হৃদয়ের সাথে আমার পরিচয় সেই ছোট থেকেই। আমরা পরস্পরের বন্ধু।
দুজনই খুবই সাধারণমানের জীবন যাপনে অভ্যস্ত। তবে আমার থেকে ওর কিছুটা পার্থক্য আছে;
যেমন- আমি সবকিছু মেনে নিয়ে / মানিয়ে নিয়ে সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে, বলতে পারেন তেলাপোকার মত যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকতে চাই;
যতটা সম্ভব গা বাঁচিয়ে, ঝামেলা এড়িয়ে চলাই আমার নীতি।
আর ‘ও’(হৃদয়) কিঞ্চিৎ প্রতিবাদী এবং সে সুবাদে বেশ আশাবাদী তথা স্বপ্নপ্রবণ।
তাছাড়া যেমন ধরুন আমার কাছে মনে হয় বা আমি বিশ্বাস করি- যেকোন কাজ করতে গেলে একটু আধটু ভুলত্রুটি হতেই পারে; এক্ষেত্রে ওতো নিখুঁত বা নির্ভুল হওয়ার কি আছে ?
কিন্তু না, তাতে ওর মন ভরে না; বলতে পারেন বেশ খুঁতখুঁতে স্বভাবের।
যেকোন কাজ যতটা সম্ভব নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে করার কী আপ্রাণ প্রচেষ্টা ওর!
সত্যি বলতে কী ‘ওর’ রুচী এমন স্তরের যা তার সাধ্যের সীমা অতিক্রম করেছে সেই ছোট বেলায়।
এখন দিন যত যায়- রুচী আর সাধ্যের মধ্যে ব্যবধান তত বাড়তে থাকে।
তবুও যতটা সম্ভব মেনে নিয়ে, মানিয়ে নিয়ে- এদু’য়ের মধ্যে এক প্রকার সমঝোতা করেই জীবন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে থাকে।
হৃদয় স্বপ্ন দেখতে খুবই ভালবাসে। মাঝে মধ্যে যেকোন বিষয়ে এমন অদ্ভুত ধরনের সব কথা বলে, এমনভাবে সবকিছু ভাবতে থাকে যা সত্যিই স্বপ্নের মতোই মনে হয়।
ইদানিং আমিও- কেন জানিনা ওর সুহৃদ তথা শুভাকাঙ্ক্ষী হতে চলেছি। ওর কথাগুলো আমারও কেন জানিনা ভাল লাগতে শুরু করেছে।
প্রায়ই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়, গল্পও হয় বিভিন্ন প্রসঙ্গে। ওর নিকট থেকেই শোনা এমনই এক বলতে পারেন অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর স্বপ্নদৃষ্ট গল্পকথা আজ আপনাদেরকে বলছি।
তবে, এপ্রসঙ্গে আরও একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কথা একটু বলা দরকার; ওর নাম স্বপ্নিল।
‘ও’-ই নাকি হৃদয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু; থাকে সুদূর দেশে।
দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব এতটা ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণ- দু’জনের চিন্তা-ভাবনা, চাওয়া-পাওয়া, মতামতের নাকি অদ্ভুত মিল!
তবে যতদূর শুনেছি সব ব্যাপারে স্বপ্নিল খানিকটা এগিয়ে। বিষয়টা এমন- যেন হৃদয়ের যত কথা, চিন্তা-ভাবনা, স্বপ্নগুলো স্বপ্নিলের নিকট নতুন কোন ব্যাপার নয়;
সমস্ত ব্যাপারে স্বপ্নিল পূর্ব থেকেই পরিচিত। সে যা-ই হোক, এবার আসল কথায় আসি।
এইতো কিছুদিন হল, প্রাতঃভ্রমণকালে হৃদয়ের সাথে স্বপ্নিলের হঠাৎ দেখা হয়, বলতে পারেন তার পর থেকেই হৃদয়ের মধ্যে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করি।
সর্বক্ষণ কী-যেন ভাবতে থাকে। মনে হয় কোন অন্য ভূবনের বাসিন্দা হয়ে গেছে। মাঝে মধ্যে বলে ওঠে ‘ সত্যি যদি এমনটি হ’তো !
সেদিন সুযোগ বুঝে জানতে চেয়েছিলাম এমন অদ্ভুত আচরণের কারণ। উত্তরে যা বলল- তা শুনে, আমি তো রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই !
তবে একটা কথা স্বীকার করতেই হয় যে, কথাগুলো শুনে আর কিছু না হোক- আমার মত (বাস্তববাদী/ হতাশাবাদীও বলতে পারেন) মানুষের মনের গহীনেও একটা স্বপ্নের বীজ অন্ততঃ প্রোথিত হয়েছে।
কথাগুলো যদিও অদ্ভুত, অবাস্তব, ভিত্তিহীন তবুও কেন জানিনা হৃদয়ের ঐ বাক্যটাই মাঝে মধ্যে আমারও মনের মাঝে অজান্তে উঁকি দিচ্ছে,
‘সত্যিই যদি এমনটি হ’তো!’ এক অদ্ভুত ভাললাগা, একটা স্বস্তি বা শান্তির আভাস পাচ্ছি।
সেই অদ্ভুত, অবাস্তব কথাগুলো, বলতে পারেন ওদের দুজনের কথোপকথোন যতটা সম্ভব হুবহু আপনাদের সম্মুখে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
সুধিজন তথা বন্ধুবর (হৃদয়) ভুলত্রুটি মার্জনীয় যদি কোন কিছু অতিরঞ্জিত বলে থাকি অথবা কোন কিছু বাদ পড়ে থাকে।
হৃদয়- আরে স্বপ্নিল! কতদিন পর দেখা; কেমন আছ বন্ধু? সব কুশল তো?
মনে মনে তোমাকেই খুঁজছিলাম, এতদিন কোথায় ছিলে?
[কথাগুলো হৃদয় এক প্রকার একদমে, দ্রুতলয়ে বলে গেল।
কাংক্ষিত মনের মানুষকে দীর্ঘদিন পর কাছে পেলেই হয়তো বাক্য এমন বাধাহীন, অসংযত হয়ে পড়ে।]
স্বপ্নিল-- আরে থামো-থামো, একটু দম নিয়ে নি।
হৃদয়- - তার মানে?
স্বপ্নিল-- মানে- তোমাকে একটু সহযোগিতা করি এই আর কি [বলে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে]
হৃদয়- -ও তাই, তাতো খুবই খুশীর কথা। তোমার সহযোগিতা, পরামর্শ আমার খুব দরকার। বলতে পারো আমাদের সকলেরই খুব দরকার।
স্বপ্নিল-- তাই নাকি! তা বেশ তো, বলো আর কী কী ভাবে তোমাকে বা তোমাদেরকে সহযোগিতা করতে পারি?
আমার পরামর্শ যদি তোমাদের এতটুকু উপকারে আসে মন্দ কী?
হৃদয়- - না- বিশেষ কিছু না, তবে তোমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই আমার কেবলই মনে হয়েছে-
' আমি এতদিন যাকে খুঁজেছি- তুমিই সেই।
' তোমার উপর আমার এমনই বিশ্বাস জন্মেছে যে, আমার চিন্তা-ভাবনা, আমার যত স্বপ্ন, আমার মনের যত চাওয়া,
আমার আবেগ, অনুভূতি, আমার উপলব্ধি, আমার যত না বলা কথা সবকিছু তুমি অল্পতেই বুঝে নিতে পারো।
আমার স্বপ্নগুলো সত্য হবে যদি তোমায় অনুসরণ করতে পারি।
সত্যি বলতে কি তোমার সাথে কথা বলে, মত বিনিময় করে আমি সামনে এগিয়ে চলার রসদ পাই, ভরসা পাই।
তাছাড়া আমার এমন ধারণাও জন্মেছে যে-
আমার ভাবনাগুলো যেখানে পথ হারিয়ে ফেলে, গন্তব্য খুঁজে পায় না- তুমি সেখানে নিত্য বিচরণ কর।
স্বপ্নিল-- আচ্ছা, তোমার কথাই মেনে নিলাম; কিন্তু আমায় একটা কথা বলতো-
আমি কী এমন করেছি- যে আমার সম্পর্কে তোমার এমনটিই মনে হচ্ছে?
তাছাড়া কী এমন বিষয় নিয়ে ভাবছ যে-
এই সুন্দর মনোরম নিরিবিলি পার্কের মধ্যেও তুমি দিশাহারা হয়ে পড়ছ, তোমার ভাবনাগুলো পথ হারিয়ে ফেলছে?
আর তাছাড়া তোমার গন্তব্যই বা কোথায়, তোমার উদ্দেশ্যই বা কী-
যা অর্জনে আমি তোমায় সাহায্য করতে পারব বলে তোমার এমন দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে?
যদি একটু সহজ করে বলো.......
হৃদয়- - দেখ বন্ধু তোমার মনে আছে কি-না জানিনা, কিন্তু আমার বেশ ভালোই মনে আছে।
একটা মুদির দোকানে সাবান কেনাকে কেন্দ্র করে তোমার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ হয়।
তুমি দোকানদারকে একটা A+ গ্রেডের গায়ে মাখা সাবান দিতে বলেছিলে।
তুমি নিজেও হয়তো ভুলে গিয়েছিলে যে, এটা তোমাদের দেশ না-
আর দোকানদারের অবস্থা তো আরও খারাপ; সে কি বলবে- কি করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না।
শেষে আমি এসে দুজনের মাঝে একটা সমঝোতা করে দিয়েছিলাম।
আর- বলতে পারো তার পর থেকেই তো আমি তোমার একজন ভক্ত হয়ে গেলাম।
এবং তোমার আন্তরিকতার ফলশ্রুতিতে এখন তোমায় বন্ধু বলতে সাহস পাই।
আচ্ছা, সেই সাবানের ব্যাপারটা আমায় পরে বিস্তারিত জানাবে বলেছিলে; এখন কি তোমার হাতে সময় আছে?
তোমার সাথে গল্প করতেও ভাল লাগে।
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ হৃদয়, আমি বেশ কিছুদিন ছুটি ভোগ করার সুযোগ পেয়েছি।
বলতে পারো বেশ কিছুদিন তোমাদের সাথে সময় কাটানোর জন্যই এসেছি। কারণ তোমার অনুরোধগুলো আমার মনে আছে;
তুমি চাইলে এখনই আমাদের দেশ সম্পর্কে, দেশের চমৎকার যে কোন বিষয় সম্পর্কে যা খুশি জানতে পারো;
আমি যতদুর জানি তোমায় তা জানানোর বা বুঝানোর চেষ্টা করব। এখন বলো- আগে কোন বিষয়ে শুনতে চাও?
সাবানের গল্প না অন্য কিছু?
হৃদয়- - আচ্ছা সাবানের কথাই যখন উঠল তখন সেটা দিয়েই শুরু করো।
তুমি বলছিলে A+ গ্রেডের সাবান; এব্যাপারে তোমার বিস্তারিত কি জানানোর আছে সেটাই বলো।



Comments