স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -

আমাদের দেশে নতুন কোন পণ্য বাজারজাত করতে হলে তার জন্য প্রথমে পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং সার্টিফিকেটের জন্য জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি বরাবর আবেদন করতে হয়। সভাপতি মহোদয় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বৃন্দকে অবহিত করেন এবং সমঝোতার ভিত্তিতে দুইটি গণমাধ্যমে (একটি পত্রিকা এবং একটি টিভি) অনধিক সাত কার্যদিবসের মধ্যে উক্ত পণ্যের নমুনা সংগ্রহ, এসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তা প্রচার করার নির্দেশ দিয়ে থাকেন। উক্ত সাংবাদিক বৃন্দ যথাসময়ে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা যথাসময়ে উক্ত পণ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন এবং নমুনা পণ্য সংগ্রহ করে তা সভাপতির তত্ত্বাবধানে রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করে কিছু অংশ পরবর্তী এক মাসের জন্য সংরক্ষণ করেন এবং বাকিটুকু পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানে গ্রেডিং এর জন্য পাঠিয়ে দেন।


এরপর উক্ত পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে Sample Code No. দিয়ে রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করা হয় এবং সমান চারটি ভাগ করে উক্ত Sample Code No. সহ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আলাদা আলাদা প্যাকেটে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর সেখান থেকে একটি প্যাকেট উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয় এবং অন্য আর একটি প্যাকেট পাঠানো হয় বিশেষায়িত বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে।


অবশেষে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে ফলাফল সংগ্রহ করে পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কমিটি তা পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর উক্ত পণ্যের উপকরণ মিশ্রণ তালিকায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনপূর্বক চূড়ান্ত অনুমোদন করেন এবং সে অনুযায়ী গ্রেডিং সার্টিফিকেট দিয়ে থাকেন, সাথে সাথে উক্ত পণ্যের ক্ষতিকারক উপাদানের সহনীয় মাত্রা এবং উপকারী উপাদানের সর্বনিম্ন সীমা প্রস্তুত করে ওয়েবসাইটে আপলোড করে থাকেন যেটা পরবর্তীতে উক্ত পণ্য বা অনুরূপ পণ্যের ক্ষেত্রে সকল প্রতিষ্ঠানকে অনুসরণ করতে হয়।

হৃদয়-- আচ্ছা বন্ধু এই প্রক্রিয়াটাতো নতুন কোন পণ্য বাজারজাতকরণের শুরুতে হয়ে থাকে কিন্তু যেসমস্ত পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে বিদ্যমান, সেক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়?


স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বলছি, এক্ষেত্রে পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কমিটি পূর্বেই উক্ত বিভিন্ন ধরণের পণ্য বাজার থেকে সংগ্রহ করে সেগুলো পণ্যের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে থাকেন। এরপর সেগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মানব শরীর এবং পরিবেশের উপর ক্ষতিকারক উপাদানের সহনীয় মাত্রা এবং উপকারী উপাদানের সর্বনিম্ন সীমা প্রস্তুত করে তা তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা আছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া আছে যাতে একটা নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা তাদের পণ্যগুলো প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধন সাপেক্ষে পণ্যমান নিশ্চিতকরণ ও সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করিয়ে গ্রেডিং সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে থাকেন।

এছাড়া পরবর্তী পর্যায়ে উক্ত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য বৎসরে দুইবার তা নবায়ন করিয়ে নিতে হয়। সেক্ষেত্রেও ওই পূর্বের মতোই নিয়ম অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি বরাবর পুনঃপরীক্ষার জন্য আবেদন করতে হয়। এরপর একে একে পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী সবকিছুই অনুসরণ করা হয়। তবে এক্ষেত্রে অনুমোদিত উপকরণ মিশ্রণ তালিকার সাথে যেন কোন ব্যতয় সৃষ্টি না হয় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হয়। অর্থাৎ ক্ষতিকারক উপাদানের সহনীয় মাত্রা যাতে কোনভাবেই অনুমোদিত সীমা অতিক্রম না করে সেটিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়। অবশ্য উপকারী উপাদান সংযুক্ত করা যাবে তবে তা অনুমোদন সাপেক্ষে সার্টিফিকেট নিতে হয়।

হৃদয়-- আচ্ছা বন্ধু সার্টিফিকেট নেওয়ার সময়সীমার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ নিয়ম বা বাধ্যবাধকতা আছে কি-না?

স্বপ্নিল-- হ্যাঁ অবশ্যই আছে, এক্ষেত্রে সর্বশেষ সার্টিফিকেট নেওয়ার তারিখ হতে ছয়মাস পূর্ণ হওয়ার ১৫ দিন পূর্ব থেকে ১৫ দিন পর এই এক মাসের মধ্যে উক্ত সার্টিফিকেট নবায়ন করিয়ে নিতে হয়। কোন কারণে ব্যর্থ হলে-

পৃষ্ঠা নং- ৭ , পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।