শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ২১
    তস্মাদ ভ্রুবোরন্তরমুন্নয়েত
    নিরুদ্ধসপ্তায়তনোঽনপেক্ষঃ ॥ স্থিত্বা মুহূর্তাধর্মকুণ্ঠদৃষ্টিঃ
    নির্ভিদ্য মূর্ধন্ বিসৃজেৎ পরং গতঃ ৷৷ ২১ ৷৷

  • অনুবাদ : তারপর ভক্তিযোগী তার প্রাণবায়ুকে ভ্রূ-দ্বয়ের মধ্যে চালিত করে প্রাণবায়ুর বহির্গমনের সাতটি পথ, অর্থাৎ শ্রোত্রদ্বয়, নেত্রদ্বয় , নাসিকাদ্বয় ও মুখগহ্বর রুদ্ধ করে তার প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে তাঁর লক্ষ্য স্থির করবেন। তিনি যদি সমস্ত জড় ভোগবাসনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হন , তাহলে তিনি ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদ করে সমস্ত জড় সম্পর্ক পরিত্যাগপূর্বক পরম গতি প্রাপ্ত হবেন ।
  • তাৎপর্যঃ- সমস্ত জড় সম্বন্ধ পরিত্যাগ করে আমাদের প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার পন্থা এখানে বর্ণিত হয়েছে । তার শর্তটি হচ্ছে এই যে আমাদের সম্পূর্ণরূপে জড় ভোগ - বাসনা থেকে মুক্ত হতে হবে । আয়ুষ্কাল এবং ইন্দ্রিয় তৃপ্তির মাত্রা অনুসারে বিভিন্ন প্রকার জড় ভোগ রয়েছে । সব চাইতে দীর্ঘ আয়ু সমন্বিত সর্বোচ্চ স্তরের ইন্দ্রিয় সুখভোগের কথা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৯/২০ ) উল্লেখ করা হয়েছে । কিন্তু সে সবই জড় ভোগ , এবং মানুষের বোঝা উচিত যে জড় ভোগের জন্য এই প্রকার দীর্ঘ আয়ুর কোন প্রয়োজন নেই , এমনকি ব্রহ্মলোকেও । মানুষের কর্তব্য হচ্ছে তার প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া এবং কোন অবস্থাতেই কোন প্রকার জড়জাগতিক সুযোগ সুবিধার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয় । ভগবদ্গীতায় ( ২/৫৯ ) উল্লেখ করা হয়েছে যে , জড়ের প্রতি এই প্রকার অনাসক্তি জীবনের পরম স্তরে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমেই কেবল সম্ভব । পরম্ দৃষ্ট্বা নিবর্ততে । পরা প্রকৃতি সম্বন্ধে সম্পূর্ণরূপে অবগত না হলে জড়া প্রকৃতির আকর্ষণ থেকে মুক্ত হওয়া যায় না । চিন্ময় জীবন সর্বপ্রকার বৈচিত্র্যরহিত বলে যে একশ্রেণীর নির্বিশেষবাদী প্রচার করে থাকে তা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর , এবং তার ফলে জীব জড়া প্রকৃতির ভোগের প্রতি অধিক থেকে অধিকতর আসক্ত হয় । প্রকৃতপক্ষে , অল্প জ্ঞানসম্পন্ন মানুষদের পরম সম্বন্ধে কোন ধারণাই নেই ; যদিও তারা ব্রহ্মোপলব্ধির স্তর প্রাপ্ত হয়েছে বলে গর্ব করে , কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা জড়া প্রকৃতির আকর্ষণেই আকৃষ্ট হয়ে থাকে । এই প্রকার স্বল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের এই শ্লোকে বর্ণিত পরম সম্বন্ধে কোন ধারণাই নেই , এবং তাই তারা পরম ধাম প্রাপ্ত হতে পারে না । ভক্তরা চিত্রগত , পরমেশ্বর ভগবান এবং অন্তহীন বৈকুণ্ঠলোক সমন্বিত তার ধামে তার চিন্ময় সঙ্গ সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত । এখানে অকুণ্ঠ - দৃষ্টি : শব্দটির উল্লেখ করা হয়েছে । অকুণ্ঠ এবং বৈকুণ্ঠ শব্দ দুটি একই অর্থব্যঞ্জক , এবং যার দৃষ্টি চিজ্জগতে সম্পূর্ণরূপে নিবন্ধ হয়েছে এবং যিনি ভগবানের সঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন , তিনিই কেবল সব রকম জড়জাগতিক সম্পর্ক ত্যাগ করতে পারেন , এমনকি এই জড় জগতে অবস্থান কালেও । এই পরম এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিভিন্ন স্থানে উল্লিখিত পরম ধাম শব্দ দু'টি একই অর্থবাঞ্জক । যিনি পরম ধাম প্রাপ্ত হন , তিনি আর এই জড় জগতে ফিরে আসেন না । এই জড় জগতের সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত হয়েও সেই পরম ধাম লাভ করা সম্ভব নয় ।

        নেত্রদ্বয় , নাসিকাদ্বয় , কর্ণদ্বয় এবং মুখগহ্বর আদি সাতটি রন্ধ্রের মাধ্যমে প্রাণ বায়ু নির্গত হয় । সাধারণ মানুষদের বেলায় সাধারণত তা মুখগহ্বর দিয়ে বহির্গত হয় । কিন্তু পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে , প্রাণবায়ুকে নিজের ইচ্ছাক্রমে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম যোগী সাধারণত ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদ করে প্রাণবায়ুকে দেহ থেকে মুক্ত করেন । তাই যোগী উপরোক্ত সাতটি রহ্মকে রুদ্ধ করেন , যাতে স্বাভাবিকভাবেই প্রাণবায়ু ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদ করতে পারে । এটি মহান ভক্তের পক্ষে সব রকম জড়জাগতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নিশ্চিত লক্ষণ ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।