সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থ ।

আপনার মোবাইলে ভালোভাবে দেখার জন্য মোবাইলটি রোটেন করুন ( ঘুরান) ।

  • প্রকৃতির নিয়ম

    কর্মের অবশ্যম্ভাবী ফল

    কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক রচিত ইংরেজী The Laws of Nature : An Infallible Justice গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ
  • ভূমিকা ,    ১ম অধ্যায়, ভগবান এবং কর্মনীতি => কর্মবন্ধন ছিন্ন করার পন্থা ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সব কিছুর নিয়ন্তা এবং প্রভু ,    ভগবান এবং তাঁর শক্তিরাশি ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্যাদা ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ —আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী তত্ত্ব ,   ভগবান এবং তাঁর শক্তি — এক এবং ভিন্নও ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শুদ্ধ ,   শরীরের পরিসীমার ওপরে ,    পারমার্থিক এবং জড়জাগতিক শিক্ষা ,   জ্ঞান বনাম অজ্ঞানতা ,    শ্রীভগবানকে জানার পন্থা ,   ব্রহ্মজ্যোতির ঊর্ধ্বে । ,   দ্বিতীয় অধ্যায় , খারাপ কর্ম ,   তৃতীয় অধ্যায় , শান্তির সূত্র ,  
  • ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শুদ্ধ


          ঈশোপনিষদে বলা হয়েছে , “ ভগবান সর্ব বিষয়ে মহান , তিনি কোনও শরীরের মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না , তিনি সর্বজ্ঞ , সর্বদোষ মুক্ত , জড়া প্রকৃতির নিয়মের উর্ধ্বে , তাঁর শরীর শিরা - উপশিরা , রক্তমাংসের গঠিত নয় , তিনি শুদ্ধ ও স্বয়ং সম্পূর্ণ সত্তা ৷ ” কোনও রকম পাপ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না । কখনও কখনও স্বল্প বুদ্ধি সম্পন্ন লোকেরা শ্রীকৃষ্ণের সমালোচনা করে বলে থাকে , “ কেন শ্রীকৃষ্ণ মধ্যরাতে পর স্ত্রীদের সাথে রাসনৃত্য করেন ? " শ্রীকৃষ্ণ ভগবান । তিনি নিজের খুশি মতন যা কিছু করতে পারেন । আপনাদের বিধি নিষেধ তাঁর ওপর প্রযোজ্য নয় । এর দ্বারা শ্রীকৃষ্ণকে আটকানো সম্ভব নয় । সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন বিধিনিষেধ শৃঙ্খল থাকবে , কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সেই সব শৃঙ্খলের ঊর্ধ্বে । তিনি সকল প্রকার নিয়মকে অতিক্রম করতে পারেন ।

          পরীক্ষিৎ মহারাজও একই প্রশ্ন শ্রীশুকদেব গোস্বামীকে করেছিলেন : “ শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন ধর্ম ও নীতি প্রতিষ্ঠা করতে । তাহলে তিনি কেন এত পরস্ত্রীদের সঙ্গ উপভোগ করেন ? এটি খুবই পাপকার্য বলে আমার মনে হয় । " শ্রীল শুকদেব গোস্বামী উত্তরে বলেছিলেন যে , কোনও পাপই ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে কলুষিত করতে পারে না , বরং যারা শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে আসেন , তাদের কলুষিত মন শুদ্ধ হয়ে যায় । এই প্রসঙ্গে সূর্যের উদাহরণ দেওয়া যায় । সূর্য কখনও কলুষিত হতে পারে না । বরং কোনও কলুষিত পদার্থকে সূর্যকিরণে রেখে দিলে তা শোষিত হয়ে যায় । সেরকমই আপনারা কোনও রকম জড় - জাগতিক বাসনা নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে আত্মনিবেদন করতে পারেন । তার ফলে আপনিই শুদ্ধ হবেন । তবে অবশ্য , শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গোপীদের মনোভাব জড় - জাগতিক কামনা বাসনায় লিপ্ত ছিল না । তা সত্ত্বেও অল্প বয়সী বালিকাদের মতন তারা শ্রীকৃষ্ণের রূপে মোহিত হয়েছিল । নিজেদের প্রেমের স্বার্থেই তারা অন্তরের ভালবাসা নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের কাছে অবৈধ প্রেমসঙ্গিনীদের মতো এগিয়ে গিয়েছিল । কিন্তু তার ফলে তারা শুদ্ধতা অর্জন করেছিল । এমনকি দৈত্য - দানবরাও শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে শুদ্ধতা অর্জন করতে পারে । যেমন , কংস মনে করেছিল শ্রীকৃষ্ণ তার শত্রু । কিন্তু সে সর্বদা কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠেছিল । কারণ প্রতিনিয়তই সে ভাবত কৃষ্ণকে কেমন করে পাব ? আমি তাকে বধ করব । ” এটা ছিল তার আসুরিক মনোভাব । কিন্তু তা সত্ত্বেও শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্যে সে শুদ্ধ হয়ে মুক্তি লাভ করেছিল ।

          সুতরাং এর থেকে সিদ্ধান্তে আসা যায় যে যদি আমরা কোনওভাবে কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে উঠতে পারি তাহলে তক্ষুনি আমাদের পাপপূর্ণ বাসনা শুদ্ধ হবে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই সুযোগ প্রত্যেককেই দিয়েছেন ।

    এর পরবর্তী পৃষ্ঠা

  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।