শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ২০
    বিলে বতোরুক্রমবিক্রমান্ যে
    ন শৃণ্বতঃ কর্ণপুটে নরস্য ।
    জিহ্বাসতী দার্দুরিকের সূত
    ন চোপগায়ত্যুরুগায়গাথাঃ ৷৷ ২০।।

  • অনুবাদ : যে ব্যক্তি ভগবানের শৌর্য এবং অদ্ভুত কার্যকলাপের কথা শ্রবণ করেনি এবং ভগবানের গুণগাথা কীর্তন করেনি, তার কর্ণরন্ধ্র সর্পের গর্তের মতো এবং তার জিহ্বা ভেকের জিহ্বার মতো ।
  • তাৎপর্যঃ- ভগবানের প্রেমময়ী সেবা সম্পাদিত হয় দেহের প্রতিটি অঙ্গের দ্বারা । এটি হচ্ছে আত্মার চিন্ময় শক্তি; তাই ভগবদ্ভক্ত সর্বতোভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে ভগবানের সেবায় যুক্ত থাকেন । ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার ফলে দেহের ইন্দ্রিয়গুলি যখন পবিত্র হয়, তখন ভগবানের সেবায় যুক্ত হওয়া যায় এবং সব কটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভগবানের সেবা সম্পাদন করা যায় । প্রকৃতপক্ষে ইদ্রিয়গুলি যতক্ষণ ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনে ব্যবহার করা হয়, ততক্ষণ ইন্দ্রিয়সমূহ এবং তাদের কার্যকলাপ অপবিত্র বা জড় বলে বিবেচনা করা হয় । বিশুদ্ধ ইন্দ্রিয়সমূহ ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের ব্যাপারে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণরূপে ভগবানের সেবায় যুক্ত হয় ! ভগবান সমস্ত ইন্দ্রিয় সমেত পরম ঈশ্বর, আর তাঁর সেবক যারা তাঁরা বিভিন্ন অংশ, তারাও সেই সমস্ত ইন্দ্ৰিয় সমন্বিত । ভগবৎ-সেবা ইন্দ্রিয়সমূহের সর্বতোভাবে শুদ্ধ উপযোগ, যে কথা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত হয়েছে । ভগবান পূর্ণ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা উপদেশ দান করেছিলেন এবং অর্জুন পূর্ণ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা সেগুলি গ্রহণ করেছিলেন, এবং তার ফলে গুরু এবং শিষ্যের মধ্যে পূর্ণ অর্থ সমন্বিত এবং যুক্তিসঙ্গত জ্ঞানের আদর্শ বিনিময় হয়েছিল । গুরুদেব পারমার্থিক জ্ঞান শিষ্যকে বৈদ্যুতিক আবেশের মতো দেন না, যা মূর্খ প্রচারকেরা অনেক সময় অজ্ঞতাবশত দাবী করে । সবকিছু অর্থবহ এবং যুক্তিসঙ্গত, এবং গুরু ও শিষ্যের মধ্যে বিচারের আদান-প্রদান তখনই সম্ভব হয় যখন শিষ্য বিনীতভাবে সেই যথার্থ জ্ঞান গ্রহণে আগ্রহী হয় । শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে বলা হয়েছে যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা বুদ্ধিমত্তা এবং পূর্ণ বিচার সহকারে গ্রহণ করা উচিত, যাতে তাঁর মহান উদ্দেশ্য যুক্তিসঙ্গতভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায় ।

        কলুষিত অবস্থায় জীবের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গুলি সর্বদা জড়জাগতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকে । কর্ণ যদি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অথবা শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার মাধ্যমে ভগবানের সেবায় যুক্ত না হয়, তা হলে তা অবশ্যই আবর্জনার দ্বারা পূর্ণ হবে । তাই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী উদাত্ত কণ্ঠে পৃথিবীর সর্বত্র প্রচার করা উচিত । যে শুদ্ধ ভক্ত যথার্থ সূত্রে তা শ্রবণ করেছেন, তাঁর একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়ে সেই বাণী প্রচার করা। সকলেই প্রায় অন্যদের কিছু বলতে চায়, কিন্তু যেহেতু তারা বৈদিক জ্ঞান সম্বন্ধে কথা বলার শিক্ষা লাভ করেনি, তাই তারা নানা প্রকার অর্থহীন বিষয় নিয়ে কথা বলছে এবং অন্য মানুষেরাও তা গ্রহণ করছে । জাগতিক খবর বিতরণ করার হাজার উপায় উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ তা গ্রহণও করেছে । তেমনই, পৃথিবীর মানুষকে শিক্ষা দেওয়া উচিত কিভাবে ভগবান সম্বন্ধীয় দিব্য জ্ঞান শ্রবণ করতে হয়, এবং ভগবদ্ভক্তদের কর্তব্য হচ্ছে উদাত্ত কণ্ঠে সেই বাণী প্রচার করা যাতে তারা তা শুনতে পায় । ভেক বা ব্যাঙ উচ্চৈঃস্বরে কলরব করে এবং তার ফলে গ্রাসকারী সর্পকে সে আমন্ত্রণ জানায় । মানুষকে তার জিহ্বা দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে বেদিক মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্য ব্যাঙের মতো কোলাহল করার জন্য নয় । এই শ্লোকে অসতী শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । অসতী মানে হচ্ছে যে স্ত্রী বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বন করেছে । বেশ্যার মধ্যে সৎ স্ত্রীসুলভ গুণাবলী থাকে না । তেমনই, যে জিহা বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্য মানুষকে দেওয়া হয়েছিল তা যদি অর্থহীন জাগতিক বিষয়ের গুণগানে মুখর হয়, তা হলে তাকে বেশ্যা বলেই বিবেচনা করা হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।