শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ১ম স্কন্দ, অধ্যায়-১, ( ঋষিদের প্রশ্ন )

    শ্লোক: ৩
    নিগমকল্পতরোর্গলিতং ফলং
    শুকমুখাদমৃতদ্ৰবসংযুতম্ ।
    পিবত ভাগবতং রসমালয়ং
    মুহুরহো রসিকা ভুবি ভাবুকাঃ ॥ ৩ ॥

    নিগম – বৈদিক শাস্ত্রসমূহ ; কল্প-তরোঃ —– কল্পবৃক্ষ ; গলিতম্ – অত্যন্ত সুপক ; ফলম্ – ফল; শুক — শ্রীমদ্ভাগবতের আদি বক্তা শ্রীল শুকদেব গোস্বামী ; মুখাৎ — মুখ থেকে ; অমৃত — অমৃত ; দ্রব — ঈযৎ কঠিন এবং কোমল হওয়ার ফলে যা সহজে গেলা যায় ; সংযুতম্ — সর্বতোভাবে পূর্ণ , পিবত — আস্বাদন করেন ; ভাগবতম্ —– পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে জীবের নিত্য সম্পর্কের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ ; রসম্ — রস ( যা আস্বাদন করা যায় ) ; আলয়ম্ – মুক্তি পর্যন্ত , অথবা মুক্ত অবস্থাতে; মুহুঃ — নিরন্তর ; অহো - হে ; রসিকাঃ — যারা সম্পূর্ণরূপে ভগবৎ - প্রীতিরস সম্পর্কে অবগত ; ভুবি — এই পৃথিবীতে ; ভাবুকাঃ – বিচক্ষণ এবং চিন্তাশীল ।
  • অনুবাদ : হে বিচক্ষণ এবং চিন্তাশীল মানুষ , কল্পবৃক্ষরূপী বৈদিক শাস্ত্রের অত্যন্ত সুপক্ক ফল শ্রীমদ্ভাগবত আস্বাদন করুন । তা শ্রীল শুরুদেব গোস্বামীর শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছিল । তাই এই ফলটি আরও অধিক উপাদেয় হয়েছে , যদিও এই অমৃতময় রস মুক্ত পুরুষেরা পর্যন্ত আস্বাদন করে থাকেন ।
  • তাৎপর্যঃ- পূর্ববর্তী দুটি শ্লোকে স্পষ্টভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে যে , শ্রীমদ্ভাগবত তার অপ্রাকৃত গুণাবলীর প্রভাবে সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের মধ্যে সর্বোত্তম । এই গ্রন্থে যে জ্ঞান বিতরণ করা হয়েছে তা সব রকমের জাগতিক কার্যকলাপ এবং পার্থিব জ্ঞানের অতীত । এই শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে যে শ্রীমদ্ভাগবত কেবল উন্নত জ্ঞান - সমন্বিত শাস্ত্রই নয় , তা হচ্ছে সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের সুপক ফল । পক্ষান্তরে বলা যায় এটি হচ্ছে সমস্ত বৈদিক জ্ঞানের সারাতিসার । এই সমস্ত তথ্য বিবেচনা করে ধৈর্য এবং বিনয় সহকারে তা শ্রবণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন । ঐকান্তিক শ্রদ্ধা এবং একাগ্রতা সহকারে শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী শ্রবণ করা উচিত ।

       বেদকে কল্পবৃক্ষের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে । কেন না তাতে মানুষের জ্ঞাতব্য সমস্ত জ্ঞান রয়েছে । বেদে পরমার্থ - বিষয়ক জ্ঞান যেমন প্রচার করা হয়েছে , তেমনই জাগতিক প্রয়োজনগুলি সম্বন্ধে তাতে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে । বেদে সামাজিক , রাজনৈতিক , ধর্মীয় , অর্থনৈতিক , সামরিক , চিকিৎসা বিজ্ঞান , রসায়ন , পদার্থবিদ্যা , অধিবিদ্যা ইত্যাদি সব রকম জাগতিক বিষয় - সম্বন্ধীয় বৈধজ্ঞান প্রদত্ত হয়েছে এবং এইগুলি শরীর ও মন নির্বাহ করার জন্য প্রয়োজন হতে পারে । এই সমস্ত বিষয়ের ঊর্ধ্বে অধ্যাত্ম বিষয়ের নির্দেশ রয়েছে । বিধিবদ্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে জীবকে ক্রমান্বয়ে পারমার্থিক স্তরে উন্নীত করা হয় এবং সর্বোচ্চ পারমার্থিক জ্ঞান হচ্ছে সমস্ত দিব্য আনন্দ বা রসের আধার পরমেশ্বর ভগবানকে জানা ।

       এই জড় জগতের প্রথম জীব ব্রহ্মা থেকে শুরু করে একটি নগণ্য পিপীলিকা পর্যন্ত সকলেই ইন্দ্রিয়ানুভূতি - প্রসূত অন্য কোন রকম সুখ আস্বাদন করতে চায় । এই সমস্ত ইন্দ্রিয় সুখগুলিকে বলা হয় রস । বিভিন্ন রকমের রস রয়েছে । বৈদিক শাস্ত্রে নিম্নলিখিত বারোটি রসের উল্লেখ করা হয়েছে : ১ ) রৌদ্র , ২ ) অদ্ভুত , ৩ ) হাস্য , ৪ ) বীর , ৫ ) করুণ , ৬ ) বীভৎস , ৭ ) ভয়ানক , ৮ ) শান্ত , ৯ ) দাস্য , ১০ ) সখ্য , ১১ ) বাৎসল্য , এবং ১২ ) মাধুর্য ।

       এই সমস্ত রসের সমন্বয়কে বলা হয় প্রেম । প্রেমের মুখ্য লক্ষণগুলি হচ্ছে সম্ভ্রম , সেবা , সখ্য , বাৎসল্য এবং মাধুর্য । এই পাঁচটি রস যখন অনুপস্থিত থাকে , তখন প্রেম পরোক্ষভাবে হাস্য , অদ্ভুত , বীর , রৌদ্র , করুণ , ভয়ানক এবং বীভৎস রসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় । যেমন , কোন পুরুষ যখন কোন স্ত্রীর প্রতি আসক্ত থাকে , তখন সেই রসকে বলা হয় মাধুর্য রস । কিন্তু পরস্পরের প্রতি তাদের এই আসক্তি যখন ব্যাহত হয় তখন বিস্ময় , ক্রোধ , বীভৎস অথবা ভয়ানক ভাবের উদয় হতে পারে । অনেক সময় স্ত্রী - পুরুষের প্রণয় ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে পর্যবসিত হতে দেখা যায় । এই সমস্ত রসগুলি মানুষের সঙ্গে মানুষের অথবা পশুর সঙ্গে পশুর মধ্যে দেখা যায় । মানুষের সঙ্গে অন্য কোন জীবের এই ধরনের বিনিময়ের সম্ভাবনা নেই । রসের বিনিময় স্বজাতির মধ্যেই হয়ে থাকে । গুণগতভাবে জীবাত্মা পরমেশ্বর ভগবানের স্বজাতীয় । তাই চিন্ময় স্তরে পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে জীবের রস - বিনিময় পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয় ।

       তাই শ্রুতি মন্ত্রে ভগবানকে রসো বৈ সঃ অর্থাৎ সমস্ত রসের উৎস বলে বর্ণনা করা হয়েছে । যখন পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে কারও স্বরূপগত রসের বিনিময় হয় । তখনই কেবল যথার্থভাবে আনন্দ আস্বাদন হয় । তখনই কেবল যথার্থভাবে সুখী হওয়া যায় ।

       শ্রুতি মন্ত্রে বলা হয়েছে যে প্রতিটি জীবই তার স্বরূপে কোন বিশেষ রসে পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত । মুক্ত অবস্থাতেই কেবল জীবের স্বরূপগত রস পূর্ণরূপে অনুভূত হয় । জড় জগতে যে রস আস্বাদিত হয়ে থাকে তা প্রকৃত রসের বিকৃত প্রতিফলন এবং অনিত্য । জড় জগতে রসের যে প্রকাশ দেখা যায় তা হচ্ছে চিন্ময় রসগুলির জড়জাগতিক রূপ — তা প্রকৃত রস নয় ।

       তাই যিনি এই সমস্ত রসগুলির সম্বন্ধে সম্পূর্ণভাবে অবগত হয়েছেন , যা হচ্ছে সমস্ত কার্যকলাপের মৌলিক অনুপ্রেরণা , তিনি বুঝতে পারেন কিভাবে প্রকৃত রসগুলি জড় জগতে বিকৃতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে । যারা যথার্থ তত্ত্বজ্ঞানী তাঁরা তাঁদের চিন্ময় স্বরূপে যথার্থ রস আস্বাদন করার প্রয়াস করেন । প্রাথমিক স্তরে তাঁরা পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার বাসনা করেন । তাই অল্পবুদ্ধি সম্পন্ন অধ্যাত্মবাদীরা যেহেতু বিভিন্ন রস সম্বন্ধে অজ্ঞ , তাই তারা ব্রহ্মে লীন হয়ে যাওয়ার সাযুজ্য মুক্তির ঊর্ধ্বে অগ্রসর হতে পারেন না ।

       এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে যে শ্রীমদ্ভাগবত যেহেতু বৈদিক জ্ঞানের সুপক্ক ফল , তাই তা মুক্ত অবস্থাতেই আস্বাদন করা যায় । শ্রদ্ধাযুক্ত চিত্তে এই অপ্রাকৃত শাস্ত্ৰ শ্রবণ করার ফলে হৃদয় ভরে এই পূর্ণ আনন্দ আস্বাদন করা যায় । তবে যথার্থ বক্তার কাছ থেকে এই বাণী শ্রবণ করতে হবে — যার - তার কাছ থেকে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করলে চলবে না । যথার্থ গুরুপরম্পরার ধারায় এই জ্ঞান আহরণ করতে হয় । চিন্ময় জগৎ থেকে এই জ্ঞান নিয়ে আসেন নারদ মুনি এবং তিনি তাঁর শিষ্য ব্যাসদেবকে তা দান করেন । ব্যাসদেব তা তাঁর পুত্র শুকদেব গোস্বামীকে দান করেন , এবং শুকদেব গোস্বামী মহারাজ পরীক্ষিতের মৃত্যুর সাতদিন পূর্বে তাকে এই জ্ঞান দান করেছিলেন । শুকদেব গোস্বামী তার জন্মের পূর্বে থেকেই মুক্ত পুরুষ ছিলেন । তিনি যখন তার মাতৃগর্ভে ছিলেন তখনই তিনি মুক্ত ছিলেন , এবং তাঁর জন্মের পর তাকে কোন রকম পারমার্থিক শিক্ষালাভের সংস্কার করতে হয় নি । জন্মের সময় , তা সে জড়জাগতিক বিচার শক্তি হোক অথবা পারমার্থিক বিচার শক্তি হোক্ , জীবের যথার্থ যোগ্যতা থাকে না । কিন্তু শ্রীল শুকদেব গোস্বামী যেহেতু সম্পূর্ণরূপে মুক্ত পুরুষ ছিলেন , তাই তাকে ক্রমান্বয়ে পারমার্থিক তত্ত্বজ্ঞান লাভ করতে হয় নি । কিন্তু তিনি জড় জগতের তিনটি গুণের অতীত এবং মুক্ত অবস্থায় অধিষ্ঠিত হলেও , তিনি মুক্ত পুরুষদের দ্বারা বৈদিক গ্লোকে বন্দিত পরমেশ্বর ভগবানের অপ্রাকৃত রসের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন । পরমেশ্বর ভগবানের লীলাবিলাস বদ্ধ জীবদের থেকে মুক্ত পুরুষদের আরও বেশি করে আকৃষ্ট করে । সেই পরমেশ্বর ভগবান অবশ্য নির্বিশেষ বা নিরাকার নন , কেন না রস আস্বাদন করা কেবল সবিশেষ পুরুষের পক্ষেই সম্ভব ।

       শ্রীমদ্ভাগবতে পরমেশ্বর ভগবানের অপ্রাকৃত লীলাবিলাসের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে , এবং শ্রীল শুকদেব গোস্বামী তা অত্যন্ত সুসংবদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন । এইভাবে সেই বিষয়টি সকলকেই আকৃষ্ট করে , এমন কি ব্রহ্ম - জ্যোতিতে লীন হয়ে যাওয়ার প্রয়াসী মুমুক্ষুদেরও তা আকৃষ্ট করে ।

       সংস্কৃত ভাষায় টিয়া পাখিকে বলা হয় শুক । এই শুক পক্ষী যখন তার রক্তিম চঞ্চু দিয়ে কোন পক্ক ফলের স্বাদ গ্রহণ করে , তখন সেই ফল আরও মধুর হয়ে ওঠে । বৈদিক কল্পবৃক্ষের এই সুপক ফল তেমনই শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর শ্রীমুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে বলে আরও মধুর হয়ে উঠেছে । শুকদেব গোস্বামী তাঁর পিতৃদেবের কাছ থেকে প্রাপ্ত শ্রীমদ্ভাগবত যথাযথভাবে আবৃত্তি করতে পারেন বলে তাঁকে শুক পক্ষীর সঙ্গে তুলনা করা হয় নি , সমস্ত শ্রেণীর মানুষের উপযুক্ত করে তা প্রদান করার যোগ্যতার জন্যই তাকে শুক পক্ষীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে ।

       শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর শ্রীমুখ থেকে এই বিষয়টি এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছে যে , যে কোনও নিষ্ঠাবান শ্রোতা যদি শ্রদ্ধাযুক্ত চিত্তে তা শ্রবণ করেন , তা হলে তিনি তৎক্ষণাৎ সেই অপ্রাকৃত রস আস্বাদন করতে পারেন , যা হচ্ছে জড়জাগতিক রস থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন । এই সুপক ফলটি অপ্রাকৃত জগতের সর্বোচ্চ লোক কৃষ্ণলোক থেকে হঠাৎ পতিত হয় নি । পক্ষান্তরে , তা অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে গুরু - শিষ্য - পরম্পরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবিকৃতভাবে এবং অক্ষতভাবে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে । যে সমস্ত মূর্খ মানুষ পারমার্থিক পরম্পরার অন্তর্ভুক্ত নয় , তারা শ্রীল শুরুদেব গোস্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ না করে পারমার্থিক জগতে সর্বোচ্চ রস রাসলীলার তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করে মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি করে । শ্রীল শুকদেব গোস্বামী অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে স্তরে স্তরে এই পারমার্থিক তত্ত্ব উন্মোচন করেছেন । তাই যথার্থ বুদ্ধিমান মানুষের কর্তব্য হচ্ছে শুকদেব গোস্বামী যে সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়টি প্রকাশ করেছেন সে কথা বিবেচনা করে শ্রীমদ্ভাগবতের মহিমা হৃদয়ঙ্গম করার চেষ্টা করা । ভাগবত - সম্প্রদায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে , ভবিষ্যতেও শ্রীমদ্ভাগবতের তত্ত্ব সম্বন্ধে শিক্ষালাভ করতে হবে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর উপযুক্ত প্রতিনিধির কাছ থেকে । যে সমস্ত মানুষ অর্থ উপার্জন করার জন্য শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করে , তারা কখনই শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর প্রতিনিধি নয় । এই ধরনের মানুষের কাজ হচ্ছে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করা । তাই এই ধরনের পেশাদারি ভাগবত পাঠকদের ভাগবত পাঠ কখনই শোনা উচিত নয় । এই ধরনের মানুষেরা সাধারণত শ্রীমদ্ভাগবতের বিষয়বস্তুর গুরুত্ব স্তরে স্তরে হৃদয়ঙ্গম না করে সরাসরি শ্রীমদ্ভাগবতের সবচাইতে গোপনীয় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করে । তারা সাধারণত সরাসরিভাবে ভগবানের রাসলীলা নিয়ে আলোচনা করে , যার পারমার্থিক তত্ত্ব মূর্খ লোকেরা বুঝতে পারে না । কিছু কিছু মানুষ ভগবানের এই লীলা - বিলাসকে অশ্লীল বলে মনে করে , আর কিছু লোক তাদের মূর্খ ভাষ্যের দ্বারা তা ঢাকবার চেষ্টা করে । শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর পদাঙ্ক অনুসরণ করার কোন রকম বাসনাই তাদের নেই ।

       তাই রস সম্বন্ধে যারা জানতে ঐকান্তিকভাবে আগ্রহী , তাদের শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর ধারায় গুরু - পরম্পরার মাধ্যমে শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী গ্রহণ করতে হবে , কেন না শ্রীল শুকদেব গোস্বামীই হচ্ছেন শ্রীমদ্ভাগবতের আদি বক্তা এবং তিনি পারমার্থিক বিজ্ঞান সম্বন্ধে অনভিজ্ঞ কতকগুলি বিষয়ী মানুষের মনোরঞ্জন করার জন্য তাঁর মনগড়া কতকগুলি কথা বলেননি । শ্রীমদ্ভাগবত এত সাবধানতার সঙ্গে প্রদান করা হয়েছে যে , ঐকান্তিক এবং নিষ্ঠাবান শ্রোতা শ্রীল শুকদেব গোস্বামী অথবা তার আদর্শ প্রতিনিধির শ্রীমুখ থেকে এই অমৃতময় রস পান করার ফলে তৎক্ষণাৎ বৈদিক জ্ঞানের সুপক্ক ফল আস্বাদন করতে পারেন ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।