শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ১৬
    বৈয়াসকিশ্চ ভগবান্ বাসুদেবপরায়ণঃ ৷
    উরুগায়গুণোদারাঃ সতাং স্যুৰ্হি সমাগমে ৷৷ ১৬ ৷৷

  • অনুবাদ : ব্যাসদেবের পুত্র শুকদেব দিব্য জ্ঞানে পূর্ণ ছিলেন এবং তিনি বসুদেব-তনয় শ্রীকৃষ্ণের মহান্ ভক্ত ছিলেন । অতএব মহান ভক্তদের সমাগমে শ্রীকৃষ্ণের গুণকীর্তনরূপ উদার কথাই হয়েছিল ।
  • তাৎপর্যঃ- এই শ্লোকে সতাম্ শব্দটি অতি গুরুত্বপূর্ণ । সতাম্ শব্দটির অর্থ— ভগবানের সেবা ব্যতীত অন্য বাসনাশূন্য শুদ্ধভক্ত । এই প্রকার ভক্তসঙ্গেই শ্রীকৃষ্ণের দিব্য মহিমা যথাযথভাবে আলোচিত হয় । ভগবান বলেছেন যে, তাঁর কথা দিব্য বৈশিষ্ট্যে পূর্ণ এবং কেউ যখন যথাযথভাবে সতাম্ দের সঙ্গে তাঁর কথা শ্রবণ করেন, তিনি অবশ্যই তার প্রভাব অনুভব করতে পারেন এবং স্বাভাবিকভাবেই ভগবদ্ভক্তির স্তর লাভ করেন । এই সম্বন্ধে পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে যে, তাঁর জন্ম থেকেই মহারাজ পরীক্ষিৎ ছিলেন ভগবানের একজন মহান্ ভক্ত, তেমনই শুকদেব গোস্বামীও তাঁর জন্মের পূর্ব থেকেই একজন মহান্ ভক্ত ছিলেন । তাঁরা উভয়ই ছিলেন সমপর্যায়ভুক্ত । যদিও মনে হতে পারে যে, মহারাজ পরীক্ষিৎ ছিলেন রাজকীয় সুযোগ-সুবিধায় অভ্যস্ত একজন সম্রাট, আর শুকদেব গোস্বামী ছিলেন এমনই একজন আদর্শ ত্যাগী যে, তিনি তাঁর অঙ্গে বস্ত্র পর্যন্ত ধারণ করতেন না । আপাতদৃষ্টিতে মহারাজ পরীক্ষিৎ এবং শুকদেব গোস্বামীকে সম্পূর্ণ বিপরীত বলে মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাঁরা দুজনেই ছিলেন অনন্য ভক্তিসম্পন্ন ভগবানের শুদ্ধভক্ত । তেমন ভক্তরা যখন একত্রিত হন, তখন ভগবানের মহিমা কীর্তন বা ভক্তিযোগের আলোচনা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের আলোচনা হতে পারে না । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতেও, যখন ভগবান এবং তাঁর শুদ্ধ ভক্ত অর্জুনের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল, তখনও ভক্তিযোগ ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের আলোচনা হতে পারেনি, যদিও তথাকথিত পণ্ডিতেরা তা নিয়ে তাদের নিজস্ব মত অনুসারে নানারকম জল্পনা কল্পনা করে থাকে ।v শ্রীল জীব গোস্বামীর মতে বৈয়াসকি শব্দের পরে চ শব্দের ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে, শুকদেব গোস্বামী এবং মহারাজ পরীক্ষিৎ উভয়েই ছিলেন সমপর্যায়ভুক্ত ভগবদ্ভক্ত, যদিও তাঁদের একজন শুরুর ভূমিকা এবং অপর জন শিষ্যের ভূমিকা অবলম্বন করেছিলেন । যেহেতু শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন সেই আলোচনার বিষয়, তাই বাসুদেব-পরায়ণঃ বা ' বাসুদেবের ভক্ত ' উক্তিটি ইঙ্গিত করে যে, তাঁরা উভয়ই ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত । মহারাজ পরীক্ষিৎ যেখানে প্রায়োপবেশন অবলম্বন করেছিলেন, সেখানে যদিও অন্য অনেকে সমবেত হয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তন ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের আলোচনা হয়নি ; কেননা সেই সভার মুখ্য বক্তা ছিলেন শুকদেব গোস্বামী এবং প্রধান শ্রোতা ছিলেন মহারাজ পরীক্ষিৎ । অতএব ভগবানের দুজন প্রধান ভক্তের দ্বারা কথিত এবং শ্রুত হওয়ার ফলে শ্রীমদ্ভাগবত কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা কীর্তনেরই নিমিত্ত ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।