শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-১, ( ভগবদ- উপলব্ধির প্রথম স্তর )

    শ্লোক: ১২:
    কিং প্রমত্তস্য বহুভিঃ পরোক্ষৈর্হায়নৈরিহ ৷
    বরং মুহূর্তং বিদিতং ঘটতে শ্রেয়সে যতঃ ॥১২ ৷৷

  • অনুবাদ : বিষয়ভোগে প্রমত্ত অনভিজ্ঞ ব্যক্তির দীর্ঘ জীবনে কি লাভ ? তার থেকে বরং পূর্ণ চেতনাসম্পন্ন এক মুহূর্তও শ্রেয় , কেননা তার ফলে পরমার্থ সাধনের অন্বেষণ শুরু হয় ।
  • তাৎপর্যঃ- শ্রীল শুকদেব গোস্বামী মহারাজ পরীক্ষিতকে প্রতিটি প্রগতিশীল ব্যক্তির পক্ষে ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করার মাহাত্ম্য সম্বন্ধে উপদেশ দিয়েছেন । মহারাজ পরীক্ষিতকে , যার জীবনের আর কেবল সাতটি মাত্র দিন বাকী ছিল , অনুপ্রাণিত করার উদ্দেশ্যে শ্রীল শুকদেব গোস্বামী বলেছিলেন যে জীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলি সম্বন্ধে অজ্ঞ থেকে শত শত বৎসর বেঁচে থাকা নিষ্প্রয়োজন , তার থেকে বরং জীবনের পরম উদ্দেশ্য সাধন সম্পর্কে পূর্ণরূপে সচেতন হয়ে এক মুহূর্ত বেঁচে থাকা ভাল । জীবনের পরমার্থ নিত্য , জ্ঞানময় ও আনন্দময় যারা জড়া - প্রকৃতির বহিরঙ্গা রূপের দ্বারা মোহাচ্ছন্ন , তারা আহার , নিদ্রা , ভয় এবং মৈথুনাদি পশুপ্রবৃত্তিগুলি চরিতার্থ করার প্রচেষ্টায় নিযুক্ত হয়ে তাদের জীবনের মূল্যবান বছরগুলি অপচয় করে । আমাদের পূর্ণ চেতনা সহকারে অবগত হওয়া উচিত যে বদ্ধ জীব মনুষ্য জীবন প্রাপ্ত হয় আধ্যাত্মিক সাফল্য লাভের জন্য , এবং ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করাই হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য সাধনের সবচাইতে সহজ পন্থা । পূর্ববর্তী শ্লোকে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে , এবং সেই নাম প্রভুর চরণে বিভিন্ন প্রকার অপরাধ সম্বন্ধে আমরা পরে আরও গভীরভাবে আলোকপাত করতে পারি । শ্রীল জীব গোস্বামী প্রভু বিভিন্ন প্রামাণিক শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে নাম প্রভুর চরণে অপরাধ সম্বন্ধে বিশ্লেষণ করেছেন । বিষ্ণুযামলতন্ত্র থেকে শ্রীল জীব গোস্বামী প্রমাণ করেছেন যে কেবলমাত্র ভগবানের পবিত্র নাম কীর্তন করার ফলে জীব সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে । মার্কণ্ডেয় পুরাণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শ্রীল জীব গোস্বামী বলেছেন যে ভগবদ্ভুক্তের নিন্দা করা উচিত নয় এবং ভগবস্তুক্তের নিন্দা শ্রবণ করা উচিত নয় । ভগবস্তুক্তের উচিত সেই নিন্দুকের জিহ্বা কেটে তাকে নিরস্ত করা । আর তা করতে সক্ষম না হলে সেই নিন্দা শ্রবণ করার থেকে আত্মহত্যা করা শ্রেয় । অর্থাৎ ভগবদ্ভুক্তের নিন্দা শ্রবণ করা উচিত নয় এবং অন্য কাউকে নিন্দা করতে দেওয়া উচিত নয় বা তা অনুমোদন করা উচিত নয় । ভগবানের পবিত্র নাম থেকে দেবদেবীদের নামের পার্থক্য নিরূপণ করা সম্বন্ধে শাস্ত্রে ( ভঃ গীঃ ১০/৪১ ) উল্লেখ করা হয়েছে যে , অলৌকিক শক্তিসম্পন্ন সমস্ত জীবেরা হচ্ছেন পরম শক্তিমান শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন অংশ । একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন ঈশ্বর আর অন্য সকলেই তার ভৃত্য ; ভগবান থেকে কেউই স্বতন্ত্র নয় । যেহেতু কেউই ভগবান থেকে শ্রেষ্ঠ অথবা তার সমকক্ষ নয় , তাই কারও নামই ভগবানের নামের মতো শক্তিশালী হতে পারে না । ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করার ফলে ভক্তির সমস্ত উৎস থেকে শক্তি আহরণ করা যায় , তাই অন্য কোন নামকে পরম পবিত্র ভগবানের নামের সমপর্যায়ভুক্ত করা উচিত নয় । ব্রহ্মা , শিব অথবা অন্য কোন শক্তিশালী দেবতারা কখনই পরমেশ্বর ভগবান বিষ্ণুর সমকক্ষ হতে পারেন না । শক্তিশালী ভগবানের দিব্য নাম অবশ্যই জীবকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করতে পারেন । কিন্তু যদি কেউ ভগবানের দিব্য নামের অপ্রাকৃত বলে পাপকর্মে লিপ্ত হয় , তাহলে সে হচ্ছে সবচাইতে অধঃপতিত মানুষ । ভগবান এবং তার প্রতিনিধিরা কখনই সেই প্রকার মানুষকে ক্ষমা করেন না । তাই নিরপরাধে ভগবানের মহিমা কীর্তন করার উদ্দেশ্যে জীবনের সবকিছু সর্বতোভাবে ব্যবহার করা উচিত । সেই কার্য যদি এক মুহূর্তের জন্যও সম্পাদিত হয় , তাহলে তা বৃক্ষ আদি জীবদের পারমার্থিক প্রগতিবিহীন শত - সহস্র বর্ষ ব্যাপী জীবনের থেকেও অনেক গুণ শ্রেয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।