স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী

• কথোপকথনের মাধ্যমে নির্মিত একটি বিকল্প রাষ্ট্রদর্শন
• আর প্রতিটি কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরা একটা পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–পরিকল্পনা

এটা সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত, এব্যাপারে আপনিও আপনার মতামত দিতে পারেন ।



অধ্যায় ১১ :
প্রধানমন্ত্রী, উপ–প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী নির্বাচন

পূর্ববর্তী বিবরণের পর-

হৃদয়- কিন্তু একটা কথা বলতো- তোমাদের দেশে কোন রাজনৈতিক দলই নেই তাহলে সরকার গঠন করে কারা? তাছাড়া প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী নির্বাচনের জন্য তোমরা কী করো? নিশ্চয়ই খুব জটিল কোন ব্যবস্থা হবে তাইনা ?

স্বপ্নিল- আচ্ছা বন্ধু তোমার কী ধারণা আমাদের দেশে কোন সরকার নেই? প্রধান মন্ত্রী, মন্ত্রী ছাড়াই আমাদের দেশ চলছে? না; আমাদের সকল ব্যবস্থাই আছে এবং খুবই সুন্দর পন্থায় আছে।

হৃদয়- কিরকম? একটু বুঝিয়ে বলতো। তোমাদের ওখানে সরকার গঠিত হয় কিভাবে, তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা কীভাবে নির্বাচিত হন?

________________________________________
সংসদ গঠন থেকে শুরু

স্বপ্নিল- হ্যাঁ, বলছি।
আমাদের দেশে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হন, তাঁদের সকলকে নিয়েই সরকার গঠিত হয়। আমাদের দেশে আলাদা করে “বিরোধী দল” নামে কোন দল নেই। তবে এ–রকম হয় যে, যখনই কোন জাতীয় ইস্যু বা সিদ্ধান্ত সংসদে আনা হয়, তখন যেসব জনপ্রতিনিধি সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, তাঁরাই আসলে তখন বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করেন। অর্থাৎ বিরোধিতা, সমালোচনা, প্রশ্ন তোলা – এগুলোও দলবিহীন সংসদের স্বাভাবিক অঙ্গ, কিন্তু সেটা হয় ইস্যুভিত্তিক, দলভিত্তিক না। এই সকল বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরা–ই তাঁদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং উপ–প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে থাকেন।

হৃদয়- তোমাদের দেশে কী উপ–প্রধানমন্ত্রীও আছে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ, আছে। আমাদের বিজ্ঞজনেরা হয়তো মনে করেন – প্রধানমন্ত্রীর একজন একান্ত সহকর্মী থাকলে ভাল হয়; কাজের চাপ, বিদেশ সফর, অসুস্থতা, ছুটি কাটানো ইত্যাদি জরুরী প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিত থাকলে যেন নির্বিঘ্নে সকল কার্য সম্পন্ন হতে পারে তার জন্য আমাদের দেশে উপ–প্রধানমন্ত্রী পদও আছে। ______________________________________
বিজয়ী এমপিদের ক্রমিক নং–ই প্রতীক

হৃদয়- আচ্ছা বুঝলাম, এবার পদ্ধতিটা একটু খুলে বলো।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ, শোনো – এক্ষেত্রে প্রথমে যে কাজটা করা হয় তা হলো, আগে প্রাপ্ত নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি নির্বাচনী আসনে বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী প্রকাশ করা হয়।
এক্ষেত্রে একটা বিষয় উল্লেখ্য – উক্ত ক্রমিক নম্বরটাই ওই জনপ্রতিনিধির প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হয়।
অর্থাৎ ধরো, একজন জনপ্রতিনিধি তালিকায় ০১৭ নম্বর ক্রমিক পেয়েছেন। ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ ভোট–ব্যবস্থা, যেমন প্রধানমন্ত্রী–উপ–প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় তাঁকে শনাক্ত করা হবে এই ০১৭ নম্বর দিয়েই।

________________________________________
এমপিদের RMM Vote দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও উপ–প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন
এরপর প্রত্যেক বিজয়ী জনপ্রতিনিধি (এমপি) তাঁর পছন্দের দুইজনের ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করে, অর্থাৎ–
• একটি ক্রমিক নং প্রধানমন্ত্রীর জন্য,
• আরেকটি ক্রমিক নং উপ–প্রধানমন্ত্রীর জন্য,
একটি RMM Vote (Registered Mobile Message Vote) পাঠান।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, SMS–এর ধরনটা অনেকটা এমন হয়–
{SL No. “–” , SL No. “–” – Purpose Vote Code “–” – Send to Area Code “–”}
অর্থাৎ, প্রতিটি জনপ্রতিনিধি একটিমাত্র RMM Vote–এর মাধ্যমে দুইটি ক্রমিক নম্বর নির্বাচন করেন –
একটি তাঁর মতে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে,
অপরটি উপ–প্রধানমন্ত্রীর জন্য।
এরপর নির্ধারিত সময় শেষে, মূল সার্ভারে জমা হওয়া সকল RMM Vote বিশ্লেষণ করা হয়।
• যে ক্রমিক নং সর্বোচ্চ ভোট পায়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
• এবং এরপর যে ক্রমিক নং পরবর্তী সর্বোচ্চ ভোট পায়, তিনি উপ–প্রধানমন্ত্রী হন।

হৃদয়- আচ্ছা, যদি কোনভাবে শীর্ষ দু’টা ক্রমিক নম্বর সমান সংখ্যক ভোট পেয়ে যায়, তখন তোমরা কীভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাও?

স্বপ্নিল- দেখো, আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এমনটি ঘটেনি। তবে যদি কখনও এমনটা হয়ও, তবে সে–ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের RMM Vote–এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা আছে।
অর্থাৎ প্রয়োজন দেখা দিলে –
“জনপ্রতিনিধিদের ভিতরের ভোট”–এর পর
“সরাসরি জনগণের ভোটে”–ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা যায়।
এতে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে না কারও।

হৃদয়- বাঃ! খুব সুন্দর ব্যবস্থা। জনগণই প্রত্যক্ষভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে – এটাতো আরও ভালো কথা।

________________________________________
মন্ত্রী নির্বাচন – সফটওয়্যার, MCQ ও পয়েন্ট সিস্টেম

হৃদয়- এবার বলো, তোমাদের সরকারের মন্ত্রী বা মন্ত্রণালয় ঠিক করা হয় কীভাবে?
একেকজন তো একেক বিষয়ে দক্ষ – কার হাতে কোন মন্ত্রণালয় যাবে, এটা ঠিক করাটা তো অনেক দায়িত্বের কাজ।

স্বপ্নিল- এক্ষেত্রে আমাদের খুবই সুন্দর একটা ব্যবস্থা আছে।
আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের প্রাথমিক যোগ্যতা জনগণের সামনে প্রমাণ সাপেক্ষে কাংক্ষিত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে থাকেন।

হৃদয়- ঠিক বুঝলাম না। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার আগেই তিনি কীভাবে তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ দেবেন? একটু বিস্তারিত বলো।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ, বলছি। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, আর তাঁকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে একটা অত্যন্ত উন্নত সফটওয়্যার সিস্টেম।
এই সফটওয়্যারটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বেই হাজার হাজার MCQ প্রশ্ন সেট করে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়। পরবর্তীতে, এর সাহায্যেই আগ্রহী মন্ত্রীদের যাচাই–বাছাই করা হয়।

________________________________________
প্রশ্নের ধরন ও সময়সীমা

হৃদয়- আচ্ছা, বিষয়টি কি সকলে ভালোভাবে নিয়েছে? এটাতো কিছুটা মান–হানিকর বলে মনে হচ্ছে। তাঁরা এটিকে কীভাবে নেয়?

স্বপ্নিল- দেখ হৃদয়, আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা দেশ–সেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতিতে আসেন।
তাঁরা চান – সবচেয়ে যোগ্য লোকই যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান; যাতে তাঁদের সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশ সামনে এগিয়ে যায়, জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ সাধিত হয়।
এই–কারণে সফটওয়্যার–ভিত্তিক পরীক্ষা বা মূল্যায়নকে তাঁরা “অসম্মান” নয়, বরং স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রমাণের সুযোগ হিসেবে নেন।

হৃদয়- বাঃ, খুব ভালো কথা। এবার পুরো প্রক্রিয়াটা একটু সংক্ষেপে বলো।

স্বপ্নিল- শোনো।
আমাদের দেশে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা নির্দিষ্ট। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তথ্য–সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট আছে।
এখন, একজন জনপ্রতিনিধি যদি মন্ত্রী হতে আগ্রহী হন, তিনি সর্বোচ্চ চারটি মন্ত্রণালয় নির্বাচন করে, তাতে তাঁর প্রাথমিক যোগ্যতা প্রমাণ করার সুযোগ পান।
প্রথম ধাপে তাঁকে একটি কম্পিউটার–ভিত্তিক MCQ পরীক্ষা দিতে হয় –
• সময়: ৪৫ মিনিট
• প্রশ্ন: ৪৫টি MCQ
এই ৪৫টি প্রশ্নের উৎস সাধারণত তিন জায়গায় ভাগ করা যায়–
১. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট–এর তথ্য থেকে – ২৫টি প্রশ্ন
২. সংশ্লিষ্ট সমসাময়িক প্রেক্ষাপট থেকে – ১০টি প্রশ্ন
৩. সাম্প্রতিক জাতীয়–আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে – ১০টি প্রশ্ন
মোট ৪৫টি প্রশ্নের সর্বোচ্চ পয়েন্ট হয় ৪৫।

________________________________________
ভিন্ন আত্মবিশ্বাসে ভিন্ন পয়েন্ট

হৃদয়- সফটওয়্যার–এর প্রশ্নের ব্যাপারটা আরেকটু বলো তো। এখানে কি ধরনের উত্তর–পদ্ধতি থাকে?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ, এটাও বেশ ইন্টারেস্টিং।
প্রতিটি প্রশ্নের জন্য সরাসরি একটাই উত্তর বাছাই না করে, প্রথমে প্রার্থীকে তার আত্মবিশ্বাস অনুযায়ী একটি পয়েন্ট–বক্স বেছে নিতে হয়।
প্রতিটি প্রশ্নের জন্য স্ক্রিনে আগে দেখায়–
• ১.০০ পয়েন্টের জন্য: ৭টি বিকল্প উত্তর
• ০.৭৫ পয়েন্টের জন্য: ৫টি বিকল্প উত্তর
• ০.৬০ পয়েন্টের জন্য: ৩টি বিকল্প উত্তর
• ০.৫০ পয়েন্টের জন্য: ২টি বিকল্প উত্তর
প্রার্থী প্রথমে ঠিক করবেন–
“আমি এই প্রশ্নটা কতটা কনফিডেন্ট?”
যদি খুব আত্মবিশ্বাসী হন, বেছে নেন ১ পয়েন্টের ঘর; একটু কম হলে ০.৭৫; তারও কম হলে ০.৬০; আর যদি মনে হয় বোঝা যাচ্ছে না, তবু আন্দাজে কিছু বলতে চান – তাহলে ০.৫০ পয়েন্টের জন্য।
তারপর ওই নির্দিষ্ট পয়েন্ট–ঘরের বিকল্প উত্তরগুলো সামনে আসে। সেখান থেকে সঠিক উত্তর বেছে নিয়ে সাবমিট করলে–
• উত্তর ঠিক হলে, তিনি সেই পয়েন্টটি পান।
• উত্তর ভুল হলে, জমা হয় না বরং প্রতি ৩টি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ পয়েন্ট করে কেটে নেওয়া হয় তাঁর মোট অর্জিত পয়েন্ট থেকে। তুমি চাইলে এই লিংকে এর একটা ডেমো দেখতে পারো।
______________________________________
শিক্ষাগত ফলাফল ও অভিজ্ঞতার পয়েন্ট
এরপর আসে প্রার্থীর শিক্ষাজীবন ও পূর্ব–অভিজ্ঞতা–এর মূল্যায়ন।
পয়েন্ট–সিস্টেমটা অনেকটা এরকম–
একজন প্রার্থী তাঁর শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে (মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, ইত্যাদি) গড় নম্বরের ভিত্তিতে প্রতি স্তরে একটি করে পয়েন্ট পান–
• গড় নম্বর ৪০–৪৯ হলে = ১ পয়েন্ট
• ৫০–৫৯ হলে = ২ পয়েন্ট
• ৬০–৬৯ হলে = ৩ পয়েন্ট
• ৭০–৭৯ হলে = ৪ পয়েন্ট
• ৮০–১০০ হলে = ৫ পয়েন্ট
যে প্রার্থী যত বেশি ধাপ শেষ করেছেন, এবং যত ভাল ফল করেছেন, তাঁর শিক্ষাগত পয়েন্ট তত বেশি।
এর সাথে–
• সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পূর্ব কর্ম–অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত ৫ পয়েন্ট,
• এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উপর ডক্টরেট (PhD) ডিগ্রি থাকলে আরও ৫ পয়েন্ট যোগ হয়।
ধরো, কেউ মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত প্রত্যেক স্তরে গড়ে ৮০–১০০ এর মধ্যে নম্বর পেয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতাও আছে; তাহলে তাঁর শিক্ষাগত ও অভিজ্ঞতার পয়েন্ট দাঁড়াবে–
(৫ + ৫ + ৫ + ৫ + ৫) = ২৫ (যদি পাঁচ স্তর ধরা হয়)
• ৫ (অভিজ্ঞতার জন্য)
• ৫ (ডক্টরেট থাকলে)
এইভাবে পরীক্ষার পয়েন্ট + শিক্ষাগত পয়েন্ট + অভিজ্ঞতার পয়েন্ট মিলিয়ে প্রথম রাউন্ডের মোট স্কোর তৈরি হয়।

হৃদয়- বাঃ খুবই সুন্দর এবং অভিনব ব্যবস্থা বলে মনে হচ্ছে।
এভাবেই যদি আমাদের দেশেও একদিন হতো! আচ্ছা এক্ষেত্রে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোন ব্যাপার আছে কি-না?

স্বপ্নিল: দেখ, হৃদয়, এ ব্যবস্থার মধ্যে তেমন কোনো সুযোগ নেই, বা প্রয়োজনও পড়ে না। কারণ প্রশ্ন আসে সফটওয়্যারে সেট করা প্রোগ্রাম অনুযায়ী। আর যে প্রশ্নগুলো অন্তর্ভুক্ত করা আছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং দৈনন্দিন পত্রপত্রিকা বা টেলিভিশন সংবাদের দিকে একটু নজর রাখলেই বোঝা যায়। তা ছাড়া, নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সময়ে এ সফটওয়্যারের প্রশ্নগুলো আপডেট করা হয়। কারণ সহস্রাধিক প্রশ্ন একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন।

হৃদয়: একাধিক ব্যক্তি প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করে—বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলবে?

স্বপ্নিল: হ্যাঁ, এ বিষয়টা একটু বিস্তারিত বলার প্রয়োজন আছে, যেহেতু তোমরাও চাইছ এমন ব্যবস্থা তোমাদের দেশেও প্রবর্তন করা যায় কি না তা দেখতে। মন দিয়ে শোন।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত প্রশ্ন আপলোড করার একটা ব্যবস্থা আছে। যেকোনো ব্যক্তি এখানে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী যেকোনো মন্ত্রণালয় বা বিষয়ের ওপর প্রশ্ন আপলোড করতে পারেন। তবে সেটি নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় জমা থাকে। নির্দিষ্ট সময় পরপর উক্ত কমিটি প্রশ্নগুলো যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে অনুমোদন করলে তবেই সেগুলো ওই সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রশ্ন ফাঁস হওয়া আর না হওয়ার মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য থাকে না, তাই এ নিয়ে কেউ কখনও মাথাও ঘামায় না।

হৃদয়: আচ্ছা, ঠিক আছে, এ বিষয় নিয়ে আর মাথা ঘামাচ্ছি না। তবে আর একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দাও তো। তোমাদের দেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতির পদে কে এবং কীভাবে আসীন হন, বা এ ব্যাপারে তোমরা সিদ্ধান্ত নাও কীভাবে?

স্বপ্নিল: হ্যাঁ, একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই করলে। দেখ, আমাদের দেশের সব ব্যবস্থাই তোমাদের কাছে একটু অন্যরকম বা অদ্ভুত মনে হতে পারে। এ ব্যাপারটাও ঠিক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মতোই। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা, তথা সাংসদেরা। আর কোনো কারণে যদি তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন, তবে RMM Vote-এর মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে একটা কথা বলা প্রয়োজন, আর তা হলো—আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতি, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকেই ৬ বছরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।

হৃদয়: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—শুনতে আশ্চর্যই লাগছে। আচ্ছা, এমনটি হওয়ার বিশেষ কোনো তাৎপর্য বা সুবিধা আছে?

স্বপ্নিল: দেখ, হৃদয়, বিশেষ তাৎপর্য বা সুবিধা আছে কি না, সেটা বলতে পারব না। তবে আমাদের বিজ্ঞজনেরা যেহেতু এমন সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন, তাই নিশ্চয়ই এর কিছু সুবিধা আছে—এটা বলা যায়। আর তা ছাড়া, সম্মানিত ব্যক্তিরা সম্মানিত আসনে উপবিষ্ট হবেন—এতে অসুবিধার তো কিছু দেখি না।

হৃদয়: হ্যাঁ, সত্যিই তো। আচ্ছা, এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় কীভাবে? সংক্ষেপে প্রক্রিয়াটা একটু বলবে?

স্বপ্নিল: হ্যাঁ, বলছি, শোন। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি অবসরে গেছেন—এমন ক্রম অনুযায়ী ১০ জন বিচারপতির নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। অবশ্য কেউ আপত্তি করলে তাঁর নাম বাদ দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী সংসদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটা খুবই সহজ এবং সাদামাঠা প্রক্রিয়া। অর্থাৎ প্রথমে একই ক্রমিক নম্বর-যুক্ত, পরপর তিনটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারের সেট ছাপানো হয়—মোট জনপ্রতিনিধি বা সাংসদের সংখ্যার সমান সংখ্যক সেট। এরপর প্রত্যেক সাংসদ স্বাক্ষর সাপেক্ষে এক সেট ব্যালট পেপার সংগ্রহ করেন এবং যথাসময়ে যথাযথ নিয়মে তাঁর পছন্দক্রম চিহ্নিত করেন। এ ক্ষেত্রে বিচারপতিদের ক্রমিক নম্বরই প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। আর এ প্রক্রিয়ায় যদি রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে কোথাও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমস্যা হয়, তবে RMM Vote-এর মাধ্যমে সে সমস্যার সমাধান করা হয়।

হৃদয়: বাহ্, বেশ ভালোই তো মনে হচ্ছে। আচ্ছা, বন্ধু, সব ব্যাপারেই কি তোমরা ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাকে যুক্তিসংগত মনে করো?

স্বপ্নিল: হ্যাঁ, বন্ধু, আমাদের বিজ্ঞজনেরা সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভোটের মাধ্যমে গ্রহণ করতে একমত হয়েছেন, যাতে কারও মনে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয় এবং কোনো বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি না হয়। আর তা ছাড়া, বেশিরভাগ মানুষই যদি কোনো ব্যাপারে একমত হন, তবে সেটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং অপেক্ষাকৃত সঠিক সিদ্ধান্ত বলে সাধারণভাবে ধরে নেওয়া যায়। তুমি কী বলো?

হৃদয়: হ্যাঁ, সেটাই তো স্বাভাবিক। আচ্ছা, বন্ধু, আর কী কী ধরনের সিদ্ধান্ত তোমরা এমন সবাই মিলে ভোটের মাধ্যমে নিয়ে থাক?

এই অংশের বিশেষজ্ঞ মতামত বা মূল্যায়ন দেখতে ক্লিক করুন।

এরপর- অধ্যায় ১২ : সংসদ, জনগণ ও পুনরাবৃত্ত ভোট–সংস্কৃতি

Comments


A
A 198 days ago
Nice !
স্পষ্টীকরণ (Disclaimer)=> এই গ্রন্থ “স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী”–তে বর্ণিত দেশ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, নীতি, আইন, চরিত্র, সংলাপ, সংগঠন ও ঘটনাবলি সম্পূর্ণ কল্পনাভিত্তিক এবং সাহিত্যিক বিন্যাসে উপস্থাপিত। বাস্তব কোনো রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিল থাকলে তা সম্পূর্ণ কাকতালীয় এবং অনিচ্ছাকৃত।

* * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।