স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -


সত্যিই যদি তোমাদের দেশের মত জবাবদিহিতার ব্যবস্থাটা আমাদের দেশেও থাকত তাহলে আমরাও নিশ্চয়ই অনেক দ্রুত সবদিক থেকে এগিয়ে যেতে পারতাম। এবং আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নও অতি দ্রুততার সাথে সম্ভব হতো। আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশের এত দ্রুত উন্নয়নের পিছনে আরও বিশেষ কোন কৌশল আছে না-কি, যদি একটু বলো।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বলছি- আমাদের দেশের উন্নয়নের পিছনে বিভিন্ন ধরণের কৌশল আছে; তোমার নিকট সত্যিই খুবই আশ্চর্যের মনে হবে। যদি শুনতে চাও আমি একে একে কয়েকটা বিষয়ে তোমার সাথে আলোচনা করতে বা শেয়ার করতে পারি; শুনবে?

হৃদয়- অবশ্যই শুনব। আমি শোনার জন্যইতো তোমায় অনুরোধ করছি। দয়াকরে বলো।

স্বপ্নিল- তাহলে মন দিয়ে শোন-


যেমন প্রথমতঃ আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা- তোমাদের দেশের মত এমনটা নয়। তবে একটা সময় এমনটাই ছিল। তখন শিক্ষাজীবনের সর্বোচ্চ ধাপ শেষ করতে যেয়ে এবং কর্মসংস্থান বা চাকুরী অর্থাৎ নিজের পায়ে দাঁড়ানো বলতে যা বুঝায়, অতঃপর সংসার জীবন শুরু করতে যেয়ে- একজন ছাত্রের জীবন থেকে অনেকটা সোনালী সময় অতীত হয়ে যেত। পরবর্তীতে সংসার সাজানো, সন্তান-সন্ততি লালন পালন ও তাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়ানো অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত রেখে যাওয়ার জন্য তেমন যথেস্ট সহযোগিতা করার সামর্থ তাঁর থাকত না। কখনও বা সন্তান-সন্ততির শিক্ষাজীবন শেষ না হতেই পিতা-মাতার বিয়োগ ঘটার কারণে উক্ত সন্তানেরা এক সীমাহীন দুর্ভোগে নিমজ্জিত হয়ে পড়ত। এতকিছু দেখে আমাদের দেশের বিজ্ঞজনেরা শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপারে বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেমন-


১. সকলের জন্য একই কারিকুলামে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে ছয় বৎসর বয়সেই প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংগীত চর্চার বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করা। এবং এই সময়ের (অর্থাৎ তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী) মধ্য থেকেই কোন্ ছাত্রের কোন্ কোন্ বিষয়ের উপর বেশি আগ্রহ তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়; সেটা হতে পারে বিশেষ কোন খেলাধুলা, সংগীত চর্চা, বা বিশেষ কোন বিষয়ের উপর। অবশেষে তাকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সেই সেই বিশেষ বিষয়ের উপর পড়ার বা চর্চা করার ব্যবস্থা করা (অবশ্য আবশ্যিক কয়েকটা বিষয় এই ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই থাকে)।


২. একাদশ থেকে শুরু হয় তাঁর পেশাগত শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা অর্থাৎ সে যেটাকে পেশা হিসাবে বেছে নিতে আগ্রহী সেই সংক্রান্ত পড়া। এক্ষেত্রে একটা কথা বলে রাখি- আমাদের সমাজে চারিদিকে যা কিছু নজরে আসে তার প্রতিটি কর্মই উদাহরণস্বরূপ চুল ছাটাই থেকে শুরু করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল প্রভৃতি- এই কারিগরি শিক্ষা বা পেশাগত শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্গত। এটা সমাপ্ত করার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচটি ধাপ আছে অর্থাৎ কোন কোনটা এক বা দুই ধাপেই সমাপ্ত। প্রতি দুই বছরে এক একটা ধাপ; এবং প্রতিটা ধাপে একটা করে সার্টিফিকেট দেয়া হয় যেটা ব্যবহার করে সে সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থান বা চাকুরীতে যোগদান করতে পারে। এতে দেখা যায় যে, কেউ চাইলে ১৮ বছর বয়স থেকেই কর্মজীবন শুরু করার সুযোগ পেয়ে থাকে, এবং পরবর্তীতে হাতে কলমে পেশাগত প্রশিক্ষণ নিয়ে আরও দক্ষ হয়ে তাঁর কর্মক্ষেত্রে সেটি প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর যাতে সে পরবর্তী ধাপের পড়াগুলো অর্থাৎ পেশাগত হাতে কলমে অবশিষ্ট প্রশিক্ষণগুলো সমাপ্ত করতে পারে সে ব্যাপারে উক্ত প্রতিষ্ঠান তাকে সহযোগিতা করে থাকে। তবে কেউ চাইলে সবগুলো ধাপ সমাপ্ত করেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারে। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেশাগত সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন বা একটা নির্দিস্ট ধাপ অতিক্রম করার পরেই কর্মজীবনে প্রবেশ করতে হয় যেমন- ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ইত্যাদি -এটা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কমিশন নির্ধারন করে থাকেন। এছাড়াও আরও উচ্চ শিক্ষা নেয়ার জন্য তাকে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান থেকে বা বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ডিগ্রী নিতে হয়।


পৃষ্ঠা নং- ৪০ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।