" কুন্তীদেবীর শিক্ষা " সুধি ভগবদ্ভক্তগণ কর্তৃক অতি সমাদৃত এই গ্রন্থ

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি Teachings of Queen Kunti গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ । অনুবাদক : শ্রীমদ্ সুভগ স্বামী মহারাজ

  • আদি পুরুষ

    শ্লোক: ১
    শ্রীকুন্ত্ত্যবাচ
    নমস্যে পুরুষং ত্বাদ্যমীশ্বরং প্রকৃতেঃ পরম্ ।
    অলক্ষ্যং সর্বভূতানামন্ত্রর্বহিরবস্থিতম্ ॥১ ॥
  • অনুবাদ : শ্রীমতী কুন্তীদেবী বললেন , “ হে কৃষ্ণ ! তোমাকে আমি দণ্ডবৎ প্রণাম জানাই । কারণ তুমি আদি পুরুষ ও জড়া প্রকৃতির গুণের অতীত । তুমি সকলের অন্তরে ও বাহিরে বিদ্যমান হয়েও , তাদের লক্ষ্যের অতীত । ” ( ভাঃ ১/৮/১৮ )
  • তাৎপর্যঃ- ভ্রাতুষ্পুত্রের ভূমিকা গ্রহণ করলেও কৃষ্ণ যে আদি পুরুষ ভগবান শ্রীমতী কুন্তীদেবী এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন । নিজ ভ্রাতুষ্পুত্রকে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করে কুন্তীদেবী র মতো একজন দিব্যজ্ঞানের আলোকপ্রাপ্তা নারী কোন ভুল করতে পারেন । না । তাই তিনি কৃষ্ণকে প্রপঞ্চাতীত আদি পুরুষ বলে সম্বোধন করেছিলেন । যদিও জীবকুল শুদ্ধ স্বরূপে প্রপঞ্চাতীত ও নিৰ্গুণ কিন্তু কেউই আদি নয় , অচ্যুতও নয় , জীবের জড়া প্রকৃতির কবলিত হওয়ার প্রবণতা রয়েছে , কিন্তু ভগবানের অবস্থা কখনও ঐ রকম নয় । এই জন্য বেদে ভগবানকে সকল চেতন জীবসত্তার মধ্যে পরম বলে বর্ণনা করা হয়েছে ( নিত্যো নিত্যানাং চেতনশ্চেতনানাম্ ) । তাঁকে নিয়ামক বা ঈশ্বর বলেও সম্বোধন করা হয়েছে । জীবকুল বা চন্দ্র , সূর্যাদি দেবতারাও এক রকমের ঈশ্বর , কিন্তু তারা পরম ঈশ্বর বা অন্তিম নিয়ন্তা নয় । একমাত্র কৃষ্ণই পরমেশ্বর বা পরমাত্মা । তিনি বাইরে ও অন্তরে , উভয় স্থানেই বিরাজমান । কৃষ্ণ ভ্রাতুষ্পুত্ররূপে কুন্তীদেবীর সম্মুখে উপস্থিত হলেও তিনি কুন্তীদেবী ও অন্য সকলেরই অন্তর্যামী । ভগবদ্গীতায় ( ১৫/১৫ ) ভগবান বলেছেন , “ আমি সকলের হৃদয়ে অবস্থিত , এবং আমি জীবকুলকে স্মৃতি বিস্মৃতি ও জ্ঞান প্রদান করি । আমিই সকল বেদে জ্ঞাতব্য , কারণ আমি বেদান্তকর্তা , এবং আমিই বেদবিৎ । ”

       কুন্তীদেবী দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করেছেন যে , ভগবান জীবকুলের অস্তর ও বাহির উভয় স্থানে অবস্থান করেও সকলের লক্ষ্যের অতীত । তাই ভগবান সাধারণ মানুষদের কাছে বিভ্রান্তিকর । কুন্তীদেবী স্বয়ং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন যে , কৃষ্ণ তাঁর সম্মুখে উপস্থিত , তবুও অশ্বত্থামার ব্রহ্মাস্ত্রের আক্রমণ থেকে ভ্রূণকে রক্ষার্থে তিনি উত্তরার গর্ভে প্রবেশ করেছেন । শ্রীকৃষ্ণ সর্বব্যাপী , না তিনি এক স্থানে বিদ্যমান , এই বিষয়ে কুন্তীদেবী স্বয়ং হতবুদ্ধি হন । বস্তুত কৃষ্ণ একই সময়ে যুগপৎ একস্থানে অবস্থানকারী ও সর্বব্যাপী — উভয়ই , কিন্তু যারা শরণাগত কৃষ্ণভক্ত নয় , তাদের কাছে তিনি আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন । এই আচ্ছাদনের বা আবরণাত্মিক পর্দাকে পরমেশ্বর ভগবানের মায়াশক্তি বলে । এই শক্তি ভগবৎ - বিদ্বেষী জীবাত্মার সীমিত দৃষ্টিশক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে । পরবর্তী অধ্যায়ে তা ব্যাখ্যা করা হচ্ছে ।

  • এখন দেখতে পারেন => " কুন্তীদেবীর শিক্ষা " গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২ ) ইন্দ্রিয়ের অগোচর–
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.