সনাতন ধর্মের সুনির্বাচিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থ ।

আপনার মোবাইলে ভালোভাবে দেখার জন্য মোবাইলটি রোটেন করুন ( ঘুরান) ।

  • প্রকৃতির নিয়ম

    কর্মের অবশ্যম্ভাবী ফল

    কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক রচিত ইংরেজী The Laws of Nature : An Infallible Justice গ্রন্থের বঙ্গানুবাদ
  • ভূমিকা ,    ১ম অধ্যায়, ভগবান এবং কর্মনীতি => কর্মবন্ধন ছিন্ন করার পন্থা ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণই সব কিছুর নিয়ন্তা এবং প্রভু ,    ভগবান এবং তাঁর শক্তিরাশি ,   ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মর্যাদা ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ —আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর বিরোধী তত্ত্ব ,   ভগবান এবং তাঁর শক্তি — এক এবং ভিন্নও ,    ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পরম শুদ্ধ ,   শরীরের পরিসীমার ওপরে ,    পারমার্থিক এবং জড়জাগতিক শিক্ষা ,   জ্ঞান বনাম অজ্ঞানতা ,    শ্রীভগবানকে জানার পন্থা ,   ব্রহ্মজ্যোতির ঊর্ধ্বে । ,   দ্বিতীয় অধ্যায় , খারাপ কর্ম ,   তৃতীয় অধ্যায় , শান্তির সূত্র ,  
  • দ্বিতীয় অধ্যায়

    খারাপ কর্ম


          শ্লোক ৯ : আসক্ত গৃহব্রত ব্যক্তি কূটনীতি এবং রাজনীতিতে পূর্ণ পারিবারিক জীবনে অবস্থান করে । সর্বদা দুঃখ বিস্তার করে এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তির কার্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে সে তার দুঃখ - দুর্দশার নিবৃত্তি সাধনের জন্যই কেবল কর্ম করে । যদি সে সেই দুঃখ - দুর্দশার নিবৃত্তি সাধনে সমর্থ হয় , তখন সে নিজেকে সুখী বলে মনে করে ।

          তাৎপর্য : ভগবদ্‌গীতায় ভগবান স্বয়ং ঘোষণা করেছেন যে , এই জড় জগৎ অশাগত এবং দুঃখময় । এই জড় জগতে ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক সামাজিক অথবা রাষ্ট্রীয় সুখের কোন প্রশ্নই ওঠে না । সুখের নামে যা কিছু হচ্ছে , তা সবই মায়া । এই জড় জগতে , সুখ মানে হচ্ছে দুঃখের নিবৃত্তি সাধনে সফল হওয়া । এই জড় জগৎ এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে , কেউ যদি চতুর কূটনীতিজ্ঞ হতে না পারে , তা হলে তার জীবন ব্যর্থ হয় । কেবল মানব - সমাজেই নয় , পশু , পক্ষী , মৌমাছি ইত্যাদি নিম্নতর স্তরের জীব - সমাজেও আহার , নিদ্রা , ভয় এবং মৈথুনের দৈহিক প্রয়োজনগুলি চতুরতার সঙ্গে পূরণ করা হয় । মানব - সমাজে রাষ্ট্রীয় স্তরে অথবা ব্যক্তিগত স্তরে পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয় , এবং । সেই প্রচেষ্টায় সাফল্য লাভের জন্য সমগ্র মানব - সমাজ কূটনীতিতে পূর্ণ হয়ে ওঠে । আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে যে , সমস্ত কূটনীতি এবং জীবন সংগ্রামে সমস্ত বুদ্ধিমত্তা সত্ত্বেও , পরমেশ্বর ভগবানের ইচ্ছার প্রভাবে নিমেষের মধ্যে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে । তাই , এই সংসারে সুখী হওয়ার জন্য আমাদের সমস্ত প্রয়াস মায়া - রচিত মোহ মাত্র ।

          ১০ : স ইতস্তত হিংসা আচরণ করে ধন - সম্পদ অর্জন করে , এবং যদিও তার পরিবারের ভরণ - পোষণের জন্য সে তা করে , কিন্তু সে নিজে কেবল সেই অর্থের দ্বারা কেনা খাদ্যের স্বল্প মাত্র অংশই আহার করে , এবং এইভাবে যাদের জন্য সে অন্যায়ভাবে ধন সংগ্রহ করেছিল , তাদেরই জন্য সে নরকগামী হয় ।

          তাৎপর্য : বাংলায় একটি প্রবাদ আছে ' যার জন্য করি চুরি , সেই বলে চোর । ' পরিবারের যে সমস্ত সদস্যদের জন্য বিষয়াসক্ত মানুষ নানাবিধ পাপকর্মে রত হয় , তারা কখনই সন্তুষ্ট হয় না । মোহের বশে বিষয়াসক্ত মানুষ পরিবারের এই সমস্ত সদস্যদের সেবা করে , এবং তাদের সেবা করার ফলে , তাকে জীবনের নারকীয় অবস্থায় প্রবেশ করতে হয় । যেমন , একটি চোর তার পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য চুরি করে , এবং সে যখন ধরা পড়ে , তখন তাকে কারাগারে দণ্ডভোগ করতে হয় । জড় অস্তিত্বের এবং জড় - জাগতিক সমাজ , বন্ধু এবং প্রেমের এটিই হচ্ছে সারমর্ম । পরিবারের প্রতি আসক্ত ব্যক্তি তার পরিবারের ভরণ - পোষণের জন্য সর্বদা ছলে বলে কৌশলে ধন সংগ্রহের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে , সে নিজে কিন্তু এই প্রকার পাপ কর্ম ব্যতীত যতটুকু ভোগ করতে পারত , তার থেকে বেশি কিছু ভোগ করতে পারে না । একটি মানুষ যে দিনে এক পোয়া খাবার খায় , কিন্তু তাকে হয়তো একটি বিরাট পরিবারের ভরণ - পোষণ করতে হয় , এবং পরিবারের ভরণ - পোষণের জন্য যে কোন উপায়েই হোক না কেন অর্থ সংগ্রহ করতে হয় , কিন্তু সে নিজে তার আহারের ক্ষমতার অতিরিক্ত আর কিছু পায় । না , এবং অনেক সময় তাকে তার পরিবারের অন্য সমস্ত সদস্যদের ভুক্তাবশিষ্টই আহার করতে হয় । অন্যায়ভাবে ধন সংগ্রহ করা সত্ত্বেও , সে নিজে তার জীবন উপভোগ করতে পারে না । এইটিকে বলা হয় মায়ার আবরণাত্মিকা শক্তি । সমাজ , দেশ এবং জাতির প্রতি ভ্রমাত্মক সেবার পন্থাটি সর্বত্রই এক প্রকার , এবং তা বড় বড় রাষ্ট্র - নেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য । অনেক সময় রাষ্ট্রনেতা , যে তার দেশ সেবার ফলে অত্যন্ত মহৎ হয়েছে , সেবার ভুলের জন্য তাকে তার দেশবাসীর হাতে নিহত হতে হয় । অর্থাৎ , তার ভ্রমাত্মক সেবার দ্বারা কেউই তার আশ্রিতদের সন্তুষ্ট করতে পারে না , যদিও সেই সেবা থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারে না , কেননা সেবা করাই হচ্ছে স্বরূপগত বৃত্তি ৷ জীব তার স্বরূপে পরম পুরুষের বিভিন্ন অংশ , কিন্তু সেই পরম পুরুষের সেবা করার কথা ভুলে গিয়ে সে অন্যদের সেবায় ব্রতী হয় ; তাকে বলা হয় । মায়া । অন্যদের সেবা করে সে মনে করে যে , সে হচ্ছে প্রভু । পরিবারের কর্তা মনে করে যে , সে পরিবারের প্রভু , অথবা রাষ্ট্রনেতা মনে করে যে , সে রাষ্ট্রের প্রভু , কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা দাসত্ব করছে , এবং এইভাবে মায়ার দাসত্ব করার ফলে , তারা ধীরে ধীরে নরকগামী হচ্ছে । অতএব , প্রকৃতিস্থ মানুষের কর্তব্য হচ্ছে , কৃষ্ণভাবনায় ভাবিত হয়ে তাঁর জীবন , তাঁর সমস্ত সম্পদ , তাঁর সমস্ত বুদ্ধি এবং তাঁর কথা বলার সমস্ত শক্তি দিয়ে পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় যুক্ত হওয়া ।

          শ্লোক ১১-১৩ : যখন তার জীবিকায় সে ব্যর্থ হয় , তখন সে বার বার তার অবস্থার উন্নতি সাধনের চেষ্টা করে , কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টায় সে যখন ব্যর্থ হয় । এবং বিনষ্ট হয় , তখন সে অত্যধিক লোভের কারণে অন্যের ধন গ্রহণ করে । এইভাবে সেই দুর্ভাগা তার পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণে অক্ষম হয়ে হতত্রী হয় । তখন সে তার ব্যর্থতার কথা চিন্তা করে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগপূর্বক শোক করে । তাদের পালন - পোষণে তাকে অসমর্থ দেখে , তার পত্নী এবং অন্যান্য আত্মীয়েরা তাকে আর আগের মতো সম্মান করে না , ঠিক যেমন নির্দয় কৃষকেরা বৃদ্ধ বলদকে অযত্ন করে ।

          তাৎপর্য : কেবল এই যুগেই নয় , অনাদি কাল ধরে উপার্জনে অক্ষম বৃদ্ধ ব্যক্তিকে কেউই পছন্দ করে না । এমন কি বর্তমান যুগেও , কোন কোন জাতি বা দেশে বৃদ্ধদের বিষ দেওয়া হয় , যাতে তারা তাড়াতাড়ি মরে যায় । কোন কোন নরখাদক সমাজে , বৃদ্ধ পিতামহকে মেরে ফেলে , উৎসব করে তার মাংস খাওয়া হয় । এখানে দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে যে , কার্য করতে অক্ষম বৃদ্ধ বলদকে কৃষক চায় না । তেমনই পরিবারে আসক্ত ব্যক্তি যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় এবং উপার্জন করতে অক্ষম হয় , তখন তার পত্নী , পুত্র , কন্যা এবং অন্যান্য আত্মীয় - স্বজনেরা তাকে আর পছন্দ করে না , এবং তখন তাকে সম্মান প্রদর্শন করা তো দূরের কথা , তারা তাকে রীতিমতো অবহেলা করে । তাই , বৃদ্ধ অবস্থা প্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই পরিবারের আসক্তি পরিত্যাগ করে , পরমেশ্বর ভগবানের শরণ গ্রহণ করাই সমীচীন । মানুষের কর্তব্য পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা , যাতে ভগবান তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন , এবং তিনি যেন আর তথাকথিত আত্মীয় - স্বজনদের দ্বারা উপেক্ষিত না হন ।

          গ্লোক ১৪ : কিন্তু তা সত্ত্বেও সেই মূর্খ সংসার জীবনের প্রতি বিরক্ত হয় না । যাদের সে এক সময় পালন করেছিল , তাদেরই দ্বারা অবজ্ঞাভরে সে পালিত হয় । জরার প্রভাবে বিরূপাকৃতি হয়ে , সে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করে । পারিবারিক আসক্তি এতই প্রবল যে , বৃদ্ধ অবস্থায় নিজের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা উপেক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও , সে পরিবারের প্রতি তার প্রেম ত্যাগ করতে পারে না , এবং সেই গৃহে ঠিক একটি কুকুরের মতো সে অবস্থান করে । বৈদিক জীবন ধারায় মানুষকে সবল থাকা কালেই পারিবারিক জীবন ত্যাগ করতে হয় । সেখানে উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে , অত্যন্ত দুর্বল এবং জড় কার্যকলাপের দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার পূর্বে , এবং রোগগ্রস্ত হওয়ার পূর্বে , মানুষের উচিত গৃহস্থাশ্রম ত্যাগ করে জীবনের বাকি দিনগুলি ভগবানের সেবায় সম্পূর্ণরূপে যুক্ত করা । তাই , বৈদিক শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে , পঞ্চাশ বছর বয়স অতিক্রম করা মাত্রই , গৃহস্থের কর্তব্য সংসার জীবন পরিত্যাগ করে একাকী বনে বাস করা । এইভাবে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করার পর , প্রতিটি ঘরে ঘরে পারমার্থিক জ্ঞান প্রদান করার জন্য , তার উচিত সন্ন্যাস গ্রহণ করা ।

          শ্লোক ১৫ : এইভাবে সে গৃহে ঠিক একটি পোষা কুকুরের মতো থাকে এবং অবহেলাভরে তাকে যা দেওয়া হয় , তাই সে খায় । অগ্নিমান্দ্য , অরুচি আদি নানা রকম রোগগ্রস্ত হয়ে , সে কেবল অল্প একটু আহার করে , এবং অক্ষম হওয়ার ফলে , কোন রকম কাজ করতে পারে না । তাৎপর্য : মৃত্যুর পূর্বে মানুষকে অবশ্যই রোগগ্রস্ত এবং অক্ষম হয়ে পড়তে হয় , এবং সে যখন তার পরিবারের সদস্যদের দ্বারা উপেক্ষিত হয় , তখন নানা প্রকার দুঃখ - দুর্দশাপূর্ণ অবস্থার ফলে , তার জীবন একটি কুকুরের থেকেও নিকৃষ্ট হয়ে যায় । তাই বৈদিক শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে , এই প্রকার দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় পৌঁছাবার পূর্বেই , মানুষের কর্তব্য গৃহত্যাগ করা , এবং আত্মীয় স্বজনদের থেকে দূরে মৃত্যুবরণ করা । মানুষ যদি গৃহত্যাগ করে , আত্মীয় স্বজনদের জানবার কোন রকম সুযোগ না দিয়ে মৃত্যুবরণ করে , তা হলে তাকে মহিমান্বিত মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয় । কিন্তু সংসারে আসক্ত মানুষ চায় যে , তার মৃত্যুর পরেও তার পরিবারের লোকেরা এক বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে তাকে বহন করে নিয়ে যাবে । যদিও সে নিজে সেই শোভাযাত্রাটি দেখতে পাবে না , তবুও সে আকাঙ্ক্ষা করে যে , জাঁকজমক সহকারে শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার দেহটি যেন নিয়ে যাওয়া হয় । সে যদিও জানে না যে , তার দেহ ত্যাগের পর পরবর্তী জীবনে সে কোথায় যাবে , তবুও সে নিজেকে সুখী বলে মনে করে ।

          শ্লোক ১৬-১৭ : সেই রুগ্ন অবস্থায় , ভিতরের বায়ুর চাপে , তার চক্ষু ঠিকরে বেরিয়ে আসে , এবং কফের দ্বারা তার শ্বাসনালী রুদ্ধ হয়ে যায় । তার নিঃশ্বাস নিতে তখন খুব কষ্ট হয় এবং তার গলা দিয়ে ‘ ঘুর ঘুর ' শব্দ বের হয় । এইভাবে সে মৃত্যুশয্যায় শয়ন করে । তার আত্মীয় এবং বন্ধুরা তাকে ঘিরে তখন শোক করতে থাকে , এবং যদিও সে তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় , তবুও কালপাশের বশবর্তী হয়ে সে আর তাদের কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না ।

          তাৎপর্য : মানুষ যখন মৃত্যু শয্যায় শয়ন করে , তখন লৌকিকতা প্রদর্শন করার জন্য তার আত্মীয় - স্বজনেরা আসে , এবং কখনও কখনও তারা মৃত ব্যক্তিকে “ হে পিতা ! ” “ হে বন্ধু ! " অথবা " হে পতিদেবতা ! " ইত্যাদি বলে মৃত ব্যক্তিকে সম্বোধন করে উচ্চস্বরে ক্রন্দন করে । সেই করুণ অবস্থায় মৃত্যুর পথযাত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় এবং তার ইচ্ছা ব্যক্ত করতে চায় , কিন্তু যেহেতু সে তখন সম্পূর্ণরূপে কালের বা মৃত্যুর নিয়ন্ত্রণাধীন , তাই সে আর কিছু বলতে পারে না , এবং তার ফলে সে অবর্ণনীয় বেদনা অনুভব করে । তার ব্যাধির জন্য সে ইতিমধ্যেই এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থায় রয়েছে , এবং তার গ্রন্থিগুলি ও কণ্ঠ কফের দ্বারা রুদ্ধ হয়ে গেছে । সে এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক অবস্থায় রয়েছে , এবং তার আত্মীয় - স্বজনেরা যখন এইভাবে তাকে সম্বোধন করে ক্রন্দন করে , তখন তার শোক বর্ধিত হয় ।

          শ্লোক ১৮ : এইভাবে , অসংযত ইন্দ্রিয়ের দ্বারা কুটুম্বভরণে ব্যাপৃত ব্যক্তি তার আত্মীয় - স্বজনদের এইভাবে ক্রন্দন করতে দেখে গভীর দুঃখে তার প্রাণ ত্যাগ করে । সে অসহ্য বেদনায় অচেতন হয়ে অত্যন্ত করুণ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে ।

          তাৎপর্য : ভগবদ্‌গীতায় বলা হয়েছে যে , মৃত্যুর সময় মানুষ সেই চিন্তায় । মগ্ন হয় , যা সে সারা জীবন অনুশীলন করেছে । যে ব্যক্তি সারা জীবন তার পরিবারের ভরণ - পোষণের অতিরিক্ত অন্য কোন বিষয় চিন্তা করেনি , তার অস্তিন সময়ে পারিবারিক বিষয়ের কথাই চিন্তা হবে । সাধারণ মানুষদের জন্য এইটি স্বাভাবিক । সাধারণ মানুষ তার নিয়তি সম্বন্ধে অবগত নয় ; সে কেবল তার ক্ষণস্থায়ী জীবনে তার পরিবার প্রতিপালনেই ব্যস্ত থাকে । অস্তিম অবস্থায় , তার পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের জন্য সে যা করেছে , তাতে কেউই সন্তুষ্ট হতে পারে না ; সকলেই মনে করে যে , সে যথেষ্ট আয়োজন করে । যেতে পারেনি । পরিবারের প্রতি এই গভীর আসক্তির ফলে , তার জীবনের প্রধান কর্তব্য ইন্দ্রিয় সংযম এবং পারমার্থিক চেতনার উন্নতি সাধনের কথা সে সম্পূর্ণরূপে ভুলে যায় । অনেক সময় মৃত্যুর পথযাত্রী ব্যক্তি তার পুত্র অথবা অন্য কোন আত্মীয়দের উপর পরিবারের দায়িত্ব অর্পণ করে বলে , “ আমি চলে যাচ্ছি । তুমি পরিবারের দেখাশোনা করো । ” সে জানে না সে কোথায় যাচ্ছে , কিন্তু তা সত্ত্বেও মৃত্যুর সময় কিভাবে তার পরিবারের প্রতিপালন হবে , সেই চিন্তায় সে ব্যাকুল হয় । কখনও কখনও দেখা যায় যে , মৃত্যুর পথযাত্রী ব্যক্তি চিকিৎসকের কাছে অনুরোধ করে , তিনি যেন তার আয়ু আরও কয়েক বছর অন্তত বাড়িয়ে দেন , যাতে তার পরিবার প্রতিপালনের জন্য সে যে - সমস্ত পরিকল্পনাগুলি করেছিল , সেইগুলি সম্পূর্ণ করে যেতে পারে । এইগুলি হচ্ছে বদ্ধ জীবের ভবরোগ । সে তার আসল কৃষ্ণভক্তির কথা ভুলে যায় এবং সর্বদা ঐকান্তিকভাবে পরিকল্পনা করে , কিভাবে তার পরিবার প্রতিপালন হবে , যদিও সে একের পর এক পরিবার পরিবর্তন করছে ।

    এর পরবর্তী পৃষ্ঠা

  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।