স্বপ্নিল- হ্যাঁ আমাদের বিজ্ঞজনেরা মনে করেন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে এবং সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে এমনটি করা জরুরী। আর তাছাড়া এটাতো অস্থায়ীভাবে অর্থাৎ চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনের ৯মাস পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নির্বাচন পরবর্তী ৩মাস পরেই তাঁদের কার্যের মেয়াদ সমাপ্ত হয়।
হৃদয়- ও তাই! তা বেশ ভালো ব্যবস্থা। এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কারো মনে কোন প্রকার সন্দেহ বা সংশয় থাকবে না। আচ্ছা তো এরপর কোনটা শোনা জরুরী একটু বলবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন, এবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়াই বলছি। আমাদের ওখানে সমগ্র দেশটাকে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা আছে। পূর্বেই বলেছি আমাদের ওখানে প্রতিটা নির্বাচনী এলাকায় চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারেন।
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু ৭জনের অধিক প্রার্থী চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ইচ্ছা পোষণ করলে ঠিক কিভাবে তোমরা এটার সমাধান করো ?
স্বপ্নিল- দেখ বন্ধু আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, বেশিরভাগ আসনে জনগণের মধ্যে একটা সাড়া পড়ে যায় যে, কে হতে যাচ্ছে বিজয়ী জনপ্রতিনিধি। এক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায় সর্বোচ্চ ৫জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ইচ্ছাই পোষণ করেন না, তবে যদি কোথাও ৭ জনের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে ইচ্ছুক হয় সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত নির্বাচনের ১৫দিন পূর্বে একটি প্রাক্ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনের RMM Vote এর মাধ্যমে শীর্ষ থেকে ৭জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হয়।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এরিয়ার ভোটারদেরকে নির্দিস্ট উদ্দেশ্য কোড উল্লেখ করে স্ব স্ব এরিয়া কোডে RMM Vote তথা SMS গুলো পাঠাতে বলা হয়। এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণ করেই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। একাজটা সংশ্লিস্ট মেইন সার্ভারেরই রেজাল্ট। তাছাড়া এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বিধায় খুবই স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ একটি প্রক্রিয়া বলতে পারো কারণ এখানে কারো কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগই নেই। ব্যাপারটা দেখতে এরকম
হৃদয়- বাঃ বেশ আশ্চর্যই মনে হচ্ছে! আচ্ছা বন্ধু তুমি যে RMM Vote এর কথা বললে এটাতো পূর্বেই বুঝেছি। কিন্তু প্রাক্ নির্বাচনের ব্যাপারটা যদি একটু বলো আর তাছাড়া তোমাদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতীক বরাদ্দ হয় কীভাবে? এক্ষেত্রে তো বেশ ঝামেলা বা গোলমাল হওয়ার কথা তাই-না?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ বলছি শোন- প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে যাতে কোনরূপ বিতর্কের সৃষ্টি না হয়- সেজন্য খুব সুন্দর ব্যবস্থা আছে। এবং এসংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া আছে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রেসক্লাব সভাপতির উপর, তাঁর সহযোগিতায় এবং নির্বাচন কমিশনের তত্বাবধানে। যেমন- প্রথমতঃ প্রাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার সময়ে যে ক্রমিক নং পড়ে সেটিই অর্থাৎ ক্রমিক নং-ই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রতীক। দ্বিতীয়তঃ ব্যালট ভোট এর জন্য প্রতিটি নির্বাচনী আসনের জন্য বেশ কিছু সুন্দর সুন্দর প্রতীক নির্দিষ্ট করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যদি সেখান থেকে আপোসে স্ব-স্ব প্রতীক ঠিক করতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে পর পর দুইটা লটারী হয়; প্রথমটা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যার সমান সংখ্যক ক্রমিক নং যুক্ত টোকেন দিয়ে, যেটার সাহায্যে প্রার্থীদের লটারীতে অংশগ্রহণের ক্রমিক ঠিক করার হয়। আর দ্বিতীয়টা হলো প্রতীকগুলোর ছবিযুক্ত টোকেন দিয়ে। অর্থাৎ উক্ত টোকেনগুলো নির্দিষ্ট বাক্সে রাখা হয়, এবং সেখান থেকে নম্বরক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদেরকে একইসাথে দুইটা টোকেন উঠাতে বলা হয়; যার মধ্য হতে প্রত্যেকে একটি প্রতীক পছন্দ করে অপরটি ভাজ করে পুনঃরায় বাক্সে রেখে দেন। এভাবে নম্বরক্রম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থী তার প্রতীক পেয়ে থাকেন। মজার ব্যাপার হলো সমগ্র প্রক্রিয়াটি একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়ে থাকে।