স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত, এব্যাপারে আপনিও আপনার মতামত দিতে পারেন ।



অধ্যায় ৯ :
RMM Vote – Registered Mobile Message Vote

পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু, একজন ভোটার যদি দুইবার ভোট প্রদান করে তাহলে মোট ভোটার-এর সংখ্যা কিভাবে ঠিক থাকবে? তাছাড়া কোন নির্বাচনী আসন থেকে যদি একাধিক প্রার্থী চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় তাঁদেরকে বাছাই করার ব্যাপারটাও ঠিক বুঝলাম না- একটু বুঝিয়ে বলবে ?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু তোমার দুটো প্রশ্নেরই উত্তর দিচ্ছি মন দিয়ে শোন। প্রথমতঃ চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়নের আবেদন পত্র জমা দেয়ার সাথে সাথেই একটা ক্রমিক নং পড়ে যেটা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রাক নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট এরিয়ার আগ্রহী প্রার্থীর প্রতীক হিসাবে গণ্য হয়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এরিয়ার/ আসনের RMM Voter গণ উক্ত ক্রমিক নং উল্লেখ করে তাদের RMM ভোট প্রদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত ৭ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করে থাকেন। Sopnopuri_images
এব্যাপারে পরে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে এখন আপাতত এটুকু জেনে রাখো ।

দ্বিতীয়তঃ ব্যালট ভোটার এর মোট সংখ্যার ৬০% এবং RMM Voter এর মোট সংখ্যার ৪০% এই মোট ১০০% হিসাবে গণ্য করা হয়। এসংক্রান্ত একটা খসড়া হিসাব পদ্ধতি আমার নিকট আছে তুমি চাইলে দেখতে পারো। এছাড়া তুমি চাইলে এই লিংকে ক্লিক করে যেকোন সময় যেকোন যায়গা থেকে দেখে নিতে পারো। তবে বলে রাখি এক্ষেত্রে RMM Vote প্রধান সার্ভারে সয়ংক্রিয়ভাবে জমা হতে থাকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এবং প্রধান সার্ভারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কম্পিউটারের তথ্য হুবহু অর্থাৎ স্ক্রিন শট আকারে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার্ড ইমেইল-এ পাঠিয়ে দেন যা দেখে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা পরবর্তী সিস্টেমে উক্ত তথ্য এন্ট্রি দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ Ballot Vote এর ফলাফল নির্বাচন কমিশন নিজ তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ করেন এবং উক্ত স্ক্রিন শট এর তথ্য থেকে RMM Vote এর তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে এন্ট্রি দিয়ে থাকেন। আর এভাবেই আমরা প্রতিটি নির্বাচনী আসনের বিজয়ী জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত করে থাকি। তবে সবকিছু যাতে সয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় তার জন্য কাজ চলছে। এসংক্রান্ত দুটি নমুনাই আমার নিকট আছে দেখ- Sopnopuri_images

প্রথমটা মূল সার্ভার থেকে প্রাপ্ত RMM Vote এর ফলাফল, আর দ্বিতীয়টা ব্যালট ভোট এর থেকে পাওয়া তথ্য ও RMM Vote এর তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি দেওয়ার পর এরিয়া কোড অনুযায়ী অর্থাৎ নির্বাচনী আসন অনুযায়ী নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রার্থীর নির্বাচনী ফলাফল।

Sopnopuri_images

হৃদয়- বাঃ খুব ভালো, আচ্ছা বন্ধু ব্যালট ভোট ৬০% এবং RMM Vote ৪০% এমনটা কেন?

স্বপ্নিল- দেখ বন্ধু সকলের জন্য একই নিয়ম বলে এব্যাপারে কেউ কোন আপত্তি করেনা। তাছাড়া বিজ্ঞজনেরা আপাতত এমন সিদ্ধান্তেই একমত হয়েছেন।

হৃদয়- আচ্ছা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের পদ্ধতির সাথে তো পরিচিত আছি কিন্তু চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে RMM Vote প্রদানের ব্যাপারটা আরও একটু বিস্তারিত বলতো।

স্বপ্নিল- দেখ এব্যাপারে আমি যতটুকু জানি তা হলো- আমরা যে মতামত বা RMM Vote তথা SMS গুলো পাঠাই তা সরাসরি এরিয়া কোড অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাগে নির্বাচন কমিশনের প্রধান সার্ভারে তথা তথ্য ভান্ডারে জমা হয়। এবং সাথে সাথে এরিয়া অনুযায়ী RMM Vote এর সার সংক্ষেপ দেখা যায়। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সেটি প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় দেখানো হয়- এবং একটি নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেলে এবং বেসরকারি অন্যান্য টিভি চ্যানেলের মাধ্যমেও তা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এছাড়া ব্যালট ভোটের তথ্যও নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সংগ্রহ করে সার্ভারে এন্ট্রি দিয়ে দেওয়া হয় এবং সেটিও একই সাথে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় এবং টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা প্রয়োজন আর তা হলো, যে সমস্ত নির্বাচনি ভোট কেন্দ্রগুলো আবেদনের প্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় সেসমস্ত কেন্দ্রের ভোটপ্রদানসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক সিকিউরিটি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয় যা মোবাইল অ্যাপস এর মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনের দপ্তর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এবং এর মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী চিত্র সরাসরি সম্প্রচার করা হয় সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য।

RMM Vote নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। তবে সেক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখের ১দিন পূর্বেই Vote প্রদানের সতর্কীকরণ সংকেতস্বরূপ একটি SMS আসে নির্বাচন কমিশন থেকে। উক্ত SMS-এ RMM Vote-এর জন্যও একটা নির্দেশনা থাকে অর্থাৎ কিভাবে পাঠাতে হবে, কোন নং এ পাঠাতে হবে, উদ্দেশ্য কোড, তাছাড়া সংশ্লিষ্ট এরিয়ার প্রার্থীগণের তালিকাও ক্রমানুসারে SMS-এ উল্লেখ থাকে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে নমিনেশন পত্র জমা দেওয়ার সময়ই তাঁর ক্রমিক নং এবং এরিয়া কোড নির্দিষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া কীভাবে পাঠাতে হবে তা সংক্ষেপে বলতে গেলে এরকম- Name SL “_” _ Purpose Vote Code “_” _ Send to “Area Code “_” অর্থাৎ

মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে যাকে ভোট করতে চাই তাঁর ক্রমিক নং লিখতে হয় অর্থাৎ এক্ষেত্রে উক্ত ক্রমিক নং-ই উক্ত প্রার্থীর প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হবে- এরপর উদ্দেশ্য কোড অর্থাৎ কি উদ্দেশ্যে ভোট করছি সেই ইউনিক কোড নং উল্লেখ করতে হয়- এরপর প্রত্যেকের যে নির্দিষ্ট এরিয়া কোড উল্লেখ করা থাকে সেই নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হয়। এখানে একটা কথা বলে রাখি, যেসমস্ত নির্বাচনি আসনে প্রাক নির্বাচনের প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রেও একটি ইউনিক উদ্দেশ্য কোড/ Purpose Vote Code সেট করে সেটিও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেয়া হয়।

হৃদয়- আচ্ছা বুঝলাম কিন্তু দুইটা প্রশ্ন আর তা হল কেউ যদি এরিয়া কোড ভুল করে অথবা অন্য কোন এরিয়া কোড দিয়ে SMS পাঠায় অথবা একাধিকবার SMS পাঠায় তবে কি একটি মোবাইল নং দিয়ে একাধিক আসনের জন্য ভোট করা যাবে? বা একই আসনে একাধিক ভোট দেওয়া যাবে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু খুব ভাল প্রশ্ন করেছ। তোমার প্রশ্নের উত্তর হল কেউ যদি এরিয়া কোড বা উদ্দেশ্য কোড ইচ্ছাকৃ্ত বা অনিচ্ছাকৃত ভুল করে SMS পাঠায় তবে উক্ত RMM Vote টি ব্যর্থ হবে অর্থাৎ পাঠালে Sending Fail আসবে । কারণ এমন ব্যবস্থা করা আছে যাতে উক্ত নং নিবন্ধন করার সময় যে এরিয়া কোড নির্দিষ্ট করা ছিল সেই নং এর সাথে মিল না থাকলে RMM Vote করা যাবে না। তাছাড়া এমন ব্যবস্থাও করা আছে যাতে একটা Purpose vote code (উদ্দেশ্য কোড) এর বিপরীতে

একটা মোবাইল নং দিয়ে একটাই RMM Vote করা যায় বিনামূল্যে। আর এভাবেই আমরা সকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তথা জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও RMM Vote প্রদান করে থাকি।

হৃদয়- বাঃ তোমাদের দেশের সকল ব্যবস্থাইতো দেখছি বেশ ব্যতিক্রমধর্মী এবং নিশ্চয়ই সকলের জন্যও খুব কল্যাণকর? এমনিভাবে সবকিছুই যদি নিরপেক্ষভাবে পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই তোমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নতি অতি দ্রুততার সাথেই ঘটবে এতে আর সন্দেহ কি! নিশ্চয়ই তোমাদের দেশটাও খুবই সুন্দর?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ অবশ্যই সুন্দর। বলতে ভালই লাগে এবং সত্যি বলতে কি- নিজের দেশের সম্পর্কে ভালো কথা বলতে সবারই গর্ব হয়।

হৃদয়- কেমন সুন্দর তোমাদের দেশ? যদি সংক্ষেপে বলতে বলা হয়- কি বলবে?

স্বপ্নিল- সংক্ষেপে বলতে গেলে বলতে হয়- প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ, সবুজে ঘেরা উর্বর ভূমি, সাগর-নদী-পাহাড় সবই আছে। আছে আধুনিক জীবন যাপনের সকল উপাদান, আছে সভ্য, সুশৃঙ্খল সদা সুখি মানুষ।

হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু আমাদের দেশেও তো এর প্রায় সবই আছে, তবুও আমরা কেন তোমাদের মতো নই? আমাদের কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে বলে তুমি মনে করো?

স্বপ্নিল- – হ্যাঁ বন্ধু, অপ্রিয় হলেও সত্য কথা এই যে, তোমাদের অনেক কিছুরই ঘাটতি আছে। পত্র-পত্রিকা দেখে এবং লোকমুখে যে সমস্ত কথা কানে আসে তাতে মনে হয় তোমাদের পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস ও সহানুভূতির যথেস্ট অভাব আছে। আছে ঐক্যের অভাব, শৃঙ্খলার অভাব, আছে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও কৌশলের অভাব। আছে যথাযথ প্রয়োগের অভাব, সেই সাথে তদারকির অভাব। এক কথায় ইতিবাচক মানসিকতার অনেক ঘাটতি আছে। সেই সাথে নেতিবাচক মানসিকতার আধিক্য।

হৃদয়- কিন্তু বন্ধু, আমি তোমার কথাগুলোর সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারলাম না। তুমি আমার দেশের সকল মানুষের সম্পর্কে এমন ঢালাওভাবে যে অভিযোগগুলো করলে তার সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য আমিই যথেষ্ট। কারণ আমি যতদূর জানি বা আমার যতগুলো মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে- তাদের প্রায় সকলেরই মানসিকতা ইতিবাচক। তবে হ্যাঁ- আমি স্বীকার করছি যে, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তোমার কথাগুলো একদম ঠিক।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ হৃদয়- আমি সেই মুষ্টিমেয় মানুষদের কথাই বলছি- যাদের সদিচ্ছার উপরই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তথা সাধারণ জনসাধারণের সামগ্রিক স্বস্তি নির্ভর করে। আবার তাদেরই সদিচ্ছার অভাবের কারণেই সেই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকেই সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

হৃদয়- কিন্তু বন্ধু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বা হচ্ছে, ঠিক এই বিষয়টাই মেনে নিতে মনে চায় না। বলতে পারো- এরই সমাধান আমি নিরন্তর খুঁজে চলেছি। তাছাড়া জনগণই যদি সকল ক্ষমতার উৎস হয়- তবে তারা কেন ভোগান্তির শিকার হবে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের দ্বারা? আমার বিশ্বাস তোমার নিকট এর নিশ্চয়ই কোন সমাধান আছে।

স্বপ্নিল- দেখ বন্ধু আমার নিকট এর কোন সমাধান আছে বলে আমি মনে করি না। সমাধান যদি কিছু থেকেই থাকে তবে তা তোমাদের নিকট আছে অর্থাৎ জনগণের হাতে। আচ্ছা হৃদয় “জনগণ যে সকল ক্ষমতার উৎস” তা তোমার দেশের প্রেক্ষাপটে একটু বুঝিয়ে বলো তো।

হৃদয়- কেন, এই সহজ বিষয় তোমাকে আবার বুঝানোর কী আছে? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের পছন্দ মত রাজনৈতিক প্রার্থীকে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে জয়যুক্ত করি। সমগ্র দেশ থেকে এমনিভাবে যোগ্য পছন্দের রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং তাঁরা আমাদের প্রতিনিধি হিসাবে জাতীয় সংসদে দায়িত্ব পালন করেন, আমাদের চাওয়া-পাওয়া অধিকারের কথা বলেন, আমাদের সুবিধার জন্য আমাদের প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেন এবং আমরা সেই আইন তথা সংবিধান অনুযায়ী শাসিত হই।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু- খুবই সুন্দর ব্যবস্থা। তোমার কথা অনুযায়ী পদ্ধতিগতভাবে সবই ঠিক আছে, কোথাও কোন আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু হৃদয়- একটু ভেবে দেখ তো, তুমি নিজে কতটুকু তোমার চাওয়া-পাওয়া অধিকারের বাস্তবায়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছ? তোমার বাস্তবতা কীধরনের সাক্ষ্য বহন করে?

হৃদয়- [হৃদয় মনে মনে ভাবে একজন শান্তিপ্রিয়, অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষ হিসাবে আমি বা আমার মত অনেকেই মোটেও তেমন বাস্তবতার মধ্যে নেই। সেই কবে কিছুদিনের জন্য সমাদৃত হয়েছিলাম। কত ভালো ব্যবহার; কত পরিকল্পনা; কত প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি। সেই যে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদান করেছি তার পর থেকে মনে হয় আমাদের সাথে তানার আর কোন সম্পর্ক নেই। আপাততঃ তানার কাছে আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়। এখন দৈনন্দিন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই জীবন অতিবাহিত হচ্ছে।] তোমার প্রশ্নের উত্তরের সাথে মিল আছে এমন একটা কবিতা লিখেছিলাম এক সময়, শুনবে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ শোনাও।

হৃদয়- এর একটা নামও দিয়েছিলাম; “টাকা” শোন তাহলে-
“টাকা”
ওহে টাকা, আমাদের-এ ছোট্ট কুড়েঘরে-
তোমাদের কী এতটুকু সময়ও থাকতে ইচ্ছে হয়না?
অথচ ব্রিফকেসে, লোহার সিন্ধুকে বা আলমারি দেরাজে-
চাপাচাপি করেও থাকতে তোমাদের কোন আপত্তি নেই?
না-কী তোমারা গরু, মহিষ আর মাছের ঝাঁকের মত-
দলবেঁধে, ঝাকবেঁধে থাকতে ভালবাস?
আর তাইতো কখনও বা ভুলকরে- দু’একটা আমাদের কাছে এলেও-
বেশিক্ষণ থাকাটা তোমাদের- ‘ডাঙ্গায় তোলা মীনের মত’লাগে !
আর তাইতো- যতদ্রুত সম্ভব; আমাদেরকে নিয়ে যাও-
মুদীর দোকান, ডাক্তারখানা বা অন্যের নিকট- ধার শোধ করাতে।
অথচ তোমারই পাওয়ার আশায়; বহুফোটা ঘাম আর তাগাদায়-
জীবনটা দুর্বিসহ মনে হয়;
কেউ কেউ ক্ষোভে, দুঃখে- ভিন্ন পথ বেছে নেয়।

কারণ শুধু তোমারই জন্য, হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য-
আজ- কারো চিকিৎসা হচ্ছে না;
কারো ঠাঁই হচ্ছে গাছতলা, রেলস্টেশন, বস্তি আর ফুটপাতে;
আবার তুচ্ছ ব্যাপার নিয়ে- কেউবা দশতলায় পার্টিতে করছে ফূর্তি।
হ্যাঁ শুধু তোমারই জন্য- কারও বা অর্ধ্যেক পথেই পড়ালেখা বন্ধ হতে চলেছে।

আচ্ছা, তোমরা কি ভেঙে-চুরে আসতে পারোনা আমাদের কাছে-
যারা তোমায় পাওয়ার আশায় প্রহর গোনে;
যারা মাথার ঘামে সিক্ত করে মাটি,
কেউবা পড়াতে যেয়ে ঘন ঘন দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে?

কিন্তু না, তোমরা তা করতেই পারো না; কারণ-
তোমরা তো নিজেরাই খারাপ, আর তাই-
অন্যায়ভাবে যারা তোমাদেরকে সংগ্রহ করে-
তাদের কাছেই থাকতে তোমাদের বেশি পছন্দ।

স্বপ্নিল- বাঃ! বেশ ভালইতো লিখেছ বন্ধু।

হৃদয়- ধন্যবাদ, তবে এছাড়াও কঠিন বাস্তবতা আছে যা সর্বসাধারণকে প্রায়শই পোহাতে হয়, যেমন-

প্রথমতঃ জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম, দুর্ণীতি, বা প্রতারণার শিকার হতে হয় প্রায়শই।

দ্বিতীয়তঃ বিরোধী রাজনৈতিক দল যখন হরতাল আহ্বান করে- তখন একযোগে শুরু হয় সারাদেশব্যাপী জ্বালাও, পোড়াও, গাড়ী ভাঙ্গচুর, অগ্নিসংযোগ, ইত্যাদি;

অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে দমন, পীড়ন, গ্রেফতার, মামলা- এককথায় দেশব্যাপী অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়; ফলশ্রুতিতে দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি তো হয়ই, সাথে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ।

এছাড়াও জবর দখল, টেন্ডারবাজী, সিন্ডিকেটের কুপ্রভাব, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, হত্যা প্রভৃতির খবর তো প্রায়শই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় দেখতে পাই। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এই যে এতকিছুর পরেও এধরনের সংস্কৃতি বা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নেই কোন দৃশ্যমান কার্যকরী পদক্ষেপ। এসমস্ত অরাজকতা নিয়ে সাধারণ জনগণ তথা সেই বৃহত্তর ক্ষমতাধর গোষ্ঠীরও কোন মাথাব্যথা নেই। তাছাড়া এতকিছুর পরেও মনে হয় –এনিয়ে জবাবদিহি করার বাধ্যবাধকতা বা নিরপেক্ষভাবে কৈফিয়ত চাওয়ার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। আচ্ছা বন্ধু, তোমাদের দেশেতো নিশ্চয়ই এসকল অরাজকতা নেই, তাই না?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু, আমাদের দেশে এসকলের কোন কুপ্রভাব নেই। তবে এমনটা যে ছিল না, তা কিন্তু নয়।

হৃদয়- তার মানে?

এরপর- অধ্যায় ৯ : এর অবশিষ্ট বিবরণ

Comments


স্পষ্টীকরণ (Disclaimer)=> এই গ্রন্থ “স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী”–তে বর্ণিত দেশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নীতি, আইন, চরিত্র, সংলাপ, সংগঠন ও ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক এবং সাহিত্যিক বিন্যাসে উপস্থাপিত। বাস্তব কোনো রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত।

* * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।