স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত


পূর্বোল্লিখিত বিবরণের পর -

স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়- এব্যবস্থার মধ্যে তেমন কোন সুযোগ নেই বা প্রয়োজনও পড়ে না, কারণ প্রশ্ন আসে সফটওয়ারে সেট করা প্রোগ্রাম অনুযায়ী, আর যে প্রশ্নগুলো অন্তর্ভূক্ত করা আছে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন পত্র পত্রিকার বা টেলিভিশন সংবাদের দিকে একটু নজর রাখলেই চলে। আর তাছাড়া নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সময়ে –এ সফটওয়ারের প্রশ্নগুলো আপডেট করা হয়। কারণ সহশ্রাধিক প্রশ্ন একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অন্তর্ভূক্ত করে থাকে।

হৃদয়- একাধিক ব্যক্তি প্রশ্ন অন্তর্ভূক্ত করে বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলবে?


স্বপ্নিল- হ্যাঁ এবিষয়টা একটু বিস্তারিত বলার প্রয়োজন আছে, যেহেতু তোমরাও চাইছ এমন ব্যবস্থা তোমাদের দেশেও প্রবর্তন করা যায় কি-না তা দেখতে। মন দিয়ে শোন।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এসংক্রান্ত প্রশ্ন আপলোড করার একটা ব্যবস্থা আছে। যেকোন ব্যক্তি এখানে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী যেকোন মন্ত্রণালয়ের বা বিষয়ের উপর প্রশ্ন আপলোড করতে পারেন। তবে, সেটি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় জমা হতে থাকে। একটা নির্দিষ্ট সময়ে সময়ে উক্ত কমিটি প্রশ্নগুলো যাচাই বাছাই সাপেক্ষে অনুমোদন করলে তবেই সেগুলো উক্ত সফটওয়ারে অন্তর্ভূক্ত করে থাকে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া এবং না হওয়ার মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্য থাকে না, তাই এ নিয়ে কেউ কখনও মাথাও ঘামায় না।


হৃদয়- আচ্ছা ঠিক আছে এবিষয় নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছি না, তবে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দাও তো। তোমাদের দেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতির আসনে কে কিভাবে আসীন হন বা এব্যাপারে তোমরা সিদ্ধান্ত নাও কিভাবে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই করলে। দেখ আমাদের দেশের সকল ব্যবস্থাই তোমাদের নিকট একটু অন্যরকম বা অদ্ভুত মনে হতে পারে। এব্যাপারটাও ঠিক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মতোই অর্থাৎ এব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা তথা সাংসদেরা। আর কোন কারণে যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন তবে RMM Vote এর মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এপ্রসঙ্গে একটা কথা বলা প্রয়োজন, আর তা হলো; আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতি, স্পীকার এবং ডেপুটি স্পীকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণের মধ্য থেকেই ৬ বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।


হৃদয়- অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিগণের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি, স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার শুনতে আশ্চর্যই লাগছে। আচ্ছা এমনটি হওয়ার কি বিশেষ কোন তাৎপর্য্য বা সুবিধা আছে?


স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়, বিশেষ তাৎপর্য্য বা সুবিধা আছে কি-না সেটা বলতে পারব না, তবে আমাদের বিজ্ঞজনেরা যেহেতু এমন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন তাই নিশ্চয়ই এর সুবিধা আছে এটা বলা যায়। আর তাছাড়া সম্মানী ব্যক্তিরা সম্মানী আসনে উপবিষ্ট হবেন এতে অসুবিধার তো কিছু দেখিনা।

হৃদয়- হ্যাঁ সত্যিই তো, আচ্ছা এক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় কিভাবে? সংক্ষেপে প্রক্রিয়াটা একটু বলবে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বলছি শোন; এক্ষেত্রে সম্প্রতি অবসরে গিয়েছেন এমন ক্রমঅনুযায়ী ১০ জন বিচারপতির নাম তালিকাভুক্ত করা হয় অবশ্য কেউ আপত্তি করলে তাঁর নাম ব্যতীত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটা খুবই সহজ এবং সাদামাঠা প্রক্রিয়া। অর্থাৎ প্রথমে একই ক্রমিক নং যুক্ত পর পর তিনটি ভিন্ন রং এর ব্যালট পেপারের সেট ছাপানো হয় সর্বমোট জনপ্রতিনিধি বা সাংসদের সংখ্যার সমান সংখ্যক সেট। এরপর প্রত্যেক সাংসদ স্বাক্ষর করা সাপেক্ষে এক সেট ব্যালট পেপার সংগ্রহ করেন এবং যথাসময়ে যথাযথ নিয়মে তাঁর পছন্দক্রম প্রদান করেন। এক্ষেত্রে বিচারপতিগণের ক্রমিক নং-ই প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। আর এ প্রক্রিয়ায় যদি রাষ্ট্রপতি, স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনে কোথাও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমস্যার সৃষ্টি হয় তবে RMM Vote –এর মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করা হয়।

পৃষ্ঠা নং- ৩৭ ,  পরবর্তী বিবরণ

* * * স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরীতে আপনাকে স্বাগতম। আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত বা পরামর্শ প্রদান করে পাশে থাকুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।