পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
হৃদয়– থামো থামো, একটু দম নিয়ে নিই, মানেটা হলো তুমি এতগুলো কথা বলে গেলে, একটু বুঝে নিতে দাও। এর মধ্যে তুমি আবার বললে RMM Vote, সেটা আবার কী? আর তাছাড়া RMM Vote এবং কমিটির সদস্যের মতামত একত্র করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারটা ঠিক বুঝলাম না, এই দুটো বিষয় একটু পরিষ্কার করে বলতো।
স্বপ্নিল– হ্যাঁ, তোমার নিকট সবই বলবো। আমার যতটুকু সাধ্য আছে, সকল বিষয়ে তোমায় পরিষ্কার করেই বলবো। একটু ধৈর্য ধরে শোন, একে একে সবই বলবো।
এখানে RMM Vote বলতে বুঝানো হয়েছে Registered Mobile Message Vote। খুবই সহজ ব্যাপার– নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ এধরনের ভোট করার জন্য যেকোন ভোটারকে তার যেকোন একটি মোবাইল নম্বরকে আগে নিবন্ধন করিয়ে নিতে হয়। নিবন্ধন প্রক্রিয়াটা তোমায় একটু পরে বলছি। আর তাছাড়া RMM Vote এবং কমিটির সদস্যের মতামত একত্র করে সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারটাও একটু পরে বুঝতে পারবে।
এখন শোন, এধরনের ভোট করার জন্য প্রথমে কি করতে হয়।
___________________________________
উদ্দেশ্য কোড (Purpose Vote Code)
RMM Vote করার জন্য আগে একটি ইউনিক উদ্দেশ্য কোড (Purpose Vote Code) সেট করতে হয়। এটি নির্বাচন কমিশনের ইমেইল থেকে বা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কমিটির সভাপতির রেজিস্টার্ড ইমেইল থেকে একটি নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে পাঠাতে হয় পূর্বেই।
অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের Purpose Vote Code সেট করার জন্য তাঁদের নির্দিষ্ট ইমেইল থেকে এই ঠিকানায়–
PurposeVoteCode_EC@MainServer.net এই ইমেইলে মেইল পাঠাতে হয়।
আবার অনুরূপভাবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কমিটির সভাপতিকেও নির্দিষ্ট ইমেইল–এ, সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে নির্দিষ্ট ছক পূরণ করে ইমেইল পাঠাতে হয়। মূল সার্ভারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাসময়ে উক্ত Purpose Vote Code সেট করার জন্য সংশ্লিষ্ট ছকের তথ্য মূল সার্ভারে এন্ট্রি দিলে একটি স্বয়ংক্রিয় কোড নম্বর পেয়ে থাকেন।
এরপর তিনি সেটি রিপ্লাই মেইল–এর মাধ্যমে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কমিটির সভাপতির রেজিস্টার্ড ইমেইল–এ অথবা নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট ইমেইলে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে সেই Purpose Vote Code টি পাওয়ার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্টরা অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন অথবা সাংবাদিক কমিটির সভাপতি RMM Vote এর জন্য ঘোষণা করে দেন এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে তা প্রচারের নির্দেশও দিয়ে থাকেন।
________________________________________
অভিযোগ প্রচার ও “দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই প্রচার” প্রসঙ্গ
হৃদয়– আচ্ছা বন্ধু, কারো বিরুদ্ধে কোন প্রকার অন্যায় বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পূর্বেই তার সম্পর্কে যদি এমন প্রচার হতে থাকে তবে বিষয়টা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না?
স্বপ্নিল– দেখ হৃদয়, সাধারণভাবে এটাই ধরে নেয়া হয় যে, বিনা কারণে কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না। তাছাড়া তিনটি গণমাধ্যমেও নেতিবাচক কোন প্রতিবেদনও প্রকাশ করবে না, যদি কোন প্রকার দোষ–ত্রুটি খুঁজে না পায়।
এছাড়া যেহেতু বিষয়টা নিয়ে বিজ্ঞজনেরা এমন সিদ্ধান্তেই একমত হয়েছেন, তাই নিশ্চয়ই এর কোন সুফল অবশ্যই আছে। এব্যাপারে আমার যেটা মনে হয়, তা হলো–
সকলকে সচেতন করা, বা বলতে পারো একজনকে লজ্জা দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদেরকে শিক্ষা দেওয়া। আর এজন্যই এমনভাবে সকলের নিকট বলে বেড়ানো বা প্রচার করার ব্যবস্থা।
তবে প্রকৃত সত্য ব্যাপারটা যাতে উঠে আসে, তার জন্য সকলেরই আন্তরিক চেষ্টা থাকতে হবে– অবশ্য সত্য কখনও চাপা থাকে না, দুই দিন আগে আর পিছে সেটা প্রকাশ পাবেই।
হৃদয়– হ্যাঁ বন্ধু, তুমি ঠিকই বলেছ। এক্ষেত্রে অনেকেই যে কোন প্রকার অন্যায় করার আগে অন্ততঃ একবার হলেও তার আত্মীয়–স্বজন, পরিবার–পরিজনের কথা ভাববে। তাঁদের নিকট, সমাজের নিকট ছোট হতে কেই–বা চাইবে, তাইতো? আচ্ছা, এরপর কি করা হয়?
স্বপ্নিল-- এরপর সকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে তাঁদের মতামত অর্থাৎ RMM Vote প্রদান করে থাকেন। এখানে RMM Vote গুলো সংশ্লিষ্ট এরিয়া কোড এর ঘরে মূল সার্ভারে সয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়। এখান থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত সার্ভারের একটি স্ক্রিন শট (যাতে উক্ত RMM Vote এর Purpose Vote Code, AREA CODE, Total RMM Vote, Date, Time ইত্যাদি উল্লেখ থাকে) অনেকটা দেখতে এরকম-

এবং
এই লিংকে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের খসড়া হিসাব পদ্ধতি ফাইল আছে সেটি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কমিটির সভাপতির রেজিস্টার্ড ইমেইল-এ পাঠিয়ে দেন। তিনি সে অনুযায়ী “YES Vote” এবং “NO Vote” এর জন্য নির্ধারিত অংশটুকুই শুধুমাত্র পূরণ করে থাকেন (অবশ্য বাকী অংশ পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা) এবং তার প্রয়োজনীয় সকল কপি ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করেন। এবং এর মাধ্যমেই জনমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত কি হবে (TAKE ACTION/ RELEASE/ REVOTE) তা দেখা হয় এবং পরবর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এসংক্রান্ত একটা খসড়া হিসাব পদ্ধতি আমার ল্যাপটপে আছে তোমায় দেখাচ্ছি দেখ।
আর এর মাধ্যমে তুমি তোমার পূর্বের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে যে, কিভাবে RMM Vote এবং কমিটির সদস্যের ভোট একত্র করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া তুমি চাইলে
এই লিংকে ক্লিক করে যেকোন সময় যেকোন যায়গা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের খসড়া হিসাব পদ্ধতিটি দেখে নিতে পারো। তবে এখানে বলে রাখি RMM Vote যতই হোক না কেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব ৫০% হিসাব করা হবে; আর JC Vote যাই হোক না কেন তার গুরুত্বও সমান অর্থাৎ ৫০% -এহিসাবে মোট ১০০% গুরুত্ব ধরা উচিত বলে বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।
হৃদয়- বাঃ তোমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়াটা তো দেখছি বেশ জটিল, তবে মন্দ না। আচ্ছা বন্ধু জবাবদিহির জন্য সর্বাগ্রে তোমরা সাংবাদিক কমিটিকেই কেন বেছে নিলে- এক্ষেত্রে তোমাদের বিজ্ঞজনেরা কিধরনের যুক্তি দেখিয়েছেন? তাছাড়া ‘এরিয়া কোড’ এর কথা কি যেন বললে, বিষয়গুলো একটু যদি বুঝিয়ে বলো।
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়- ‘এরিয়া কোডের’ ব্যাপারটা তোমায় একটু পরে বলছি; তবে জবাবদিহির জন্য যে পদ্ধতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে নিশ্চয়ই তার পিছনে বহু যুক্তিসংগত কারণ আছে। এব্যাপারে আমার নিকট যেটা মনে হয় তা হল-
(#১.)যেহেতু মহামান্য রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একযোগে সমগ্র দেশের সকল কমিটিগুলো গঠিত হয় সেহেতু নিরপেক্ষতার বিষয়টি নিয়ে কারও মনে কোন প্রকার সংশয় বা দ্বিমত পোষণের অবকাশ থাকে না; যেটা যেকোন কমিটি গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। অর্থাৎ এককথায় এ পদ্ধতিতে নিরপেক্ষভাবে অতিসহজে সমগ্র কমিটি গঠন তথা নির্বাচন করা সম্ভব হয়।
(#২.)এছাড়াও বিশেষ সুবিধা হল- কমিটির সদস্যগণ সমগ্র দেশব্যাপী পূর্ব থেকেই তাদের নিজস্ব দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাজের সাথেই সম্পৃক্ত। আর তাছাড়া মূল জবাবদিহিটাতো কমিটির কাছে না; সেটা হল জনগণের কাছে। আর জনগণের নিকট তুলে ধরতে এজাতীয় গণমাধ্যমের কর্মীরাই হয়তো সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত বলেই বিজ্ঞজনেরা এমন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন।
হৃদয়- হ্যাঁ বন্ধু তুমি শেষের কথাটা সত্যিই যথার্থই বলেছ। জনগণের নিকটই তো জবাবদিহি করতে হবে। জনগণকে বোকা ভাবা বা বোকা বানানোর কোন অবকাশই থাকবে না। আচ্ছা যদি কোন সংবাদ মাধ্যম প্রকৃত সত্য গোপন করার চেষ্টা করে যাতে কমপক্ষে ৩টি সংবাদ মাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশের যে প্রাথমিক শর্ত তা পূরণ না হয়- তখন কি হবে?
__________________________
যদি মিডিয়া সত্য গোপন করে !
স্বপ্নিল- হ্যাঁ একটা ভালো প্রশ্ন করলে, একে একে তোমার সকল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি একটু সময় দাও। আচ্ছা হৃদয় একটা কথার জবাব দাওতো- জেনে শুনে কেউ কি নিজের ক্ষতি করতে চায়? নিশ্চয়ই না। আপন ভালো পাগলেও বোঝে। তবে এমন ঘটনাও প্রথম দিকে আমাদের দেশে ঘটেছিল। কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যম অর্থের বিনিময়ে ঠিকমত প্রতিবেদন প্রকাশ করত না, বা বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করত। কিন্তু দু’একটা খারাপ লোকের কারনে কি ভালো কোন কিছু বাঁধাগ্রস্ত হয়? খারাপের পাশাপাশি ভালো সংবাদপত্র, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকও আছে তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য। ফলশ্রুতিতে আজ তাদের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে। তাছাড়া জনগণের নিকট কিন্তু সকল তথ্যই কম বেশি থাকে। সেই জনগণ তাদেরকে কালো তালিকাভূক্ত করে তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যাতে একটা সময় পরে তাদের ব্যবসা আস্তে আস্তে অচল হয়ে- বন্ধ হয়ে গেছে। এখন বলো, এমন কাজ করার আগে সেই সমস্ত সংবাদ মাধ্যম অন্ততঃ দুইবার ভাববে কি-না? আর তাছাড়া যদি তেমন কাজ হয়েও থাকে- তাতেও কোন সমস্যা নেই।
কারণ সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সুপারিশ থাকলেই সেটি সরাসরি জবাবদিহি অনুষ্ঠানের আওতাভূক্ত হয় এবং RMM Vote এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সুপারিশ উক্ত মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসাবে বিবেচিত হয় এবং উক্ত চেয়ারম্যানও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক কমিটির একজন সদস্য হিসাবে গণ্য হন এবং ভোট প্রদান সহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেন।
_____________________________________________
RMM Vote এর নিবন্ধন ও মোবাইল অপারেটরের ভূমিকা
হৃদয়- বুঝলাম। কিন্তু “RMM Vote” এর ব্যাপারটা যদি একটু পরিষ্কার করো, এটি কি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়, একটু বুঝিয়ে বলবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ আগেই বলেছি, RMM Vote এর অর্থ- Registered Mobile Message Vote আর এজন্য তাকে আগে নিবন্ধিত হতে হয় এবং একজন ব্যক্তি যেকোনো ব্যাপারে মাত্র একবারই বিনামূল্যে Vote প্রদান করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রত্যেককে তার নিজস্ব জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সহ সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর কোম্পানির যেকোন কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে নিবন্ধন করিয়ে নিতে হয়।
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু, তাহলে কি RMM Vote এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো, তাইতো?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ হৃদয় তুমি ঠিকই বলেছ। এক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে বেশ কিছু কাজ করতে হয় বা হচ্ছে।
যেমন-
১) প্রথমে তাঁকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত হাল নাগাদ ভোটার তালিকা ডাউনলোড করে নিতে হয়।
২) দ্বিতীয়ত RMM Vote এর জন্য নিবন্ধনে আগ্রহী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের নং নিয়ে উক্ত তালিকার মধ্য হতে খুঁজে বের করা এবং তারপর উক্ত নামের পার্শ্বের নির্দিষ্ট কলামে আবেদনকারীর মোবাইল নং, এরিয়া কোড, এবং নিবন্ধন নং যুক্ত করা।
এখানে বলে রাখি নিবন্ধন নং মূলতঃ জাতীয় পরিচয় পত্রের সর্বশেষ ৫ সংখ্যা + এরিয়া কোডের ৪ টি নং এবং উক্ত মোবাইল নং এর সর্বশেষ ৩ টি সংখ্যা এই ১২ সংখ্যার নম্বরটিকেই বুঝায়। এখানে আরও একটা কথা বলে রাখি, খসড়া ভোটার তালিকার ফাইলটি অনলাইনে Google Spreadsheet-এ আপলোড করা আছে এবং এর পাসওয়ার্ড শুধুমাত্র মোবাইল অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তাদেরকে জানানো আছে যাতে তাঁরা একই সাথে সমগ্র দেশ থেকে উক্ত ফাইলে কাজ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র Reg. No. for RMM Vote ও Last 3 Digit of Mobile No. এই দুইটা Colum বাদে বাকি সব Cell গুলো লক করা থাকে যাতে সেগুলো কেউ কোন প্রকার পরিবর্তন করতে না পারে। একটা নমুনা খসড়া তালিকা তোমায় দেখাচ্ছি দেখ।
৩) তৃতীয়তঃ নিবন্ধন নম্বরযুক্ত কনফার্মেশন (নিশ্চিতকরণ) কপি আবেদনকারীকে সরবরাহ করে থাকে এবং তাদের তথ্যভান্ডারে এসকল তথ্য সেভ করে রাখে। এই প্রসংগে বলে রাখি যেহেতু এটি একটি ইউনিক নম্বর তাই এই নম্বরটি RMM Vote এর ক্ষেত্রে প্রত্যেকের পরিচিতি বহন করে অর্থাৎ কেউ RMM Vote করলে ভোট প্রদানকারী হিসাবে এই নম্বর-টিই পৌঁছে যায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান সার্ভারে।
৪) সর্বশেষ কাজটি হলো প্রতিমাসের শেষে RMM Voter-এর হালনাগাদ প্রতিবেদন অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট ফাইলটি আপটুডেট করা হয়েছে এই মর্মে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে সম্মিলিতভাবে স্বাক্ষর করে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহ করতে হয়। নির্বাচন কমিশন আবার সেগুলো যাচাই করে প্রতিমাস শেষে হালনাগাদ তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে আপলোড করে থাকে।
হৃদয়- তুমি তো দেখছি বেশ খানিকটা কাজের কথা বললে, এতকিছু তারা কি বিনা পারিশ্রমিকে করে থাকে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ হৃদয়, এ ব্যাপারে তোমার ধারণা একদম ঠিক। বলতে পারো মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকে সরকারের নির্দেশে এসংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাছাড়া দেশের স্বার্থে দশের স্বার্থে সরকারের নির্দেশে এসকল দায়িত্ব পালন করে থাকে বলে একাজের জন্য তারা কোন প্রকার পারিশ্রমিক দাবি করেন না। তবে সরকার একটা নির্দিষ্ট সুবিধা প্রত্যেক মোবাইল অপারেটরকে দিলেও দিতে পারে সেটি আমার জানা নেই।
________________________________________
এরিয়া কোড ও একাধিক মোবাইল নম্বরের প্রশ্ন
হৃদয়- আচ্ছা বেশ ভালো। সরকারী কাজে সহায়তা করতে পারছে এটাতো তাঁদের জন্য খুব ভালো কথা; কিন্তু “এরিয়া কোড” এর বিষয়টা কি একটু বিস্তারিত বলার সময় হয়েছে? তাছাড়া আর একটা প্রশ্ন কেউ যদি একাধিক মোবাইল নং দিয়ে একাধিক আসন বা এরিয়ার জন্য নিবন্ধনের আবেদন করে তাহলে সে কি একাধিক মোবাইল নং কে RMM Vote এর জন্য নিবন্ধন করাতে পারবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু তোমার প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি- এরিয়া কোড নং হচ্ছে নির্বাচনি আসনগুলোর একটা সাংকেতিক নং যেমন “DH01” যেটা নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে থাকে। এটি একটি ইউনিক নং অর্থাৎ যতগুলো নির্বাচনী আসন ততগুলো আলাদা আলাদা কোড নং। এই এরিয়া কোড দিয়ে নির্বাচনী আসনকে সনাক্ত করা হয়, এছাড়াও প্রায়ই বিভিন্ন কাজে এই এরিয়া কোড ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এবার তোমার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি, “না” বন্ধু; কোন ব্যক্তি তার একাধিক মোবাইল নং কে RMM Vote এর জন্য নিবন্ধন করাতে পারবে না, কারণ
কারণ প্রত্যেকের জাতীয় পরিচয় পত্রের নং টা হলো ইউনিক নং। বিধায় একটা জাতীয় পরিচয় পত্রের নং এর বিপরীতে শুধুমাত্র একটি মোবাইল নং-ই RMM Vote এর জন্য নিবন্ধন করা যাবে। অন্য কোন মোবাইল নং দিয়ে ভিন্ন কোন এরিয়া বা আসনের জন্য নিবন্ধন করাতে গেলেও সেক্ষেত্রে পূর্বের নম্বরটি বাতিল হয়ে নতুন নম্বরটি প্রতিস্থাপিত হয়ে যাবে।
হৃদয়- বাঃ বেশ ভালোই তো মনে হচ্ছে, আচ্ছা একটা কথা বলোতো RMM Vote ব্যবস্থা রাখার ক্ষেত্রে তোমাদের বিজ্ঞজনেরা কি ধরনের যুক্তি দেখিয়েছেন?
হৃদয়- বাঃ বেশ ভালোই তো মনে হচ্ছে, আচ্ছা একটা কথা বলোতো RMM Vote ব্যবস্থা রাখার ক্ষেত্রে তোমাদের বিজ্ঞজনেরা কি ধরনের যুক্তি দেখিয়েছেন?
স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়, আমরা পরিপূর্ণ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা বিজ্ঞানের সদ্ব্যবহার, প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করে থাকি সর্বত্র এবং সেটি গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও।
আর এরই ফলস্বরুপ আমরা একবার নয়, দুইবার নয় অগণিত বার ভোট প্রদান করে থাকি। যখনই কোন নতুন আইন, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত, সংবিধান সংশোধন এরূপ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা ভোট প্রদান করে থাকি। তবে শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুইটা পদ্ধতিতে ভোটপ্রদান করে থাকি অর্থাৎ ব্যালট ভোট এবং RMM Vote আর অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র RMM Vote এর মাধ্যমে মতামত প্রদান করে থাকি।
হৃদয়- বেশ জটিল প্রক্রিয়া মনে হচ্ছে একটু বুঝিয়ে বলবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোন, আমাদের ওখানে কোন নির্বাচনী আসনের চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারে এবং সে সাত জন প্রার্থীকে RMM Vote এর মাধ্যমে বাছাই করা হয় অর্থাৎ RMM Vote এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল এর ভিত্তিতে শীর্ষ থেকে সাতজন প্রার্থীকে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সুযোগ দেওয়া হয়। তাছাড়া প্রতিটি নির্বাচনী আসনের অন্তর্গত ভোটার তালিকা পৃথক এবং তা নির্বাচনের পূর্বেই হালনাগাদ করা থাকে।
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু তোমাদের ওখানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয় কিভাবে?
স্বপ্নিল- দেখ, আমাদের ওখানে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ধার্য্য করা হয় ৬ মাস পূর্বেই। নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত নির্বাচনের ৫মাস পূর্বেই একটা জন্মতারিখ নির্দিষ্ট করে দেন সে অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখও যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য তাদেরকেও তালিকাভুক্ত করা হয়। তাছাড়া যাতে কমপক্ষে ১সপ্তাহ পূর্বেই চূড়ান্ত তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা যায় সেজন্য খসড়া তালিকা ১মাস পূর্বেই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং সেঅনুযায়ী যেকোনোপ্রকার সংশোধন সাপেক্ষে চূড়ান্ত তালিকা ঠিক সময়মতই প্রকাশ করা হয়।
হৃদয়- তারপর-
স্বপ্নিল- তারপর যথাসময়েই চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারগণ ব্যালট ভোট এবং RMM Vote এর মাধ্যমে তার ভোটাধিকার প্রদান করেন।
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু, একজন ভোটার যদি দুইবার ভোট প্রদান করে তাহলে মোট ভোটার-এর সংখ্যা কিভাবে ঠিক থাকবে?
স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু এক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা আছে তা হলো ব্যালট ভোটার এর মোট সংখ্যার ৬০% এবং RMM Voter এর মোট সংখ্যার ৪০% এই মোট ১০০% হিসাবে গণ্য করা হয়। এসংক্রান্ত একটা খসড়া হিসাব পদ্ধতি আমার নিকট আছে তুমি চাইলে দেখতে পারো। এছাড়া তুমি চাইলে এই লিংকে ক্লিক করে যেকোন সময় যেকোন যায়গা থেকে দেখে নিতে পারো।



Comments