শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ৪:
    দেহাপত্যকলত্রাদিষ্বাত্মসৈন্যেষ্বসৎস্বপি।
    তেষাং প্রমত্তো নিধনং পশ্যন্নপি ন পশ্যতি ।।৪।।

  • অনুবাদ : আত্মতত্ত্বজ্ঞানরহিত ব্যক্তিরা দেহ , পুত্র , পত্নী আদি অনিত্য সৈন্যদের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়ে জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলি সমাধানের কোন চেষ্টা করে না । এই সমস্ত বিষয়ের অনিত্যতা সম্বন্ধে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও তারা তাদের অবশ্যম্ভাবী বিনাশ দর্শন করে না ।
  • তাৎপর্যঃ- এই জড় জগতকে বলা হয় মৃত্যুলোক । লক্ষকোটি বৎসর আয়ুষ্কাল সমন্বিত ব্রহ্মা থেকে শুরু করে কয়েক পলকের আয়ু সমন্বিত বীজাণু পর্যন্ত প্রতিটি জীব বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে । তাই , এই জীবন হচ্ছে মৃত্যু - প্রদানকারী প্রকৃতির বিরুদ্ধে এক প্রকার সংগ্রাম । মনুষ্য জীবন পাওয়ার ফলে জীব এই মহা জীবন সংগ্রামের তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করার যোগ্যতা অর্জন করে কিন্তু পরিবার , সমাজ , দেশ ইত্যাদির প্রতি অত্যন্ত আসক্ত । হয়ে সে তার দৈহিক শক্তি , পুত্র , পত্নী , আত্মীয় - স্বজন ইত্যাদির সাহায্যে অপরাজেয় জড়া প্রকৃতিকে জয় করতে চায় । তার পূর্বপুরুষদের দেহাবসান দর্শন করার মাধ্যমে এই বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করা সত্ত্বেও সে বুঝতে চায় না যে , তার পুত্র , আত্মীয় - স্বজন , সমাজ , দেশবাসী ইত্যাদি সকলেই এই মহাযুদ্ধে অসহায় সৈনিক মাত্র । সকলেরই বিচার করে দেখা উচিত যে , তার পিতা অথবা পিতামহ ইতিমধ্যেই হত হয়েছেন এবং সে নিজেও হত হবে , এবং তেমনই তার পুত্র , পৌত্র সকলেই যথাসময়ে মৃত্যু বরণ করবে । জড়া প্রকৃতির এই সংগ্রামে কেউই বাচবে না । মানব সমাজের ইতিহাস আলোচনা করলে তা সহজেই হৃদয়ঙ্গম করা যায় কিন্তু তবুও মূর্খ মানুষেরা দাবী করে যে , ভবিষ্যতে জড় বিজ্ঞানের সাহায্যে তারা নিত্য জীবন লাভ করতে সক্ষম হবে । এই ভ্রান্ত জ্ঞান অবশ্যই মানুষকে বিপথে চালিত করছে এবং তার প্রধান কারণ , আত্মার স্বরূপ সম্বন্ধে তাদের অজ্ঞতা । এই জড়া প্রকৃতির অস্তিত্ব স্বপ্নের মতো , এবং তার কারণ হচ্ছে , তার প্রতি আমাদের আসক্তি । জীব তার স্বরূপে সর্বদাই জড়া প্রকৃতি থেকে ভিন্ন । জড়া প্রকৃতির মহাসমুদ্র কালস্রোতে নিয়ত উদ্বেলিত হচ্ছে , এবং সেই সমুদ্রে দেহ , পত্নী , পুত্র , সমাজ , দেশবাসী ইত্যাদি রূপে প্রকাশিত জীবন বুদ্বুদেরহ মতো । আত্মজ্ঞানের অভাবে অজ্ঞানের দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আমরা এই জড় জগতে নিত্য জীবন লাভের ব্যর্থ প্রচেষ্টায় দুর্লভ মানব জীবনের অপচয় করি ।

       আমাদের তথাকথিত আত্মীয় - স্বজন , বন্ধু - বান্ধব , পুত্র - কন্যা ইত্যাদি কেবল অনিত্য বা পতনশীলই নয় , জড়া প্রকৃতির বাহ্যিক চাকচিক্যের দ্বারা বিভ্রান্তও বটে । তারা কখনোই আমাদের রক্ষা করতে পারে না । কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা মনে করি যে আত্মীয় - স্বজন , সমাজ অথবা দেশের গণ্ডীর মধ্যে আমরা নিরাপদে রয়েছি ।

       মানব - সমাজের জড় প্রগতি মৃতদেহ সাজানোর মতো । সকলেই এক - একটি মৃতদেহ , কেবল কয়েকদিনের জন্য নড়াচড়া করছে । অথচ সেই দেহটিকে সাজাবার জন্য মানব জীবনের সমস্ত শক্তির অপচয় করা হচ্ছে । শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ভ্রান্ত মানুষদের প্রকৃত অবস্থা প্রদর্শন করে প্রতিটি মানুষের প্রকৃত কর্তব্য কি , সে সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করেছেন । আত্মতত্ত্বজ্ঞানবিহীন মানুষেরা বিপথগামী , কিন্তু যারা ভগবানের ভক্ত হওয়ার ফলে যথাযথভাবে পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করেছেন , তারা কখনই বিভ্রান্ত হন না ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।