হৃদয়- বাঃ বেশ ভালোই তো মনে হচ্ছে। আচ্ছা ভোটের দিন যদি সব সাংসদেরা উপস্থিত না থাকে তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কি কোন সমস্যা হয়? আর তাছাড়া অনেক সাংসদেরা তো নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন না, সেক্ষেত্রে তোমাদের দেশে কোন বিশেষ নিয়ম আছে কি-না?
স্বপ্নিল- দেখ বিভিন্ন কারণে কেউ কেউ সংসদে উপস্থিত নাও থাকতে পারে সেক্ষেত্রে সংসদের কাজে অর্থাৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাজে কোন সমস্যা হয় না। কারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (মনে করো সকাল ১০টা থেকে ১২টা এর মধ্যে) উপস্থিত সাংসদের সংখ্যা এবং মোট প্রাপ্ত RMM Vote উভয়ের গুরুত্ব সমান ধরা হয় এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আর তাছাড়া আমাদের দেশে একান্ত প্রয়োজন না থাকলে কেউ সংসদে অনুপস্থিত থাকেন না। কারণ প্রত্যেক সাংসদ সংসদে উপস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ সুযোগ সুবিধা সহ নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা পান। এছাড়াও এম.পি. এবং মন্ত্রীদের জন্য অতিরিক্ত নির্দিষ্ট একটা সম্মানী থাকে।
হৃদয়- বেশ সুন্দর ব্যবস্থা তো! আচ্ছা বন্ধু এধরনের ব্যবস্থার জন্য কেউ কোন প্রকার আপত্তি বা অসম্মান বোধ করেন কি-না?
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয় আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা দেশ সেবার তথা জনসেবার ব্রত নিয়েই সংসদে যান। সংসদে উপস্থিত থাকাকে তাঁরা তাঁদের গুরুদায়িত্ব হিসাবে মেনে নিয়েই দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদের সিদ্ধান্ত, জনগণের সিদ্ধান্তকে কেউ অসম্মান বা এবিষয়ে কোন প্রকার বিরূপ মন্তব্য করেন না। আর তাই হয়ত এধরনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা নেতিবাচকভাবে ভাবেন না।
হৃদয়- বাঃ বেশ ভালো এবং প্রশংসনীয় তোমাদের সকল ব্যবস্থা। আচ্ছা বন্ধু অনেক কথাই তো শুনলাম, নিশ্চয়ই তোমারও খুব ক্ষুধা পেয়েছে চলো পার্কের ঐদিকটায় দোকান আছে বসে কিছু খাওয়া যাবে।
স্বপ্নিল- হ্যাঁ ঠিক আছে চলো। কিন্তু এই সকাল বেলা কি খাওয়া যায় বলো তো?
হৃদয়- এইতো সকালের নাস্তা হিসাবে এখানে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। এখান থেকে পছন্দমত খাওয়া যাবে। [তারপর তাঁরা সকালের নাস্তা সম্পন্ন করল।]
স্বপ্নিল- আচ্ছা বন্ধু অনেক কিছুইতো খেলাম কিন্তু মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল।
হৃদয়- কেন বন্ধু এতে মন খারাপ হওয়ার কি আছে? কিছু কি বেশি খেয়ে ফেলেছ? না-কি কিছু খাওয়ার বাকী আছে?
স্বপ্নিল- না-না ওসব কিছু নয়, টিভিতে খবরের শিরোনামগুলো দেখে আমার পুরানো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তো দেখছি বেশ ভয়াবহ। দিনে-দুপুরে ছিনতাই, হত্যা, দখল, অগ্নিসংযোগ সবই তো দেখছি শিরোনাম হয়ে গেছে প্রতিটা সংবাদ মাধ্যমে। মনে হচ্ছে আমাদের দেশের একসময়কার চরম পরিস্থিতিতে পৌঁছতে আর বেশি দেরী নেই। আচ্ছা হৃদয় তোমরা এখনও কেন চুপ করে বসে আছো? সবকিছু যাতে স্থায়ীভাবে সমাধান হয়- সে চেস্টা করছ না কেন?
হৃদয়- হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই বলেছ। আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে কি হতে পারে সেটা নিয়ে সত্যিই খুবই দুঃশ্চিন্তায় আছি। হয়ত আমরা এখনও পর্যন্ত যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি যাতে সমস্যাগুলো থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতে পারে। তবে আমাদের চেস্টা কিন্তু থেমে নেই বা আন্তরিকতারও অভাব নেই। এব্যাপারে আমার যেটা মনে হয়, “হয়ত সর্বসম্মতিক্রমে বা নিরপেক্ষভাবে নিঃস্বার্থ চেস্টার অভাব আছে।” আর এই একটুখানি ঘাটতি থাকার কারণেই জবাবদিহিতার বিষয়টা অনেকে কম গুরুত্ব দিয়েও পার পেয়ে যাচ্ছে। কৈফিয়ত বা জবাবদিহিতার সংস্কৃতি পরিপূর্ণভাবে গড়ে না ওঠার কারণও ঐ একটুখানি ঘাটতি। অর্থাৎ সর্বসম্মতিক্রমে বা নিরপেক্ষভাবে নিঃস্বার্থ চেস্টার অভাব।
পৃষ্ঠা নং- ৩৯ , পরবর্তী বিবরণ