ভক্তসঙ্গে তীর্থ দর্শন, পূণ্যভূমী- তীর্থক্ষেত্র , গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রের মহিমা ও এসংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ।

গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্র গুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত, সেখানে কীভাবে যাবেন? তীর্থক্ষেত্র দর্শনে যেয়ে কোথায় থাকবেন, কি খাবেন ইত্যাদি বিষয়ে ভগবদ্ভক্তদের বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান ।

  • শ্রীগোবিন্দদেব

    জয়পুর

    বিশাখাপ্রিয়া দেবী দাসী

    গোবিন্দজীর মন্দির ভারতের বিখ্যাত কৃষ্ণমন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম । আমি যখন রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরে গিয়েছিলাম তখন এই বিখ্যাত গোবিন্দজীর মন্দির থেকে মাত্র দুটো বাড়ি দূরে থাকবার সৌভাগ্য হয়েছিল । আমি তখন অতি সহজেই আমার থাকবার স্থান থেকে হেঁটেই গোবিন্দজীর মন্দিরে ভোরের মঙ্গল আরতিতে উপস্থিত হতাম । ঐ ভোর চারটে পঞ্চাশ মিনিটে আমি যখন আমার অতিথি নিবাস থেকে বের হতাম তখন আশ্চর্য হয়ে দেখতাম অত ভোরেও শত শত রিক্সা , স্কুটার , সাইকেল এবং সেই সঙ্গে পথচারীরা দ্রুত গোবিন্দজীর মন্দিরের দিকে চলেছেন । পথ যেন এক পারমার্থিক শক্তিতে জেগে উঠেছে ।

        আমি হেঁটে গিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলাম । সেখানে একটি গাছের নীচে দেখলাম হাজার হাজার চটি ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ছেড়ে রাখা আছে । আমিও সেখানে এক ধারে আমার জুতোটি খুলে রাখলাম আর মনে মনে প্রার্থনা জানালাম ফেরবার সময় এই হাজারো জুতোর ভীড়ে যেন আমার জুতোটি খুঁজে পাই । নাট মন্দিরে প্রবেশ করে দেখলাম বিগ্রহ কক্ষটির জাফরীকাটা বড় গোলাপী রঙের কাঠের দরজাটি তখনও বন্ধ । কিন্তু ইতিমধ্যেই সেখানে প্রচুর ভক্ত জনসাধারণের ভীড় । তারা গান গেয়ে চলেছিল ' গোবিন্দ হরি , গোপাল হরি , জয় জয় প্রভু দীনদয়াল হরি । ”

        বিগ্রহ কক্ষের দরজা উন্মুক্ত হতেই দেখলাম এরপর একটি সাদা পর্দা রয়েছে । সেই পর্দাটি দু'দিক থেকে টেনে নিতেই দেখা গেল ভেতরে আরেকটি সাদা পর্দা । ইতিমধ্যেই ভক্ত দর্শনার্থীগণ শ্রীরাধা গোবিন্দজীর উদ্দেশ্যে বিগ্রহ কক্ষে ফুল ও পয়সা ছুঁড়তে শুরু করেছেন । এরপর দ্বিতীয় পর্দাটি সরে গিয়ে শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীর প্রেমময়ী রূপ উদ্ভাসিত হলেন । সমবেত সকলে ‘ জয় হো , গোবিন্দ ! রাধে গোবিন্দ ' বলে জয়ধ্বনি দিতে থাকলেন । বৃষ্টির মত ফুল ও পয়সা শ্রীবিগ্রহের পাদপদ্মে পতিত হচ্ছিল । দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে জনসাধারণ শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীকে দর্শন করছিলেন । বাম দিকে পুরুষ ও ডান দিকে নারী । এরপর পূজারি আরতি শুরু করলে পর সমবেত ভক্ত দর্শনার্থীগণ ভগবানের উদ্দেশ্যে নিবেদিত গান গাইতে লাগলেন ।

        এরপর হঠাৎই নাট মণ্ডপের পেছন দিকে টাঙানো বড় ঘণ্টাটি ভক্তগণ জোরে জোরে বাজাতে লাগল এবং একদল ভক্ত মৃদঙ্গ করতাল সহকারে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে সমবেত কণ্ঠে ভগবান শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীর জয়গান করতে লাগলেন । আরতির পর পূজারি যখন শাস্তি বারি সমবেত ভক্ত জনসাধারণের উপর ছেটাতে শুরু করলেন সামনের দিকে ভীড়ের চাপ বেড়ে গেল । কেউ যে কাউকে ঠেলছিল এমন নয় , গোবিন্দজীর প্রতি প্রেমের আবেগের শক্তিতেই সকলে যেন ঢেউয়ের মতো সামনের দিকে এগিয়ে গেল । গোবিন্দজীর বিগ্রহ কক্ষের সামনে যে উঁচু বেদী ও রেলিং রয়েছে সেখানে মাথা নত করে অনেকে প্রণাম করছিলেন এবং আবার তারা কীর্তনরত ভক্তদের দলে মিশে যাচ্ছিলেন । আরতির পর প্রায় আধঘন্টা ধরে গোবিন্দজীর ভক্তগণ কীর্তন সহযোগে শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীর বিগ্রহ কক্ষটি পরিক্রমা করলেন । তাঁরা কীর্তন করছিলেন , “ রাধে গোবিন্দ , জয় রাধে - গোবিন্দ , রাধে - গোবিন্দ , জয় রাধে - গোবিন্দ ... "

        এই সকালবেলায় মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে এক বর্ণময় নদীর মতো ভক্ত দর্শনার্থীদের এদিক ওদিক চলাফেরা আসা যাওয়া লক্ষ্য করে আমার কেবলই শ্রীল রূপ গোস্বামীর সেই সাবধান বাণীর কথা মনে হচ্ছিল । তিনি বলেছিলেন , “ হে বন্ধু , তুমি যদি তোমার জাগতিক সাথীদের প্রতি আকর্ষিত থাকতে চাও তাহলে নব প্রস্ফুটিত পল্লব সম ওষ্ঠে বংশী স্থাপন পূর্বক , কটাক্ষপাতরত , যমুনাতীরের কেশীঘাটে দণ্ডায়মান ভগবান গোবিন্দের হাস্যময় মুখারবিন্দের দিকে তাকিও না । তাঁর সেই ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমাময় অপ্রাকৃত দেহ চন্দ্রালোকে আরও উজ্জ্বলরূপে প্রকাশিত হয় । ”

        শ্রীল রূপ গোস্বামীর ঐ কথা স্মরণ করে মনে মনে ভাবছিলাম বাস্তবিকই শ্রীগোবিন্দজী আজ জয়পুরের কত লোকেরই না জড় - জাগতিক জীবনকে ধ্বংস করেছেন । তারা সকলেই আজ প্রতিনিয়ত গোবিন্দজীকে দর্শন করতে চায় , তাঁর কৃপা লাভ করতে চায় ।

        শ্রীল রূপ গোস্বামীর কথা আরও বিশেষভাবে আমার মনে পড়ল এইজন্য যে শ্রীশ্রীরাধাগোবিন্দজীর এই বিগ্রহ শ্রীল রূপ গোস্বামী বৃন্দাবনের মাটির নীচে খুঁজে পেয়েছিলেন এবং বৃন্দাবনেই তিনি গোবিন্দজীকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন ।

        শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সাক্ষাৎ পার্ষদ এবং বৃন্দাবনে ষড়গোস্বামীগণের অন্যতম শ্রীল রূপ গোস্বামী ও শ্রীল সনাতন গোস্বামী যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশে বৃন্দাবনে অবস্থান করে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের লীলাস্থলী সমূহের সন্ধান , লুপ্ত তীর্থ উদ্ধার ও কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রন্থ রচনার সেবায় ব্যাপৃত ছিলেন , সেইসময় তাঁরা এক প্রাচীন গ্রন্থ থেকে জানতে পারেন যে প্রায় পাঁচ হাজার বৎসর আগে পরমেশ্বর ভগবান কৃষ্ণের প্রপৌত্র , মথুরার রাজা ব্রজনাত বৃন্দাবনের যোগপীঠ নামক স্থানে গোবিন্দজীর এক অপূর্ব বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । এ কথা জানার পর শ্রীল রূপ গোস্বামী ও শ্রীল সনাতন গোস্বামী সেই হারানো গোবিন্দজীর বিগ্রহকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আকুল হয়ে উঠলেন । বৃন্দাবনের বিভিন্ন স্থানে তাঁরা এই বিগ্রহের সন্ধান করছিলেন । বিগ্রহের সন্ধানকার্য চালাবার সময় তাঁরা “ হে গোবিন্দ । হে গোবিন্দ । ” বলে ক্রন্দন করতেন ।

        এইভাবে সন্ধান করবার সময় একদিন এক ব্রাহ্মণ বালক শ্রীল রূপ গোস্বামীর কাছে এসে জানালো তিনি শ্রীগোবিন্দজীর বিগ্রহের জন্য যে যোগপীঠ নামক স্থানের সন্ধান করছেন , এখন বৃন্দাবনে সে জায়গাটির নাম গোমা টিলা । প্রতিদিন একটি গাভী সেই টিলার চূড়ায় এসে দুগ্ধ ক্ষরণ করে । এই কথা শুনে সেই গোমা টিলা নামক স্থানটি যে একটি বিশেষ স্থান তা বুঝতে পেরে শ্রীল রূপ গোস্বামী ব্রজবাসীগণকে সেই টিলাটি খনন করার জন্য নির্দেশ দিলেন । সেই টিলাটি খনন করতে করতে অবশেষে তারা যখন সেখানে শ্রীকৃষ্ণের এক উজ্জ্বল কালো বিগ্রহকে খুঁজে পেলেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকল বৃন্দাবনবাসীরা মহানন্দে জয়ধ্বনি দিয়ে উঠলেন , “ গোবিন্দজী কি জয় ! গোবিন্দজী কি জয় ! ”

        গোবিন্দজীর বিগ্রহ খুঁজে পাওয়ার সংবাদ শ্রবণ করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু পুরীধাম থেকে কাশীশ্বর পণ্ডিতকে শ্রীকৃষ্ণের একটি বিগ্রহ প্রদান করে বৃন্দাবনে প্রেরণ করলেন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রদত্ত “ গৌর গোবিন্দ ” নামক সেই বিগ্রহকে কাশীশ্বর পণ্ডিত গোবিন্দজীর বিগ্রহের কাছেই প্রতিষ্ঠিত করলেন । আজও সেই “ গৌর গোবিন্দ ” বিগ্রহটি জয়পুরের শ্রীগোবিন্দজীর মন্দির চত্বরে আলাদাভাবে পূজিত হচ্ছেন ।

        ১৫৯০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল জীব গোস্বামী শ্রীগোবিন্দজীর মন্দির গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং রাজা মানসিংহ সেই মন্দিরটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন । শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরটিই হচ্ছে বৃন্দাবনের দ্বিতীয় সুপ্রাচীন মন্দির । এই মন্দির নির্মাণের ক্ষেত্রে তৎকালীন মোগল সম্রাট আকবরের দানও অনস্বীকার্য । তিনি শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরের জন্য সত্তর একর জমি দান করেছিলেন । শুধু তাই নয় সেই সময় লাল বালি পাথর কেবলমাত্র সরকারী গৃহ নির্মাণের জন্যই সংরক্ষিত ছিল । কিন্তু রাজা মান সিংহের সঙ্গে সম্রাট আকবরের মিত্রতা থাকার ফলে সম্রাট আকবর শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরটি লাল বালি পাথরে নির্মাণ করার অনুমোদন দিয়েছিলেন । সুদৃশ্য অলঙ্করণ যুক্ত লাল পাথরে নির্মিত বিশাল এই মন্দিরটি ছিল বৃন্দাবনের অন্য সব মন্দির থেকে আলাদা । মন্দির গাত্রে খোদাই করে লেখা আছে এই মন্দির মানসিংহ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এবং বহুমূল্য লাল পাথর সম্রাট আকবর দান করেছিলেন ।

        কিন্তু পরবর্তীকালে ১৬৬৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন মোগল সম্রাট বৃন্দাবনের বহু মন্দির ধ্বংস সাধন করলে পর সেই সুদৃশ্য শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরও ধ্বংসের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়নি । তবে রাধা গোবিন্দজীর বিগ্রহকে গোপনে সুরক্ষিত করে প্রথমে রাধা - কুণ্ডে লুকিয়ে রাখা হয় এবং সেখান থেকে পরে কাম্যবনে নিয়ে যাওয়া হয় । অবশেষে জয়পুর শহরের নিকটবর্তী গোবিন্দপুরা নামক স্থানে এই বিগ্রহকে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভবপর হয় । ১৭২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজপুত রাজা মহারাণা জয়সিংহ দ্বিতীয় , তাঁর রাজ্যের এক নতুন রাজধানী শহরের গোড়া পত্তন করেন । রাজা জয়সিংহ তার রাজধানীর নাম রাখেন ‘ জয়পুর ' যার অর্থ হচ্ছে বিজয় নগরী এবং এই রাজধানী তিনি সম্পূর্ণরূপে ভগবান শ্রীগোবিন্দজীকে উৎসর্গ করেন । বৈদিক শিল্প শাস্ত্র অনুযায়ী রাজা এই জয়পুর নগরীর নক্সাও নির্মাণ করেছিলেন যা আজও আধুনিক নক্সাকার ও বাস্তুবিদগণের গবেষণা ও অনুকরণের বিষয় ।

        মহারাজ জয়সিংহের শ্রীগোবিন্দজীর প্রতি ভক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে তিনি তাঁর প্রাসাদের কাছেই সুদৃশ্য উদ্যান ও ফোয়ারা সমন্বিত শ্রীগোবিন্দজীর এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন । এমনভাবে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল যাতে মহারাজ প্রাসাদে তাঁর শয্যা গৃহ থেকেও মন্দিরের বেদীতে অধিষ্ঠিত শ্রীগোবিন্দজীকে দর্শন করতে পারেন ।

        ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে জয়পুরের রাজপ্রাসাদের পেছনের উদ্যানে নির্মিত এই শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরে শ্রীশ্রীরাধা - গোবিন্দজী অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন । সেই সঙ্গে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রেরিত কাশীশ্বর পণ্ডিতের গৌর গোবিন্দ বিগ্রহও এখানে প্রতিষ্ঠিত হল । এখানে প্রতিদিন পুজারীগণ গভীর নিষ্ঠার সঙ্গে বিগ্রহসমূহের সেবা করে থাকেন ।

        কিন্তু শ্রীগোবিন্দজীর বৃন্দাবনের সেই মন্দিরের কি হল ? মোগলরা সেই মন্দিরটি পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারে নি । সর্বোচ্চ চূড়া ও ওপরের দুটো তলা তারা ধ্বংস করেছিল । পরবর্তীকালে বৃন্দাবনের গোস্বামীগণ শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীর পরিবর্তে সেখানে শ্রীশ্রীগৌর নিতাই , গিরিধারী শিলা ও ভগবান শ্রীজগন্নাথ , শ্রীবলরাম ও শ্রীসুভদ্রাদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন । ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে এই ঐতিহাসিক , মোগল দ্বারা লুণ্ঠিত , সুন্দর মন্দিরটির সংস্কার সাধন করেন তৎকালীন মথুরার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এফ . এস . গ্রোস । বর্তমানে বৃন্দাবনের শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরটি ভারত সরকার দ্বারা ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ রূপে সংরক্ষিত ।

        ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নন্দ কুমার বসু মহাশয় বৃন্দাবনের আসল শ্রীগোবিন্দজীর মন্দিরের পেছন দিকে একটি নতুন মন্দির নির্মাণ করে সেখানে শ্রীশ্রীরাধা - গোবিন্দজীর একটি প্রতিভূ মূর্তি স্থাপন করেন । আজও সেই মন্দির হাজার হাজার ভক্ত - দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে ।

        জয়পুরে শুধু বৃন্দাবনের শ্রীশ্রীরাধা গোবিন্দজীই যে অবস্থান করছেন তা নয় । মোগল আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বৃন্দাবনের আরও অনেক ঐতিহ্যশালী বিগ্রহকে জয়পুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল । এদের সকলেই প্রায় জয়পুরের শ্রীগোবিন্দজীর মন্দির থেকে হাঁটা পথের দূরত্বে অধিষ্ঠিত রয়েছেন । যেমন বৃন্দাবনের মধু পণ্ডিত সেবিত শ্রীশ্রীরাধা - গোপীনাথ বিগ্রহের মন্দির রয়েছে জয়পুরের চাঁদপোল বাজারের কাছে তোপখান্দেশে । শ্রীজীব গোস্বামী সেবিত বিগ্রহ শ্রীশ্রীরাধা দামোদরের মন্দির রয়েছে জয়পুরেরই চৌরা রাস্তা রোডে ত্রিপলিয়া বাজার রোড থেকে প্রায় দুশো ফুট দক্ষিণে অবস্থিত এই মন্দির । এই ত্রিপলিয়া বাজার রোডেই রয়েছে বৃন্দাবনের শ্রীল লোকনাথ গোস্বামী দ্বারা সেবিত রাধা - গোকুলানন্দ মন্দিরের মূল বিগ্রহ শ্রীশ্রীরাধা - বিনোদ বিগ্রহ । এছাড়া শ্রীশ্রীজয়দেব গোস্বামী সেবিত শ্রীশ্রীরাধা মাধবের মন্দিরও রয়েছে শ্রীশ্রীগোবিন্দজীর মন্দির থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অম্বর রোডে ।

        কিভাবে জয়পুর যেতে হবে
    কলকাতা থেকে সরাসরি জয়পুর যাবার তিনটি ট্রেন রয়েছে । একটি ছাড়ে হাওড়া ষ্টেশন থেকে রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে ২৩০৭ নং যোধপুর এক্সপ্রেস । আর বাকী দুটি ট্রেন ছাড়ে শিয়ালদহ ষ্টেশন থেকে । ( ১ ) ২৩১৫ শিয়ালদহ আজমীড় অনন্যা এক্সপ্রেস ছাড়ে বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে । ( ২ ) ২৯৮৫ শিয়ালদহ জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছাড়ে রাত ১০ টা ২৫ মিনিটে । এছাড়া সরাসরি দিল্লী গিয়ে সেখান থেকে জয়পুর যাবার অনেক ট্রেন ও বাস রয়েছে ।

        কোথায় থাকবেন জয়পুরে বিভিন্ন দামের অনেক হোটেল ও ধর্মশালা রয়েছে । মোটামুটি রুচিসম্মত হোটেলগুলির অন্যতম হল — এভার গ্রিন গেষ্ট হাউস , জয়পুর ইন , ডিগ্রী প্যালেস , স্বাগতম ট্যুরিষ্ট বাংলো , অতিথি গেষ্ট হাউস , মধুবন , হোটেল মঙ্গল , হোটেল মেঘ নিবাস ইত্যাদি ।

       
    নিরামিষ আহারের স্থান
    জোহারী বাজারের এল এম বি , নটরাজ রেষ্টুরেষ্ট , এম আই রোডে সূর্য মহল ও চাণক্য , রাজমন্দির সিনেমার পেছনে অন্নপূর্ণা সোয়াই রাম সিংহ রোডে উডল্যাণ্ডস ।

       

    ইসকন কেন্দ্র

    জয়পুরে ইসকনের একটি কেন্দ্র রয়েছে । ঠিকানা — ই ২৪৩ রাম পথ , শ্যাম নগর , জয়পুর ৩০২০০১। ফোন ( ০১৪১ ) ২৩৬৪০২২ ।

  • পরবর্তী তীর্থস্থান ২১ ) বদরিকাশ্রম
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.