শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ২২
    যদি প্রয়াস্যন্ নৃপ পারমেষ্ঠ্যং
    বৈহায়সানামুত যদ্বিহারম্ ।
    অষ্টাধিপত্যং গুণসন্নিবায়ে
    সহৈব গচ্ছেন্মনসেন্দ্ৰিয়ৈশ্চ ৷৷ ২২ ৷৷

  • অনুবাদ : হে রাজন , যোগীর যদি ব্রহ্মপদ , অষ্টসিদ্ধি , অথবা বৈহায়সদের সঙ্গে অন্তরীক্ষে ভ্রমণ করার বাসনাদি জড়ভোগের আকাঙ্ক্ষা থাকে , তা হলে তিনি দেহত্যাগের সময় মন ও ইন্দ্রিয়সমূহকে ত্যাগ না করে সেগুলি সহ সেই সেই লোকে ভোগার্থে গমন করবেন ।
  • তাৎপর্যঃ- উচ্চতর লোকে জড় সুখভোগের সুযোগ - সুবিধা নিম্নতর লোকগুলির থেকে শত - সহস্র গুণ অধিক । সর্বোচ্চলোকে রয়েছে ব্রহ্মলোক , ধ্রুবলোক ইত্যাদি , এবং সে সবই মহর্লোকের ঊর্ধ্বে অবস্থিত । সেই সমস্ত লোকের অধিবাসীরা সকলেই অষ্টসিদ্ধি লাভ করেছেন । তাদের যোগসিদ্ধির জন্য কোনরকম অলৌকিক প্রক্রিয়া শিখতে হয় না এবং অণুর মতো ক্ষুদ্র হওয়া ( অণিমা ) বা লঘু থেকে লঘুতর হওয়া ( লঘিমা ) আদি সিদ্ধিলাভের জন্য কোনরকম অনুশীলন করতে হয় না । তারা ইচ্ছামতো যেকোন স্থান থেকে যা ইচ্ছা তাই প্রাপ্ত হতে পারেন ( প্রাপ্তি সিদ্ধি ) , তারা সবচাইতে ভারী বস্তুর থেকেও ভারী হতে পারেন ( গরিমা সিদ্ধি ) , তারা তাদের ইচ্ছা অনুসারে অদ্ভুত সবকিছু সৃষ্টি করতে পারেন অথবা ধ্বংস করতে পারেন ( ঈশিত্ব সিদ্ধি ) , তারা সমস্ত জড় উপাদানগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন ( বশিত্ব সিদ্ধি ) , তাদের সমস্ত বাসনা চরিতার্থ করার এবং কখনো নিরাশ না হওয়ার শক্তি রয়েছে ( প্রাকাম্য সিদ্ধি ) , অথবা তাদের ইচ্ছা অনুসারে তারা এমনকি খামখেয়ালী বশে যে কোন রূপ ধারণ করতে পারেন ( কামাবসায়িতা সিদ্ধি ) । এই সমস্ত ক্ষমতাগুলি উচ্চতর লোকের অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান । অন্তরীক্ষে ভ্রমণ করার জন্য তাদের কোনরকম যান্ত্রিক সাহায্যের প্রয়োজন হয় না , এবং তারা তাদের ইচ্ছামতো এক গ্রহ থেকে আর এক গ্রহে নিমেষের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারেন । পৃথিবীর অধিবাসীরা সবচাইতে কাছের গ্রহটিতেও অন্তরীক্ষ যানের যান্ত্রিক সাহায্য ব্যতীত যেতে পারেন না , কিন্তু এই সমস্ত উচ্চতর লোকের অত্যন্ত দক্ষ অধিবাসীরা অনায়াসে সব কিছু করতে পারেন ।

        জড়বাদীরা যেহেতু স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত গ্রহে প্রকৃতপক্ষে কি হচ্ছে তা জানতে চায় , তাই তারা ব্যক্তিগতভাবে সবকিছু প্রত্যক্ষ করতে চায় । অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিরা যেমন সারা পৃথিবী ভ্রমণ করে প্রত্যক্ষভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায় , তেমনই অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন পরমার্থবাদীরাও সেই সমস্ত গ্রহগুলি সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা অর্জনে অভিলাষী , যেগুলি সম্বন্ধে তারা অনেক আশ্চর্যজনক কথা শুনেছে । যোগীরা অনায়াসে তাদের বর্তমান জড় মন এবং ইন্দ্রিয়সমূহসহ সে সমস্ত স্থানে গিয়ে তাদের বাসনা চরিতার্থ করতে পারেন । জড় চেতনার দ্বারা প্রভাবিত মনের প্রধান বাসনা হচ্ছে জড় জগৎ ভোগ করা এবং পূর্বে যে সমস্ত সিদ্ধিগুলির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি জড় জগতকে ভোগ করার বিভিন্ন উপায় । ভগবদ্ভুক্তরা কখনো অলীক এবং অনিত্য বস্তুর উপর আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা করেন না । পক্ষান্তরে , ভগবদ্ভুক্ত পরম নিয়স্তা পরমেশ্বর ভগবানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে চান । পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করার আাপনা চিন্ময় বা পারমার্থিক এবং ওচ্চ জগতে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই মন এবং ইন্দ্রিয়কে পবিত্র করতে হবে । জড় বিষয়াসক্ত মনের দ্বারা এই ব্রহ্মাণ্ডের সর্বোচ্চ লোকে যাওয়া যেতে পারে , কিন্তু ভগবদ্ধামে প্রবেশ করা যায় না । ইন্দ্রিয়সমূহ চিন্নয়রূপে পবিত্র হয় , যখন সেগুলি আর ইন্দ্রিয় সুখভোগের চেষ্টায় লিপ্ত হয় না । ইন্দ্রিয়গুলি সক্রিয় এবং তারা যখন সর্বতোভাবে পরমেশ্বর ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হয় , তখন তাদের আর জড় কলুষের দ্বারা কলুষিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।