হৃদয়- হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ বটে! সকলকে যেহেতু একটাই আইন বা বিধান অনুসরণ করতে হবে, তাহলে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য এমন একটাই আদর্শ সকলেই মনে মনে লালন করলে, সে অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুললেই তো ভালো। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের কি কি অধিকার, দায়িত্ব-কর্তব্য আছে তা যেমন ভালোভাবে জানা যাবে, অনুরূপভাবে তার দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা হচ্ছে কি-না সেটাও সে ভালোভাবে বুঝতে পারবে। তবে বিষয়টা যত সহজে বললে, বাস্তবে তা কার্যকর হওয়া নিশ্চয়ই ততটাই কঠিন হয়েছিল? আমাদের দেশে এমন আশ্চর্য কথা কেউ কখনও হয়তো স্বপ্নেও ভাবে না। তুমি বরং ভিন্ন কোন উপদেশ দাও যাতে আমাদের দেশের মানুষের কাজে আসে।
স্বপ্নিল- ধীরে বন্ধু ধীরে- যদি প্রথমেই অধৈর্য্য বা বিরক্তির সাথে ব্যাপারটা শোন তাহলে কিছুই বুঝতে পারবে না। যদি ইতিবাচক মানসিকতা না থাকে- তবে, মন ব্যতিক্রম কোন কিছুকে গ্রহণ করতে চাইবে না। আগে ধৈর্য্য ধরে শোন, তারপর বিচার-বিবেচনা করে যা খুশী মন্তব্য করো। আর তাছাড়া শুনলেই যে তোমাকে তা গ্রহণ করতে হবে বা মানতে হবে তা তো বলিনি।
হৃদয়- আচ্ছা ঠিক আছে বলো, দেখি আরও কতো আশ্চর্য্য কথা শোনাবে!
স্বপ্নিল- হ্যাঁ আগে পুরো ব্যবস্থাটা শোন। আমাদের দেশে নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দলই নেই। শুধুমাত্র এই সিদ্ধান্ত থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ভোগ করে থাকি, শুনবে সে কথা?
হৃদয়- হ্যাঁ অবশ্যই- শোনাও দেখি।
স্বপ্নিল- তাহলে কয়েকটা মাত্র উদাহরণ শোন-
প্রথমতঃ যারা দেশ ও দশের সেবা করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছা পোষণ করেন, তাঁরা তাঁদের সুনাম ও পরিচিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে- সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিজ নিজ নামে বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতে সর্বদা সচেষ্ট আছেন। কেউ কেউ তাঁদের নামে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সেবা প্রদান করে থাকেন যার থেকে সর্বসাধারণ প্রতিনিয়ত উপকার পাচ্ছেন। এপ্রসঙ্গে আর একটা কথা বলা দরকার, তা হলো- আমাদের দেশে মহাবিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন শিক্ষার্থীও অনুরূপ সুনাম ও পরিচিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাঁদের নিজস্ব আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের গুণাবলী প্রদর্শনের জন্য সর্বদা সুযোগ খুজতে থাকে। তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের সাহায্য সহযোগিতা করার মাধ্যমে তাঁদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অর্থাৎ তাঁদের নেতা হওয়ার জন্য সর্বদা তৎপর। ফলে তাঁদের সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত উপকৃত হচ্ছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এসমস্ত ছাত্র নেতারাও একটা সময় পরে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জননেতা নির্বাচিত হয়ে থাকেন। যাহোক এবার দ্বিতীয় সুবিধার কথা বলছি।
দ্বিতীয়তঃ কেন্দ্রীয়ভাবে কোন নির্দেশনা দেওয়ার অভাবে সারাদেশব্যাপী একযোগে হরতাল, অবরোধ, অচলাবস্থা থেকে দেশবাশী রক্ষা পাচ্ছে; সেই সাথে কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি থেকে দেশ রক্ষা পাচ্ছে। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে দেশের কলকারখানা, আমদানী-রপ্তানি, বিভিন্ন আর্থিক বা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চলছে; বিধায় বিদেশী বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের সুনাম উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অব্যাহত রয়েছে।
তৃতীয়তঃ নির্দিষ্ট কোন দলের হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে নির্বাচনের সময় অন্ততঃ মনোনয়ন পেতে কষ্ট হয় না। তাছাড়া এক্ষেত্রে এমনও শোনা যেত যে, কখনও কখনও দলীয় প্রধান নাকি তার আসে পাশের মানুষদের কথা অনুযায়ী যোগ্য, সর্বাধিক জনপ্রিয় লোকের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য বা বিতর্কিত মানুষদেরই মনোনয়ন দিয়ে- দলের মধ্যে তথা সাধারণ মানুষদের মধ্যে একটা বিভাজন সৃষ্টি করতে সহায়তা করতেন। ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের দলীয় সহানুভূতির টানে নিজের পছন্দ-অপছন্দ, আদর্শ, আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারতেন না; এধরনের পরিস্থিতিতে আমাদেরকে এখন আর পড়তে হয় না। ফলে আমরা আমাদের পছন্দমত যোগ্য ব্যক্তিদেরকে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারি।
পৃষ্ঠা নং- ২৯ , পরবর্তী বিবরণ