শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ১২
    জ্ঞানং যদাপ্রতিনিবৃত্তগুণোর্মিচক্র–
    মাত্মপ্রসাদ উত যত্ৰ গুণেস্বসঙ্গঃ
    কৈবল্যসম্মতপথস্ত্বথ ভক্তিযোগঃ
    কো নির্বৃতো হরিকথাসু রতিং ন কুর্যাৎ ॥ ১২ ৷৷

  • অনুবাদ : পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরি সম্বন্ধীয় দিব্য জ্ঞান জড়া প্রকৃতির গুণের চক্রকে সম্পূর্ণরূপে নিবৃত্ত করে । এই জ্ঞান জড়া প্রকৃতির প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার ফলে আত্মতৃপ্তি প্রদান করে , এবং অপ্রাকৃত হওয়ার ফলে মহাত্মাগণ কর্তৃক স্বীকৃত । কে এই জ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে থাকতে পারে ?
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ( ১০/৯ ) বর্ণনা অনুসারে শুদ্ধ ভক্তদের লক্ষণ অত্যন্ত বিচিত্র । শুদ্ধ ভক্তের একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে সর্বক্ষণ পরমেশ্বর ভগবানের সেবায় যুক্ত থাকা , এবং তার ফলে তাঁরা পরস্পর ভাব বিনিময় করেন এবং দিব্য আনন্দ আস্বাদন করেন । সদ্গুরুর নির্দেশানুসারে যথাযথভাবে শুদ্ধ ভক্তির অনুশীলন করা হলে সাধন অবস্থাতেও এই দিব্য আনন্দ আস্বাদন করা যায় । উন্নত স্তরে এই অপ্রাকৃত অনুভূতি ভগবানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের উপলব্ধিতে পর্যবসিত হয় , যেটি হচ্ছে জীবের প্রকৃত স্বরূপ । ভগবানের সঙ্গে জীবের এই স্বরূপগত সম্পর্ক মধুর রসে ভগবৎ - প্রেম পর্যন্ত বিকশিত হয় , যা হচ্ছে সর্বোত্তম চিন্নয় আনন্দ । ভগবদুপলব্ধির একমাত্র পন্থা বলে ভক্তিযোগকে বলা হয় কৈবল্য । এই সম্পর্কে শ্রীল জীব গোস্বামী বেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন – একো নারায়ণো দেবঃ পরাবরাণাং পরমাস্তে কৈবল্য-সংজ্ঞিতঃ, এবং এর মাধ্যমে তিনি প্রতিপন্ন করেছেন যে , পরমেশ্বর ভগবান শ্রীনারায়ণ কৈবল্য নামে পরিচিত , এবং যে উপায়ে পরমেশ্বর ভগবানের সমীপবর্তী হওয়া যায় , তাকে বলা হয় কৈবল্য পন্থা, বা ভগবানকে পাওয়ার একমাত্র পন্থা ।
        এই কৈবল্য পন্থার শুরু হয় পরমেশ্বর ভগবান সম্বন্ধীয় কথা শ্রবণ থেকে , এবং এই প্রকার হরিকথা শ্রবণের ফলে স্বাভাবিকভাবে দিব্য জ্ঞান লাভ হয় , যার ফলে জড় বিষয়ের প্রতি আর কোন আসক্তি থাকে না । তাই ভগবদ্ভক্তের জড় সুখভোগের প্রতি কোনরকম আসক্তি থাকে না । ভগবদ্ভক্ত সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্ত কার্যকলাপের প্রতি অনাসক্ত , এবং উন্নত স্তরে ভগবদ্ভক্ত তাঁর নিজের শরীরের প্রতিও উদাসীন হয়ে পড়েন। অতএব শরীরের সহিত সম্পর্কিত আত্মীয় - স্বজনদের কি কথা ! ভগবন্ধক্তির এই স্তরে ভক্ত আর জড়া প্রকৃতির গুণের তরঙ্গের দ্বারা বিক্ষুব্ধ হন না ।
        জড়া প্রকৃতির বিভিন্ন গুণ রয়েছে , এবং সমস্ত বৈষয়িক কার্যকলাপ , যার প্রতি সাধারণ মানুষেরা অত্যন্ত আকৃষ্ট , সেই সমস্ত কার্যকলাপের প্রতি ভগবদ্ভক্তের কোন আসক্তি থাকে না । এই অবস্থাকে এখানে প্রতিনিবৃত্ত গুণোর্মি , বলে বর্ণনা করা হয়েছে , এবং সবরকম জড় সম্পর্ক থেকে মুক্ত হয়ে সম্পূর্ণরূপে আত্মতৃপ্ত বা আত্ম প্রসাদ লাভ করার পন্থা সম্ভব হয় ।
        উত্তম অধিকারী ভগবদ্ভক্ত ভগবদ্ভক্তির প্রভাবে এই স্তর প্রাপ্ত হন , কিন্তু তাঁর অতি উন্নত অবস্থা সত্ত্বেও , পরমেশ্বর ভগবানের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য তিনি স্বেচ্ছায় ভগবানের মহিমা প্রচার কার্যে ব্রতী হন এবং সব কিছুই , এমন কি তার জাগতিক স্বার্থও ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করেন , যাতে নবীন ভক্তরাও তাদের জাগতিক স্বার্থগুলি দিব্য আনন্দে পর্যবসিত করতে পারে ।
        শ্রীল রূপ গোস্বামী শুদ্ধভক্তের এই আচরণকে ' নির্বন্ধঃ কৃষ্ণ সম্বন্ধে যুক্তং বৈরাগ্যমুচ্যতে ' বলে বর্ণনা করেছেন । যদি জাগতিক কার্যকলাপও ভগবদ্ভক্তিতে যুক্ত করা যায় , তা হলে তা-ও দিব্য বা কৈবল্য-ক্রিয়ায় পরিণত হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।