পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
আচ্ছা সবই মোটামুটি বুঝলাম কিন্তু সাংবাদিক কমিটি আর জবাবদিহির কথা কি যেন বললে, এই সাংবাদিক কমিটি বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?
আর জবাবদিহি-ই বা কিভাবে চাওয়া হয়? কে জবাবদিহি করে? কার কাছে জবাবদিহি করতে হয়?
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বন্ধু তুমি খুবই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলে। আমি একে একে বিস্তারিতভাবে তোমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিচ্ছি।
মন দিয়ে শোন। আমাদের দেশে সাংবাদিক কমিটি নামে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ কমিটি আছে।
নির্দিষ্ট বলতে বুঝানো হয়েছে নির্বাচনী আসন বা এলাকার সমান সংখ্যক অর্থাৎ যতগুলো নির্বাচনী আসন ততগুলো কমিটি আছে।
এই কমিটি গঠিত হয়- তালিকাভুক্ত রেডিও থেকে=১জন, টিভি থেকে=২জন, পত্রিকা থেকে=২জন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত এবং প্রকাশিত দুটি মাধ্যমের =২জন সর্বমোট (১+২+২+২)=৭জন কর্তব্যরত সিনিয়র/বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে।
তবে কেন্দ্রীয় আসন হিসাবে চিহ্নিত এলাকার অধীন কমিটিকে জাতীয় সাংবাদিক কমিটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত সিনিঃ সাংবাদিক বৃন্দই হন উক্ত এলাকার কমিটির সদস্য এবং উক্ত সদস্যদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই হন উক্ত কমিটির সভাপতি।
বুঝেছ কোন অসুবিধা?
হৃদয়-- না, অসুবিধা নেই বুঝলাম কিন্তু এটা একটু বুঝিয়ে দাও তো- কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে তা নির্ধারন করা হয় কীভাবে?
স্বপ্নিল-- বলছি মন দিয়ে শোন। এক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করে অনলাইনে জানিয়ে দেয়া হয় যে, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য সাংবাদিক কমিটি গঠিত হল কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে।
অর্থাৎ একটি নির্দেশে একই সাথে সারাদেশের কমিটিগুলো গঠিত হয়ে যায় এবং তাঁরা পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য তাঁদের স্ব স্ব এলাকায় দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
হৃদয়-- আচ্ছা বুঝলাম, তবে জবাবদিহির ব্যাপারটা এবার একটু বুঝাওতো।
জবাবদিহি শব্দটা শুনলেই মনে হয় কেউ হয়তো কোন অন্যায় করেছে, ভুল-ত্রুটি করেছে যেজন্য তাকে কারো নিকট সে অন্যায় বা অপরাধের কৈফিয়ত দিতে হবে।
তাকে তার অপকর্মের জবাব দিতে হবে। সত্যি বলতে কী এই শব্দটার অনেক গুরুত্ব! কিন্তু আজকাল আমাদের দেশে এর সার্বজনীন নিরপেক্ষ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ, কেউ যেন কারো নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য না বা জবাবদিহি করতে চায় না।
কোথাও কোন অন্যায় বা অপরাধ সংগঠিত হলেও হয়তোবা যথাযথ জবাবদিহি না করেই সে বা তারা পার পেয়ে যায়। আচ্ছা তোমাদের দেশে এই জবাবদিহির পদ্ধতিটা কিরূপ?
কীভাবে তা সম্পন্ন হয়? সে সম্পর্কে এবার একটু বলতো।
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বলছি শোন, একে একে সবই বলবো একটু ধৈর্য্য ধরে শুনতে হবে।
অল্পতে অধৈর্য্য হলে কিন্তু চলবে না। এক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি তোমাদের দেশের মতই, তবে আমাদের দেশে ঠিক যেভাবে প্রচলিত আছে সেটিই বলছি।
প্রথমতঃ যে কোন ছোট খাটো অন্যায় বা বিবাদের জবাবদিহিতা বা মীমাংসা করে থাকেন সংশ্লিষ্ট পাড়া / মহল্লা / ওয়ার্ড বা গ্রামের মাতব্বরগণই।
বেশিরভাগ ঝগড়া বিবাদের মিমাংশা আমাদের দেশে এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণই সমাধান করে দেন।
অর্থাৎ প্রথমে জবাবদিহি করতে হয় সংশ্লিষ্ট এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণের সম্মুখে । কোন কারনে তারা যদি অপারগতা প্রকাশ করেন বা যদি প্রয়োজন পড়ে তবে-
দ্বিতীয়তঃ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনের মাধ্যমে ...
চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনের মাধ্যমে বিবাদ নিষ্পত্তি বা মীমাংসা করা হয়।
এক্ষেত্রে একটি ইউনিক নম্বরযুক্ত আবেদনের অনুলিপি এবং গৃহীত ব্যবস্থার অনুলিপি পরিষদ, বাদী এবং বিবাদী সকলকে সংরক্ষণ করতে হয়,
যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (ভবিষ্যতে)বা যেকোন সময় তা সাংবাদিক কমিটি বা অন্য কোন পক্ষের নিকট উপস্থাপন করা যায়।
তবে পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থা যেন বিদ্যমান আইন এবং সংবিধান বহির্ভূত না হয় সে দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের উপরই থাকে।
কোন কারণে চেয়ারম্যান যদি বিবাদ মীমাংসায় অপারগতা প্রকাশ করেন বা প্রয়োজন মনে করেন তবে তিনি সেটি সাংবাদিক কমিটির নিকট হস্তান্তর করতে পারেন।
এক্ষেত্রে প্রথমে সেটি জেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি বরাবর প্রেরণ করতে হয়।
হৃদয়- - আচ্ছা বন্ধু তুমি প্রথম থেকে যে জবাবদিহি পদ্ধতির কথা বললে তেমন ব্যবস্থা তো আমাদের দেশেও আছে,
অবশ্য কিছু কিছু যায়গায় একটু ব্যতিক্রম, তবে এর মধ্যে আবার প্রেস ক্লাব সভাপতির কী ভূমিকা? কেমন যেন গোলমেলে মনে হচ্ছে একটু বুঝিয়ে বলবে দয়াকরে?
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বন্ধু আগে বুঝিয়ে বলার সুযোগ তো দাও। তোমাকে তো প্রথমেই বলেছি ধৈর্য্য ধরে শোন।
একে একে সমস্ত পদ্ধতিই তোমার নিকট বলছি, ঠিক যেমনভাবে আমাদের দেশে প্রচলিত আছে। যে কথা বলছিলাম- জেলা প্রেসক্লাব সভাপতি বরাবর আবেদন করতে হয়।
এরপর তৃতীয়তঃ অর্থাৎ সর্বশেষ ধাপে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সুপারিশ অথবা সুপারিশ ছাড়া প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রমাণপত্রসহ ফরিয়াদী/ জিজ্ঞাসু যে কেউ
সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেসক্লাবের সভাপতি বরাবর তার অভিযোগ উপস্থাপন করেন, কমপক্ষে ১টি সরাসরি টিভি সম্প্রচারের সম্মুখে।
প্রেসক্লাব সভাপতি বিষয়টি সাংবাদিক বৃন্দকে অবহিত করেন এবং পরবর্তী ৫ম দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকেন।
এরপর উক্ত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার কমপক্ষে ৩টি গণমাধ্যমে যেকোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে দোষী বা সন্দেহজনক যে কোন প্রতিবেদন প্রচারিত বা প্রকাশিত হলে অনধিক ৩য় থেকে ৭ম কার্যদিবসের মধ্যে
সরাসরি সম্প্রচারিত সাংবাদিক কমিটির সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের সম্মুখে উক্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে জবাবদিহি করতে হয়।
এতে ঐ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ যদি কমিটির দৃষ্টিতেও দোষী বা সন্দেহজনক বলে বিবেচিত হয় তবে কমিটি বাদী হয়ে তার বা তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন
এবং আইন ও সংবিধানের আলোকে তার পরবর্তী কার্য শুরু হয়।
এক্ষেত্রে কমিটির কমপক্ষে তিন চতুর্থাংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে অথবা কমিটি চাইলে জনমত যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বা আসনের RMM Vote এবং কমিটির সদস্যের মতামত একত্র করে অভিযোগটি আদালতে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।



Comments