরি করে কঠোর পরিশ্রম করা এবং মাংসাহার ও পান করা ? এটি কি রকম সভ্যতা ? এই রকম তথাকথিত সভ্যতার জন্যই জনসাধারণ দুঃখক্লেশ ভোগ করে চলেছে ।

       অবিদ্যায় আচ্ছন্ন হওয়ায় জনসাধারণ মনে করছে যে , কারখানা খুলে তারা সুখী হবে । কারখানা খুলছে কেন ? কারখানার কোন প্রয়োজন নেই । অপরিমেয় জমি রয়েছে । জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য উৎপন্ন করে কারখানার সাহায্য ছাড়া প্রচুর আহার্য গ্রহণ করতে পারে । কারখানা ছাড়াই প্রচুর দুধ পাওয়া যায় । কারখানায় শস্য বা দুধ উৎপন্ন করা যায় না । বর্তমান যুগের খাদ্যাভাবের প্রধান কারণই হচ্ছে এই কারখানাগুলি । যখন শহরে প্রত্যেকেই কারখানায় নাট ও বন্টু তৈরি করছে , তখন কারা খাদ্য শস্য উৎপন্ন করবে ? সরল জীবন ও উন্নত চিন্তাধারাই হচ্ছে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের উপায় । তাই কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন ভগবদ্ভক্তদের তাঁদের আহার্য উৎপাদনে স্বয়ং নির্ভরশীল জীবন যাপনে নিয়োজিত করছে । এর থেকে মূঢ় , দুর্জনরা উপলব্ধি করবে যে , নিজের উৎপাদিত খাদ্যশস্য ও পানীয় দুগ্ধ গ্রহণ করে এবং হরিনাম কীর্তন করে কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করা যায় ।

       কৃষ্ণভাবনার পন্থা বিশ্বব্যাপী বলিষ্ঠভাবে প্রচার করতে হবে । কেবল রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ ভক্তিভরে দর্শন করে , ' হরেকৃষ্ণ মন্ত্র ' কীর্তনে যোগদান করে , লোকেরা প্রচুর ভগবৎ - কৃপা প্রাপ্ত হবে । কৃষ্ণের কীর্তন করেই কৃষ্ণের স্মরণ হবে । কেউ ভাবতে পারে , “ আমি দুই ঘণ্টা নৃত্য করেছি এবং হরেকৃষ্ণ কীর্তন করেছি । এর অর্থ কি ? " এই হচ্ছে কৃষ্ণস্মরণ । এমন কি কেউ ভাবতে পারে , “ আমি মূর্খের মতো দুই ঘণ্টা ' কৃষ্ণ ' ' কৃষ্ণ ' বলে কীর্তন করেছি । " কিন্তু সেটিও কৃষ্ণস্মরণ । কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের প্রসারের ফলে , জনগণ আমাদের কৃষ্ণকথাময় গ্রন্থগুলি ক্রয় করছে । অনুসন্ধিৎসু হওয়ায় তারা বলে , “ কে এই কৃষ্ণ ? দেখি তো গ্রন্থটি ? তখন তারা অচিরেই রাধা - কৃষ্ণের একটি প্রতিকৃতি দেখে । তারা গ্রন্থটি উন্মুক্ত করলে আরও কৃষ্ণবিষয়ক অনেক কিছু দেখবে । গ্রন্থে কৃষ্ণের মহিমা কীর্তনময় অনেক প্রার্থনা ও বন্দনা রয়েছে । এইভাবে কেউ কৃষ্ণকথা শ্রবণ করবে , কেউ কৃষ্ণকথা পাঠ করবে , এবং ভাগ্যবান হলে তারা কৃষ্ণভক্তে পরিণত হবে এবং কৃষ্ণের বিগ্রহ উপাসনায় নিযুক্ত হবে । কৃষ্ণকথা শ্রবণ , কৃষ্ণকীর্তন ও কৃষ্ণস্মরণ প্রভৃতি ভগবদ্ভক্তির পন্থাগুলি এতই পূর্ণ যে , কেউ এই ভগবদ্ভজনের সবগুলি , কয়েকটি , এমন কি একটি পন্থাও অনুশীলন করলে তার জীবন পবিত্র হবে । তাই শুকদেব গোস্বামী ভগবৎ - বন্দনা করে বলেছেন , “ আমি লীলা পুরুষোত্তম ভগবানকে উপাসনা করি , কেন না শুধু তাঁকে স্মরণ করে , কেবল তাঁর মহিমা কীর্তন করে অথবা তাঁকে দর্শন করে ভগবান শ্রীহরির অসীম কৃপা লাভ করা যায় । ” শুকদেব গোস্বামী হচ্ছেন দ্বাদশ মহাজনের অন্যতম এবং আমরা অবশ্যই এই মহাজনদের অনুসরণ করব ( মহাজনো যেন গতঃ স পন্থাঃ ) । তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে , এই ভগবদ্ভজন পন্থা অনুশীলনের মাধ্যমে সমস্ত জড় কলুষ মুক্ত হওয়া যাবে । কখন ? সদ্যঃ - অচিরেই বা অনতিবিলম্বেই । কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনে যুক্ত হলে পরম মঙ্গল লাভ করা যায় ।

  • এখন দেখতে পারেন => " কুন্তীদেবীর শিক্ষা " গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ১৯ ) ভবসাগর অতিক্রম
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.