শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ১৯
    ইত্থং মুনিস্তূপরমেদ্ব্যবস্থিতো
    বিজ্ঞানদৃগ্বীর্যসুরন্ধিতাশয়ঃ ।
    স্বপার্ষ্ণিনাপীড্য গুদং ততোঽনিলং
    স্থানেষু ষট্সূন্নময়েজ্জিতক্লমঃ ৷৷ ১৯ ৷৷

  • অনুবাদ : এইভাবে মুনিরা ব্রহ্ম স্বরূপে অবস্থিত হয়ে শাস্ত্রজ্ঞানের প্রভাবে বিষয় বাসনাসমূহ সমূলে বিনষ্ট করে পাদমূলের দ্বারা মূলাধারকে রুদ্ধ করেন, এবং প্রাণবায়ুকে ষট্ স্থানে উন্নীত করে তাঁদের জড় দেহ ত্যাগ করেন ।
  • তাৎপর্যঃ- বহু দুরাত্মা দাবী করে যে , তাদের ব্রহ্মোপলব্ধি হয়েছে , অথচ তারা তাদের জড় বাসনাসমূহ জয় করতে অক্ষম । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ১৮/৫৪ ) স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে , ব্রহ্মভূত অবস্থায় আত্মা সব রকম জড় বাসনা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয় । জড় বাসনাসমূহ জীবের মিথ্যা অহঙ্কারের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তা প্রকাশ পায় জড়া প্রকৃতিকে জয় করার এবং প্রকৃতির পঞ্চ - মহাভূতের উপর আধিপত্য করার শিশুসুলভ ও অর্থহীন কার্যকলাপের মাধ্যমে । এই প্রকারের মনোভাবের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জীব আণবিক শক্তি এবং যন্ত্রযানের মাধ্যমে অন্তরীক্ষ ভ্রমণের আবিষ্কারকারী জড় বিজ্ঞানের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস করে এবং জড় বিজ্ঞানের এই নগণ্য প্রগতির গর্বে গর্বিত হয়ে পরমেশ্বর ভগবানের শক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় , যিনি এক নিমেষে মানুষের সমস্ত ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে দিতে পারেন । ব্যবস্থিত আত্মা বা ব্রহ্মভূত আত্মা , পূর্ণরূপে হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন যে , পরব্রহ্ম বা পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন সর্বশক্তিমান বাসুদেব এবং তিনি ( আত্ম উপলব্ধ পুরুষ ) হচ্ছেন সেই পরম পূর্ণের বিভিন্ন অংশ । প্রকৃতপক্ষে , তার স্বরূপে তার কর্তব্য হচ্ছে অপ্রাকৃত সেব্য সেবকের সম্পর্কে সম্পর্কিত হয়ে সর্বতোভাবে তাকে সহযোগিতা করা । এই প্রকার আত্মোপলব্ধ ব্যক্তি জড়া প্রকৃতির উপর আধিপত্য বিস্তার করার অর্থহীন কার্যকলাপে লিপ্ত না হয়ে শাস্ত্রের মাধ্যমে যথার্থ তত্ত্বজ্ঞান লাভপূর্বক সর্বতোভাবে ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হন ।

        সিদ্ধ যোগী যোগ অভ্যাসের দ্বারা তার প্রাণবায়ুকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত করে নিম্নলিখিত উপায়ে দেহত্যাগ করেন । তিনি পাদমূলের দ্বারা মূলাধারকে রুদ্ধ করে ধীরে ধীরে প্রাণবায়ুকে ক্রমান্বয়ে নাভি , হৃদয় , বক্ষস্থল , তালুমূল , ভূমধা এবং ব্রহ্মরন্ধ্রে উন্নীত করে দেহত্যাগ করেন । এই যোগ পদ্ধতির দ্বারা প্রাণবায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রক্রিয়া , তা যান্ত্রিক এবং একদিক দিয়ে দেখতে গেলে এটি দৈহিক কার্যকলাপের মাধ্যমে পারমার্থিক সিদ্ধিলাভের চেষ্টা । পুরাকালে এই প্রকার অনুশীলন পরমার্থবাদীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল , কেননা তখনকার দিনের জীবনধারা এবং মানুষের চরিত্র এই প্রচেষ্টার অনুকূল ছিল । কিন্তু আধুনিক যুগে , কলিযুগের প্রভাবে পরিবেশ এতই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে যে , এই প্রকার দৈহিক ক্রিয়া যথাযথভাবে অনুশীলন করতে প্রায় • সকলেই অক্ষম । এই যুগে মনকে একাগ্র করার সহজ পন্থা হচ্ছে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করা এবং প্রাণায়ামাদি যৌগিক প্রক্রিয়ার থেকে তার ফল অনেক বেশি কার্যকরী ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।