শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ২২:
    রাজোবাচ
    যথা সন্ধার্যতে ব্রহ্মণ্ ধারণা যত্র সম্মতা ৷
    যাদৃশী বা হরেদাশু পুরুষস্য মনোমলম্ ॥২২ ৷৷

  • অনুবাদ : ভাগ্যবান রাজা পরীক্ষিৎ জিজ্ঞাসা করলেন , হে ব্রাহ্মণ , দয়া করে আমাকে বিস্তারিতভাবে বলুন মনকে কোথায় এবং কিভাবে একাগ্র করতে হবে এবং কিভাবে ধারণা স্থির করতে হবে , যার ফলে মনের সমস্ত কলুষ দূর করা যায় ।
  • তাৎপর্যঃ- বদ্ধ জীবের হৃদয়ের কলুষ হচ্ছে তার সমস্ত দুঃখ - দুর্দশার মূল কারণ । বদ্ধ জীব জড় জগতের নানা প্রকার দুঃখ - দুর্দশায় জর্জরিত । কিন্তু যেহেতু সে অজ্ঞানের অন্ধকারে আচ্ছন্ন , তাই জড় জগতে দীর্ঘ কারাবাসের ফলে সঞ্চিত আবর্জনাজনিত দুঃখ - দুর্দশা দূর করতে পারে না । তার প্রকৃত কর্তব্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের ইচ্ছা অনুসারে তার সেবা করা , কিন্তু তার হৃদয়াভ্যস্তরস্থ কলুষের প্রভাবে সে তার কামনা - বাসনার সেবা করতে চায় । এই সমস্ত সেবা তাকে যথার্থ শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি করে তাকে জন্ম - মৃত্যুর আবর্তে বেঁধে রাখে । সকাম কর্ম এবং মনোধর্মপ্রসূত জ্ঞানরূপী কলুষ কেবল পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গপ্রভাবেই দূর হতে পারে । সর্বশক্তিমান ভাবান অচিন্ত্য শক্তির প্রভাবে তার সঙ্গ দান করতে পারেন । তাই যারা ভগবানের সবিশেষ রূপে তাদের বিশ্বাস স্থির করতে অক্ষম , তাদের তিনি তার বিরাট রূপের সঙ্গ লাভ করার সুযোগ দেন । ভগবানের বিরাট নিরাকার রূপ তার অসীম শক্তির প্রকাশ । যেহেতু শক্তিমান এবং শক্তি অভিন্ন , তাই তার বিরাট রূপের নিরাকার ধারণাও বন্ধ জীবকে পরোক্ষভাবে তার সান্নিধ্য লাভে সাহায্য করে এবং এইভাবে ক্রমে ক্রমে তার সবিশেষ রূপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে সাহায্য করে ।
        মহারাজ পরীক্ষিৎ প্রথম থেকেই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সবিশেষ রূপের সঙ্গে সরাসরিভাবে সম্পর্কিত ছিলেন , এবং তাই তার পক্ষে কিভাবে মনকে ভগবানের নির্বিশেষ বিরাট রূপের ধারণায় মগ্ন করা যায় সে সম্বন্ধে শুকদেব গোস্বামীর কাছে প্রশ্ন করার কোন প্রয়োজন ছিল না । কিন্তু ভগবানের সচ্চিদানন্দঘন সবিশেষ রূপের ধারণা করতে অক্ষম ব্যক্তিদের মঙ্গল সাধনের জন্য তিনি বিস্তারিতভাবে এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন । অভক্তেরা কখনও ভগবানের সবিশেষ রূপের কথা চিন্তা করতে পারে না । যেহেতু তারা অজ্ঞ , তাই রাম , কৃষ্ণ আদি ভগবানের সবিশেষ রূপ তাদের কাছে অত্যন্ত বিরক্তিকর । ভগবানের শক্তি সম্বন্ধে তাদের ধারণা অত্যন্ত অল্প । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৯/১১ ) ভগবান স্বয়ং বলেছেন যে , মূর্খ মানুষেরা তাকে একজন সাধারণ মানুষ বলে মনে করে তাকে অবজ্ঞা করে । এই সমস্ত মানুষেরা ভগবানের অচিন্ত্য শক্তি সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ । ভগবান তার অচিন্ত্য শক্তির প্রভাবে মানব সমাজে অথবা যে কোন জীব সমাজে প্রকাশিত হতে পারেন ; তবুও তিনি সর্ব অবস্থাতেই সর্বশক্তিমান ভগবান থাকেন । তাই , যে সমস্ত মানুষ ভগবানের নিত্য সবিশেষ রূপ স্বীকার করতে পারে না , তাদের মঙ্গলের জন্য মহারাজ পরীক্ষিৎ শুকদেব গোস্বামীর কাছে প্রশ্ন করেছেন যে কিভাবে প্রাথমিক স্তরে সেই সবিশেষ রূপে মনকে নিবন্ধ করা যায় , এবং শুকদেব গোস্বামী পরবর্তী শ্লোক গুলিতে বিস্তারিতভাবে তার সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।