শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ১৫
    স বৈ ভাগবতো রাজা পাণ্ডবেয়ো মহারথঃ
    বালক্ৰীড়নকৈঃ ক্রীড়ন্ কৃষ্ণক্রীড়াং য আদদে ॥ ১৫ ॥

  • অনুবাদ : পাণ্ডবদের পৌত্র মহারাজ পরীক্ষিৎ তাঁর শৈশব থেকেই একজন মহান্ ভগবদ্ভক্ত ছিলেন । পুতুল নিয়ে খেলার ছলে তিনি পরিবারের শ্রীবিগ্রহের পূজার অনুকরণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতেন ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৬/৪১ ) বর্ণনা করা হয়েছে যে, যোগভ্রষ্ট পুরুষ নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণের গৃহে অথবা সম্ভ্রান্ত ক্ষত্রিয় রাজা বা ধনী বণিকের গৃহে জন্মগ্রহণ করেন । কিন্তু মহারাজ পরীক্ষিৎ ছিলেন তার থেকেও অধিক, কেননা তার পূর্ব জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন ভগবানের মহান ভক্ত, এবং তাই তিনি কুরু বংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বিশেষ করে পাণ্ডবদের বংশে । তাই তাঁর শৈশবের প্রথম থেকেই তাঁর নিজের পরিবারে অন্তরঙ্গভাবে কৃষ্ণভক্তির পন্থা জানবার সুযোগ পেয়েছিলেন।

        পাণ্ডবেরা সকলেই ছিলেন ভগবানের ভক্ত, তাই তাঁরা নিশ্চয় রাজপ্রাসাদে পুজিত পরিবারের বিগ্রহের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপরায়ণ ছিলেন । এইরকম পরিবারে যে সমস্ত শিশুরা জন্মগ্রহণ করে, তারা সৌভাগ্যবশত শৈশবে শ্রীবিগ্রহের পূজার অনুকরণ করে খেলা করে ।

        শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় আমাদের বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল, এবং আমাদের শৈশবে আমরা আমাদের পিতৃদেবকে অনুকরণ করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করতাম । আমাদের পিতৃদেব রথযাত্রা, দোলযাত্রা আদি সমস্ত অনুষ্ঠান সর্বতোভাবে পালন করতে অনুপ্রাণিত করতেন, এবং তিনি বহু অর্থ ব্যয় করে মুক্ত হস্তে শিশুদের এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রসাদ বিতরণ করতেন ।

        আমাদের পরমারাধ্য গুরুদেবও বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর মহান বৈষ্ণব পিতা ঠাকুর ভক্তিবিনোদের কাছ থেকে ভক্তিবিষয়ক সব রকম অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন । সমস্ত সৌভাগ্যবান বৈষ্ণব পরিবারে এইটিই হচ্ছে ধারা ।

        বিখ্যাত মীরাবাঈ ছিলেন গোবর্ধনধারী শ্রীকৃষ্ণের নিষ্ঠাবতী ভক্ত । এই সমস্ত ভক্তদের ইতিহাস প্রায় একই রকম কেননা ভগবানের সমস্ত বড় বড় ভক্তদের প্রারম্ভিক জীবনে সর্বদা একপ্রকার ঐক্য দেখা যায় ।

        শ্রীল জীব গোস্বামীর মতে পরীক্ষিৎ মহারাজ নিশ্চয়ই বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা শ্রবণ করেছিলেন, কেননা তিনি তাঁর শৈশবে খেলার সাথীদের নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের লীলার অনুকরণ করতেন । শ্রীধর স্বামীর মতে, মহারাজ পরীক্ষিৎ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্কদের শ্রীবিগ্রহের আরাধনার অনুকরণ করতেন ।

        শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তীও জীব গোস্বামীর মত সমর্থন করেছেন । উভয় মতানুসারেই মহারাজ পরীক্ষিৎ তার শৈশব থেকেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি স্বাভাবিকভাবে অনুরক্ত ছিলেন । তিনি উপরোক্ত দুটি ভাবের যেটিরই অনুকরণ করে থাকুন না কেন, সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর শৈশব থেকেই গভীরভাবে ভগবানের প্রতি ভক্তিপরায়ণ ছিলেন, যা হচ্ছে মহাভাগবতের লক্ষণ ।

        এমন মহাভাগবতদের বলা হয় নিত্য সিদ্ধ, বা জন্ম থেকেই মুক্ত-আত্মা । কিন্তু অন্য অনেকে রয়েছেন যাঁরা জন্ম থেকে মুক্ত পুরুষ নন, কিন্তু সঙ্গ প্রভাবে ভগবদ্ভক্তির পথে অগ্রসর হন । তাঁদের বলা হয় সাধন-সিদ্ধ । চরমে এই দুয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই । কেবল শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তের সঙ্গ প্রভাবে সকলেই সাধন-সিদ্ধ হতে পারেন । তার একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হচ্ছেন আমাদের আচার্য শ্রীনারদ মুনি । তার পূর্ব জন্মে তিনি ছিলেন একজন দাসীর পুত্র, কিন্তু মহাভাগবতদের সঙ্গ প্রভাবে তিনি ভগবদ্ভক্তে পরিণত হয়েছিলেন, যে দৃষ্টান্ত ভগবদ্ভক্তির ইতিহাসে বিরল ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।