শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ২:
    শ্রোতব্যাদীনি রাজেন্দ্র নৃণাং সন্তি সহস্ৰশঃ ।
    অপশ্যতামাত্মতত্ত্বং গৃহেষু গৃহমেধিনাম্ ॥২ ॥

  • অনুবাদ : হে রাজশ্রেষ্ঠ , আত্মতত্ত্বজ্ঞান আলোচনায় উদাসীন , বিষয়াসক্ত গৃহমেধীদের অসংখ্য শ্রবণীয় , কীর্তনীয় এবং স্মরণীয় বিষয়সমূহ আছে ।
  • তাৎপর্যঃ- শাস্ত্রে গৃহীদের গৃহস্থ এবং গৃহমেধী এই দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে । গৃহস্থ হচ্ছেন তারা , যারা স্ত্রী - পুত্র সহ গৃহে অবস্থান করলেও আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য পারমার্থিক চিন্তায় মগ্ন হয়ে জীবন যাপন করেন । আর গৃহমেধী হচ্ছে তারা , যারা তাদের আত্মীয় - স্বজনদের স্বার্থসিদ্ধির কাজেই কেবল মগ্ন থেকে মাৎসর্যপূর্ণ জীবন যাপন করে । মেধী শব্দটির অর্থ হচ্ছে অপরের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ । গৃহমেধীরা কেবল তাদের পরিবারের স্বার্থে মগ্ন থাকায় অবশ্যই অন্যদের প্রতি মাৎসর্যপরায়ণ । তাই গৃহমেধীরা পরস্পরের প্রতি সদাশয়পূর্ণ নন , এবং বৃহত্তর ও সামগ্রিক বিবেচনায় এক সম্প্রদায় আর এক সম্প্রদায়ের প্রতি এক সমাজ আর এক সমাজের প্রতি অথবা এক দেশ আর এক দেশের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে সম্পর্কিত নয় । কলিযুগে গৃহীরা পরস্পরের প্রতি মাৎসর্যপরায়ণ , কেননা তারা পরম তত্ত্বজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধ বা উদাসীন । তাদের শ্রবণীয় রাজনৈতিক , বৈজ্ঞানিক , সামাজিক , অর্থনৈতিক বহু বিষয় রয়েছে , কিন্তু যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানের অভাবে তারা জন্ম , মৃত্যু , জরা , ব্যাধি আদি জীবনের চরম দুঃখ সম্বন্ধীয় সমস্ত প্রশ্নগুলি সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন । প্রকৃতপক্ষে , জন্ম , মৃত্যু , জরা এবং ব্যাধিজনিত সমস্ত সমস্যার আত্যস্তিক সমাধান করাই মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য । কিন্তু গৃহমেধীরা , জড়া প্রকৃতির প্রভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়ে আত্মতত্ত্বজ্ঞান লাভের কথা সম্পূর্ণ ভুলে যায় । জীবনের সমস্ত সমস্যার চরম সমাধান হয় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে যে কথা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ( ৮/১৬ ) বলা হয়েছে — জড় জগতের সমস্ত দুঃখ - দুর্দশা – জন্ম , মৃত্যু , জরা এবং ব্যাধি সর্বতোভাবে উপশম হয় ।

        ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার উপায় হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের নাম , রূপ , গুণ , লীলা , পরিকর এবং বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে শ্রবণ করা । মূর্খ মানুষেরা তা জানে না । তারা কেবল অনিত্য বস্তুসমূহের নাম রূপ ইত্যাদি সম্বন্ধে শুনতে চায় , এবং তাদের আত্যস্তিক কল্যাণ সাধনের জন্য তাদের শ্রবণের প্রবণতাকে কিভাবে নিযুক্ত করতে হয় , তা তারা জানে না । বিপথগামী মানুষেরা পরম তত্ত্বের নাম , রূপ , গুণ আদির সম্বন্ধে অসৎ সাহিত্য রচনা করে । তাই অন্যের প্রতি মাৎসর্যপরায়ণ হয়ে গৃহমেধীর জীবন - যাপন করা উচিত নয় ; শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে আদর্শ গৃহস্থের জীবন - যাপন করাই মানুষের কর্তব্য ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.