এছাড়া সরকারী উদ্যোগে এসমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্ক্ষলা ছাড়াই সকলেই সেসমস্ত মাঠ ও অডিটরিয়াম ব্যবহার করতে পারে। অবশ্য স্কুল চলাকালে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষার্থীরা ব্যতীত অন্য কেউ সেসমস্ত মাঠ ও অডিটরিয়াম ব্যবহার করতে পারে না। এপ্রসঙ্গে একটা কথা বলে রাখি- আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জাতীয় খেলা হলো ‘ভলিবল’। কারণটা হলো- অপেক্ষাকৃত অল্প পরিসরে, অল্প খরচে, অল্প সময়ের মধ্যে, বেশিরভাগ মানুষের ঝুঁকিবিহীন শরীরচর্চার সুযোগ এবং দর্শকসহ সকলের অফুরন্ত আনন্দের সুযোগ সবচেয়ে বেশি আছে এখেলাতেই। আর এজন্যেই ভলিবল খেলাকে যতটা সম্ভব জনপ্রিয় করার বিশেষ চেষ্টা আছে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট সকলের।
৩. এছাড়া সর্বসাধারণের জন্যও বিভিন্ন প্রকার খেলাধুলা, শরীর চর্চা এবং সংস্কৃতি চর্চা করার জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা তথা সুযোগ আছে। অর্থাৎ প্রতিটি এলাকায় সকলের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা, শরীর চর্চার জন্য ব্যায়ামাগার এবং সংস্কৃতি চর্চার জন্য অডিটরিয়ামের ব্যবস্থা আছে। তাছাড়া সেগুলোকে প্রচার করার ব্যাপারেও সরকার খুবই আগ্রহী, বলতে পারো একপ্রকার বাধ্যবাধকতা আছে। কারণটা হলো- সরকার মনে প্রাণে বিশ্বাস করে “সকলের সুস্থ্য শরীর, সুন্দর মন, সমগ্র দেশ তথা জাতীর কল্যাণ”। এলক্ষ্যে বিভিন্ন সরকারী বিশেষ ছুটির দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রকার প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় এবং তা বিশেষভাবে প্রচারের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা সাংবাদিক কমিটির উপর।
৪. এছাড়া সময়ে সময়ে সরকারী উদ্যোগে বা বেসরকারি বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় এবং সেগুলোকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে- যেমন উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগীতার আয়োজন করার মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বা শিল্পী খুঁজে বের করা হয়, তাঁদেরকে সম্মানিত করা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি মহোদয়ের উপর। অবশ্য এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে এর পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ তাঁদের প্রতিভা যাতে আরও বিকশিত হতে পারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে- সে দায়িত্ব নিয়ে থাকে সরকার।
উপরোক্ত পদক্ষেপগুলোর সুস্পস্ট গুরুত্বপূর্ণ উদ্দ্যেশ্য হলো- সাধারণ মানুষের মনের সকল প্রকার উদ্বেগ- অশান্তি দূর করা, মন শান্ত করা, তাঁদেরকে নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া, মানবতার শিক্ষা দেওয়া। তাঁদের চরিত্র নির্মাণে সেই সাথে সুস্থ্য শরীর গঠনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া। আর এটা সম্ভব হলেই মানুষ নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে যেমন দূরে থাকবে- তেমনি দেশের সুনাম, সম্মান বৃদ্ধির জন্য প্রতিভাবানদের সন্ধান পাওয়াও সহজলভ্য হবে।
আসলে বিজ্ঞজনেরা সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা থেকেই এধরণের পদক্ষেপ নিতে একমত হয়েছেন। তাঁরা এটাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, শরীর সুস্থ্য থাকলে- মনও ভালো থাকে; তখন যেকোন ধরণের চর্চা বা সাধনায় মনোনিবেশ করলে অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে অধিক সুফল পাওয়া যায়।
তাছাড়া তাঁরা এটাও মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ তা সে যেই হোক শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, ধনী বা গরীব, চোর থেকে সাধু বা ছোট থেকে বড়ো সকলেই এমনকি একটা ইতর প্রাণীও সেই কাজই করে যা তার দিক থেকে বিবেচনা করে সেই সময়ের জন্য সর্বোত্তম বিকল্প হিসাবে সে সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ সকলেই তাদের নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী সবসময় সর্বোত্তম বিকল্প উপায়ই অবলম্বন করে থাকে।
যেকারণে সমাজের মানুষের দ্বারা কৃত সামগ্রিক কর্মকান্ডের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে সমাজের সকলের মানসিকতা বা বিবেচনার মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। একটা চোর যখন চুরি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং চুরি করে তবে তার জন্য শুধুমাত্র চোরকেই দায়ী করে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান হবে না। পাশাপাশি তার মানসিকতা বা বিবেচনা পরিবর্তনের জন্য এর দায়ভার চোরের পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এবং সবাই যদি নিজ নিজ দায় স্বীকার করে সে অনুযায়ী কর্তব্য পালন করে তবেই উক্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
তাছাড়া তাঁরা এটাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, একটা ভাল গুণের চর্চার সাথে সাথে চরিত্রের অন্যান্য ভাল গুণাবলীগুলো যেমন উজ্জীবিত হয়, তেমনি খারাপ গুণাবলীগুলোও আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে। অনুরূপভাবে একটি খারাপ গুণের চর্চা করলেই- চরিত্রের অন্যান্য খারাপ গুণাবলীগুলো যেমন উজ্জীবিত হয়, তেমনি ভালো গুণাবলী গুলোও আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যেতে থাকে। তুমি দেখবে- একটি খারাপ কাজের সাথে সাথে অন্যান্য একাধিক খারাপ কাজের দরজা আপনা থেকেই খুলে হাতছানি দিয়ে ডাকবে - এসো এসো! ঠিক তেমনি একটি ভালো কাজ বা ভালো উদ্যোগ গ্রহণের সাথে সাথে অন্যান্য একাধিক ভালো কাজের অনুপ্রেরণা মনের মধ্যে আপনা থেকেই তৈরি হয়ে যায়।