পূর্ববর্তী বিবরণের পর-
হৃদয়-- হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই বলেছ। আমাদের দেশেতো এটা একটা বড় সমস্যা।
প্রান্তিক কৃষকেরা অনেক পরিশ্রম করে পণ্য উৎপাদন করে ঠিক; কিন্তু তার সুফলটা তাঁরা ভোগ করতে পারেনা- মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের (আড়ৎদার/পাইকারী ব্যবসায়ী) দৌরাত্বের কারণে।
সর্বশেষ ভোক্তাদেরও পণ্যটি কয়েকগুন বেশি মূল্য দিয়েই কিনতে হয় বটে, কিন্তু এই অতিরিক্ত মুনাফাটা ভোগ করে মধ্যস্বত্ত্বভোগী (আড়ৎদার, পাইকারী ব্যবসায়ী)
যারা এব্যাপারে তেমন পরিশ্রমই করে না। এটা সম্ভব হয় শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সরকারের বিশেষ তদারকি এবং সুষ্ঠু-সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই।
তবে আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যে খুব খারাপ তেমনটি না। বা নতুন রাস্তাঘাট নির্মাণ বা মেরামত করা হয়না তাও কিন্তু না।
তবে সমস্যাটা হল এত এত রাস্তাঘাট ফ্লাইওভার থাকা সত্ত্বেও গ্রামের সাথে শহরের সম্পর্ক যেন বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে উঠেছে; কারণ যানজট।
এই যানজট যেন কোনভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এতে করে আমাদের দৈনিক প্রচুর শ্রমঘন্টা যেমন নষ্ট হচ্ছে; তেমনি হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানী নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটে।
তাছাড়া রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বা মেরামতের অল্প সময়ের মধ্যেই কেন-জানিনা নষ্ট হতে শুরু করে।
এক্ষেত্রে নির্মাণ ব্যয় যে কম করা হয় তাও কিন্তু না; তবে অভিযোগ শোনা যায়- এক্ষেত্রে নাকি যথাযথ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয় না।
এককথায় দরপত্র প্রদান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন প্রকার অনিয়মের কথা শোনা যায়।
আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশে কি এমনটি হয়?
স্বপ্নিল- দেখ যানজটের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বাধ্যবাধকতা আছে- যার কারণে আমরা খুব বেশি ভোগান্তির শিকার হই না।
যেমন- প্রথম কথা হলো (সাধারণ থেকে ভি.ভি.আই.পি) সকলকে আন্তরিকতার সাথে ট্রাফিক আইন পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে।
তাহলেই সমস্যার অধিকাংশ সমাধান হয়ে যাবে। এছাড়াও বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ আছে যেমন- বিভিন্ন ধরণের যানবাহনের চলাচলের সময়ের একটা বাধ্যবাধকতা আছে,
একপ্রকার রুটিন অনুসরণ করতে হয়; আবার রুটের একটা বাধ্যবাধকতা আছে। (অবশ্য বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমতি সাপেক্ষে ব্যতিক্রমও আছে)।
উদাহরণস্বরূপ- সন্ধ্যা ৭.০০টা এর পূর্বে সপ্তাহের নির্দিষ্ট ছুটির দিন ব্যতীত সকল প্রকার প্রাইভেট কার অর্থাৎ ব্যক্তিগত গাড়ী ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট সড়কে প্রবেশ করতে পারবে না।
(অবশ্য এক্ষেত্রে ভিভিআইপি তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগণের গাড়ী আওতামুক্ত)।
দ্বিতীয়তঃ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ নিরাপত্তা সম্বলিত অত্যাধুনিক বাস সার্ভিস (কমপক্ষে তিনটি ক্যাটাগরির বাস যেমন- উন্নত, খুবই উন্নত এবং ভিভিআইপি-র জন্য) চালু করা এবং এসমস্ত সড়কে সাধারণ মানের যানবাহন (যেমন- রিকশা, নিম্নমানের বাস বা মিনি বাস, সি.এন.জি. ইত্যাদি) প্রবেশ নিষিদ্ধ।
তৃতীয়তঃ প্রতিটি যানবাহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাউন্টার ব্যতীত অন্য কোথাও থেকে যাত্রী ওঠানো বা নামানো আইনত দণ্ডনীয়। চতুর্থতঃ সুনির্দিষ্ট অনুমোদিত কারণ ব্যতীত অননুমোদিত জায়গায় গাড়ী পার্কিং করা বা থামানো আইনত দণ্ডনীয়।
এছাড়াও সড়ক বিভাগ এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও বিভিন্ন নিয়ম কানুন আছে সেটা আমার জানা নেই।
এসকল বিধিনিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে আমারা বেশ ভালোভাবেই চলাচল করতে পারছি; এগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করে তোমরাও এব্যাপারে আমাদের মত ভালোই সুফল পেতে পারো।
হৃদয়-- বাঃ খুবই ভালো উদ্যোগ। যানজট নিরসনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশেও নিশ্চয়ই এধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কাজে আসলেও আসতে পারে।
আচ্ছা এবার দরপত্রের ব্যাপারে তোমাদের দেশে কিধরণের ব্যবস্থা আছে যদি একটু বলো।



Comments