শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।
কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ
শ্রীমদ্ভাগবত ১ম স্কন্দ, অধ্যায়-১, ( ঋষিদের প্রশ্ন )
শ্লোক: ২
ধর্মঃ প্রোজ্ ঝিতকৈতবোঽত্র পরমো নির্মৎসরাণাং সতাং
বেদ্যং বাস্তবমত্র বস্তু শিবদং তাপত্রয়োন্মূলনম্ ।
শ্রীমদ্ভাগবতে মহামুনিকৃতে কিং বা পরৈরীশ্বরঃ
সদ্যো হৃদ্যবরুধ্যতেঽত্র কৃতিভিঃ শুশ্রুষুভিস্তৎক্ষণাৎ ॥ ২ ॥
ধর্ম — ধর্ম; প্রোজ্ ঝিত— সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে ; কৈতবঃ— ভুক্তিমুক্তি বাসনা যুক্ত ; অত্র — এখানে; পরমঃ- সর্বোচ্চ; নির্মৎসরাণাম্ — যাঁর হৃদয় সম্পূর্ণভাবে নির্মল হয়েছে; সতাম্ – ভক্ত ; বেদ্যম্ – বোধগম্য; ৰাস্তবম্- বাস্তব ; অত্র- এখানে : বস্তু - বস্তু ; শিবদম্ - পরমানন্দদায়ক ; তাপ ত্রয় — ত্রিতাপ : উন্মূলনম্ – সমূলে উৎপাটিত করে ; শ্রীমৎ — সুন্দর ; ভাগবতে - ভাগবত পুরাণ ; মহামুনি – মহামুনি ( ব্যাসদেব ) ; কৃতে – রচিত ; কিম্-কি; বা-প্রয়োজন; পরৈঃ — অন্য কিছু ; ঈশ্বরঃ পরমেশ্বর ভগবান ; সদ্যঃ — অবিলম্বে; হৃদি — হৃদয়ে ; অবরুধ্যতে- অবরুদ্ধ হয় ; অত্র — এখানে; কৃতিভিঃ– সুকৃতি সম্পন্ন মানুষদের দ্বারা ; শুশ্রুষুভিঃ — অনুশীলনের ফলে ; তৎ-ক্ষণাৎ - অবিলম্বে ।
অনুবাদ :
জড় বাসনাযুক্ত সব রকমের ধর্ম সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে এই ভাগবত পুরাণ পরম সত্যকে প্রকাশ করেছে যা কেবল সর্বতোভাবে নির্মৎসর ভক্তরাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন । পরম সত্য হচ্ছে পরম মঙ্গলময় বাস্তব বস্তু । সেই সত্যকে জানতে পারলে ত্রিতাপ দুঃখ সমূলে উৎপাটিত হয় । মহামুনি বেদব্যাস ( উপলব্ধির পরিপক্ক অবস্থায় ) এই শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করেছেন এবং ভগবত্ত্বজ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করতে এই গ্রন্থটিই যথেষ্ট । সুতরাং অন্য কোনও শাস্ত্রগ্রন্থের আর কি প্রয়োজন ? কেউ যখন শ্রদ্ধাবনত চিত্তে এবং একাগ্রতা সহকারে এই ভাগবতের বাণী শ্রবণ করেন , তখন তার হৃদয়ে ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান প্রকাশিত হয়।
তাৎপর্যঃ-
ধর্মের অন্তর্গত চারটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে — পুণ্যকর্ম , অর্থনৈতিক উন্নতি , ইন্দ্রিয় মুখভোগ এবং চরমে জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি । ধর্মবিহীন জীবন হচ্ছে অসভ্য জীবন । ধর্ম আচরণ শুরু হলেই কেবল যথার্থ মানব জীবনের শুরু হয় । আহার , নিদ্রা , ভয় এবং মৈথুন এই চারটি হচ্ছে পশু জীবনের ভিত্তি । এই প্রবৃত্তিগুলি মানুষ এবং পশু উভয়ের মধ্যেই রয়েছে । কিন্তু ধর্ম আচরণ হচ্ছে মানব জীবনের একটি বিশেষ কার্য । ধর্মবিহীন মনুষ্য জীবন পশুজীবনের থেকে কোন অংশেই উন্নত নয় । তাই মানব সমাজে ধর্ম - অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মজ্ঞান লাভ করা এবং পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে জীবের নিত্য সম্পর্কের কথা অবগত হওয়া ।
মানব সভ্যতার নিম্ন স্তরে সব সময়ই জড় জগতকে ভোগ করার তীব্র বাসনা থাকে এবং তার ফলে নিরন্তর ইন্দ্রিয় - তৃপ্তির জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় । এই ধরনের চেতনার দ্বারা তাড়িত হয়ে মানুষ ক্রমান্বয়ে বিপর্যস্ত হতে হতে অবশেষে ধর্মের প্রতি উন্মুখ হয় । সে তখন জড় মুখভোগের আশায় পুণ্যকর্ম অথবা ধর্ম - অনুষ্ঠান করে । কিন্তু এই ধরনের জড় সুখভোগ যদি অন্য উপায়ে লাভ করা যায় , তখন তারা তথাকথিত সেই সমস্ত ধর্ম আচরণে অবহেলা করে । এটিই হচ্ছে আধুনিক সভ্যতার পরিস্থিতি । মানুষ যথেষ্ট অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে , তাই এখন আর তারা ধর্মের প্রতি ততটা উৎসাহী নয় । মন্দির , মসজিদ অথবা গির্জাগুলি এখন প্রায় শূন্যই পড়ে থাকে । মানুষ এখন তাদের পূর্ব পুরুষদের তৈরি ধর্ম - আচরণের স্থানগুলি থেকে কল - কারখানা , দোকান - বাজার এবং প্রেক্ষাগৃহ ইত্যাদির প্রতি অধিক উৎসাহী । এর থেকে সহজেই প্রমাণিত হয় যে কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের জন্যই সেই ধরনের ধর্ম অনুষ্ঠান হয় । অর্থনৈতিক উন্নতির প্রয়োজন ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য । অনেক সময় দেখা যায় যে কেউ যখন ইন্দ্রিয় সুখভোগের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয় , তখন সে মোক্ষলাভের চেষ্টা করে এবং পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে এক হয়ে যেতে চায় । প্রকৃতপক্ষে , এই ধরনের প্রচেষ্টাগুলিও ইন্দ্রিয় সুখভোগেরই নামান্তর ।
বেদে এই চারটি কর্মেরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , যাতে মানুষ যথাযথভাবে তাদের জীবনপথে অগ্রসর হতে পারে এবং ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য পরস্পরের মধ্যে অনর্থক প্রতিযোগিতা না হয় । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের উদ্দেশ্যে সমস্ত কার্যকলাপের অতীত এক দিব্য শাস্ত্র । এটি হচ্ছে পূর্ণরূপে জড় জগতের কলুষ থেকে মুক্ত একটি গ্রন্থ , যা কেবল জড় ভোগ - বাসনা রহিত ভগবানের শুদ্ধ ভক্তরাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন । জড় জগতের মানুষে মানুষে , পশুতে পশুতে , সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে , জাতিতে জাতিতে নিরন্তর প্রতিযোগিতা হচ্ছে । কিন্তু ভগবানের ভক্তরা এই ধরনের প্রতিযোগিতার অতীত । তারা জড়বাদীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন না , কেন না তাঁরা ভগবদ্ধামের দিকে এগিয়ে চলেছেন , যেখানে জীবন নিত্য এবং আনন্দময় । এই ধরনের মহাত্মারা সম্পূর্ণরূপে নির্মৎসর এবং তাদের হৃদয়বৃত্তি সম্পূর্ণরূপে নির্মল । জড় জগতের সকলকেই একে অপরকে হিংসা করে , এবং তাই পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয় । কিন্তু ভগবানের ভক্তরা কেবল জড়জাগতিক ঈর্ষা থেকেই মুক্ত নন , তাঁরা সকলেরই শুভাকাঙ্ক্ষী , এবং তাঁরা চেষ্টা করেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ভগবৎ - কেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার । আধুনিক যুগের সাম্যবাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে । কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা যথাযথ নয় , কেন না সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতেও রাষ্ট্রপ্রধানের পদের জন্য প্রতিযোগিতা রয়েছে । বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সাধারণ মানবিক কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় যে ইন্দ্রিয় সুখভোগ হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভিত্তি । বেদে তিনটি পন্থার উল্লেখ করা হয়েছে । তার একটি হচ্ছে উচ্চতর লোকে উন্নীত হওয়ার জন্য সকাম কর্ম , দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে তাদের লোকে উন্নীত হওয়া এবং তৃতীয়টি হচ্ছে নির্বিশেষরূপে পরম সত্যকে উপলব্ধি করে তাঁর সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া ।
পরমতত্ত্বের নির্বিশেষ রূপ তাঁর সর্বোচ্চ প্রকাশ নয় । নির্বিশেষ রূপের ঊর্ধ্বে হচ্ছে । ভগবানের পরমাত্মা রূপ এবং তারও ঊর্ধ্বে হচ্ছে পরমতত্ত্বের সবিশেষ রূপ — তাঁর ভগবান রূপ । শ্রীমদ্ভাগবতে পরমতত্ত্বের সবিশেষ রূপের বর্ণনা রয়েছে । এটি নির্বিশেষ তত্ত্ব - সমন্বিত গ্রন্থাবলী এবং বেদের জ্ঞানকাণ্ড থেকে অনেক উচ্চস্তরের বিষয় । এমন কি এটি কর্মকাণ্ড এবং উপাসনাকাণ্ডেরও ঊর্ধ্বে , কেন না এতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার পন্থা নির্দেশিত হয়েছে । কর্মকাণ্ডে উন্নততর ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য স্বর্গলোকে উন্নীত হওয়ার কামনা রয়েছে , এবং জ্ঞানকাণ্ড এবং উপাসনাকাণ্ডেও এই ধরনের কামনা রয়েছে । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত সেগুলি থেকে অনেক ঊর্ধ্বে , কারণ তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে পরম সত্যের সবিশেষ প্রকাশ পরমেশ্বর ভগবান , যিনি হচ্ছেন সব কিছুরই পরম কেন্দ্র । শ্রীমদ্ভাগবতের মাধ্যমে মূল তত্ত্ব এবং তার বৈশিষ্ট্য উভয় সম্বন্ধেই অবগত হওয়া যায় । মূল তত্ত্ব হচ্ছেন পরম সত্য পরমেশ্বর ভগবান , এবং অন্য সব কিছুই হচ্ছে তাঁর শক্তির আপেক্ষিক প্রকাশ ।
কোন কিছুই মূল তত্ত্ব থেকে বিচ্যুত নয় , কিন্তু তা সত্ত্বেও শক্তি শক্তিমান থেকে ভিন্ন । এই ধারণাটি পরস্পরবিরোধী নয় । বেদান্ত - সূত্রের একটি সূত্র জন্মাদ্যস্য যতঃ এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে যে শ্রীমদ্ভাগবত , তাতে বেদান্ত - সূত্রের অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে । যে সমস্ত মনোধর্মী শক্তিকে পরমতত্ত্ব বলে প্রচার করতে চায় তাদের সেই বিকৃত সিদ্ধান্তের উত্তর হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতের বিজ্ঞান , যাতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে ভগবানের শক্তি ভগবানের সঙ্গে যুগপৎ ভিন্ন এবং অভিন্ন । এই জ্ঞান যখন যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায় , তখন দেখা যায় যে দ্বৈতবাদ এবং অদ্বৈতবাদ উভয়ই অপূর্ণ । এই অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের ভিত্তিতে যখন দিব্য চেতনার বিকাশ
হয় তখন মানুষ জড় জগতের ত্রিতাপ দুঃখ থেকে মুক্ত হন । এই ত্রিতাপ দুঃখ হচ্ছে – ( ১ ) মন এবং দেহজাত আধ্যাত্মিক ক্লেশ , ( ২ ) অন্য প্রাণীজনিত আধিভৌতিক ক্লেশ , এবং ( ৩ ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়জাত আধিদৈবিক ক্লেশ । শ্রীমদ্ভাগবতের সূচনা হচ্ছে ভগবানের চরণে শরণাগতির মাধ্যমে । ভক্ত সর্বতোভাবে অবগত থাকেন যে তিনি পরমেশ্বরের সঙ্গে এক , তবে তাঁর স্থিতি হচ্ছে পরমেশ্বরের নিত্য সেবক রূপে । জড় জগতে ভ্রান্তিবশত কেউ মনে করতে পারে যে তিনিই হচ্ছেন সব কিছুর অধীশ্বর , এবং তার ফলে তিনি নিরন্তর ত্রিতাপ দুঃখ ভোগ করেন । কিন্তু কেউ যখন হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন যে তার যথার্থ স্বরূপে তিনি হচ্ছেন ভৃত্য , তৎক্ষণাৎ তিনি সমস্ত দুঃখ - দুর্দশা থেকে মুক্ত হন । জীব যতক্ষণ জড় জগতের উপর প্রভুত্ব করার চেষ্টা করে , ততক্ষণ তার পক্ষে ভগবানের সেবক হওয়ার কোন রকম সম্ভাবনাই থাকে না । পরমেশ্বর ভগবানের সেবা পারমার্থিক স্বরূপের শুদ্ধ চেতনার মাধ্যমেই কেবল সাধিত হয় । এই সেবার মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায় ।
সর্বোপরি , শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে বেদান্ত - সূত্রের রচয়িতা শ্রীল ব্যাসদেব কর্তৃক প্রদত্ত বেদাস্ত - সূত্রের ভাষ্য । তাঁর পারমার্থিক জীবনের পরিপক্ক অবস্থায় নারদ মুনির কৃপায় তিনি সেটি রচনা করেন । শ্রীল ব্যাসদেব হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণের অবতার । তাই তাঁর প্রামাণিকতা সম্বন্ধে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না । তিনি হচ্ছেন বৈদিক শাস্ত্রগ্রন্থের প্রণেতা , আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে অন্যান্য শাস্ত্রগ্রন্থ অধ্যয়ন করার আর কোন প্রয়োজন নেই , কেবল শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করলেই পরমার্থ সাধিত হবে । অন্যান্য পুরাণে বিভিন্ন দেবদেবীর উপাসনা করার পন্থা নির্দিষ্ট হয়েছে । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতে কেবল পরমেশ্বর ভগবানের কথাই বর্ণিত হয়েছে । পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন পূর্ণ , এবং বিভিন্ন দেব - দেবীরা হচ্ছেন তাঁর অংশ - সদৃশ । তাই পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করলে আর অন্য দেব - দেবীর পূজা করতে হয় না । পরমেশ্বর ভগবান তৎক্ষণাৎ ভক্তের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমদ্ভাগবতকে অমল পুরাণ বলে অভিহিত করে অন্যান্য সমস্ত পুরাণ থেকে তার স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ করেছেন ।
পারমার্থিক জ্ঞান লাভ করার যথার্থ পন্থা হচ্ছে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে শ্রবণ । উদ্ধৃত ভাবসম্পন্ন হলে এই অপ্রাকৃত বাণী হৃদয়ঙ্গম করা যায় না । যথার্থভাবে এই জ্ঞান আহরণ করা সম্বন্ধে ' শুশ্রুষু ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । এই অপ্রাকৃত বাণী শ্রবণ করার জন্য ঐকান্তিকভাবে উৎকণ্ঠিত হতে হবে । নিষ্ঠাভরে তা শ্রবণ করাই হচ্ছে এই জ্ঞান আহরণের প্রাথমিক যোগ্যতা ।
যে সমস্ত মানুষ দুর্ভাগা , তারা এই শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণে বিন্দুমাত্রও উৎসাহী নয় । এই পন্থাটি অত্যন্ত সরল , কিন্তু তার প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন । দুর্ভাগা মানুষেরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়ে অলস আলোচনা করার যথেষ্ট সময় পায় , কিন্তু
যখন তাদের ভক্তসঙ্গে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার জন্য আহ্বান করা হয় তখন তারা তাতে তাদের অনিচ্ছা প্রকাশ করে । কখনও কখনও পেশাদারি ভাগবত পাঠকেরা শুরুতেই পরমেশ্বর ভগবানের অতি অন্তরঙ্গ এবং অতি গোপনীয় লীলাবিলাসের আলোচনা করে , যা শুনে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তা যেন একটি কাম - বিষয়ক গ্রন্থ । শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করতে হয় প্রথম থেকে । এই গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হৃদয়ঙ্গম করার যোগ্যতা সম্বন্ধে এই শ্লোকে বলা হয়েছে : " বহু সুকৃতি অর্জন করার ফলে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার যোগ্যতা লাভ করা যায় । " বুদ্ধিমান মানুষেরা তাদের চিন্তাশীল বিচারের দ্বারা উপলব্ধি করতে পারেন যে মহর্ষি বেদব্যাস আশ্বাস দিয়ে গেছেন যে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানকে জানা যায় । বেদে নির্দেশিত পারমার্থিক উপলব্ধির বিভিন্ন স্তরে উন্নীত না হয়েও , কেবলমাত্র শ্রীমদ্ভাগবতের এই জ্ঞান শ্রবণ করার মাধ্যমেই কেবল সরাসরিভাবে পরমহংস স্তরে উন্নীত হওয়া যায় ।
পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
শ্রীমদ্ভাগবত
শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ১৮শ অধ্যায় মোক্ষযোগ
শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত
শ্রীমদ্ভাগবত ১ম স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ৩য় স্কন্ধ - ১ম ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ৩য় স্কন্ধ - ২য় ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ৪র্থ স্কন্ধ - ১ম ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ৪র্থ স্কন্ধ - ২য় ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ৫ম স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ৬ষ্ঠ স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ৭ম স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ৮ম স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ৯ম স্কন্ধ
শ্রীমদ্ভাগবত ১০ম স্কন্ধ - ১ম ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১০ম স্কন্ধ - ২য় ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১০ম স্কন্ধ - ৩য় ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১০ম স্কন্ধ - ৪র্থ ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১১শ স্কন্ধ - ১ম ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১১শ স্কন্ধ - ২য় ভাগ
শ্রীমদ্ভাগবত ১২শ স্কন্ধ
সুনির্বাচিত গ্রন্থের তালিকা
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
(আদি মধ্য ও অন্ত্য)
শ্রীশ্রীচৈতন্যভাগবত
ভক্তিরসামৃত সিন্ধু
শ্রীকৃষ্ণকর্ণামৃতম্
শ্রীশিক্ষাষ্টক
শ্রীভক্তিকল্পবৃক্ষ
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত আদিলীলা
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত মধ্যলীলা- ১ম খন্ড
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত মধ্যলীলা- ২য় খন্ড
শ্রীশ্রীচৈতন্যচরিতামৃত অন্ত্যলীলা
অপ্রাকৃত কৃষ্ণপ্রসাদ
কুন্তীদেবীর শিক্ষা !
শ্রীমদ্ভাগবত
প্রকৃতির নিয়ম
কর্মের অবশ্যম্ভাবী ফল
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
ভক্তবৎসল শ্রীনৃসিংহদেব
জাগ্রত চেতনা
ভক্ত প্রশিক্ষণ
ভক্তিগীতি - সঞ্চয়ন
একাদশী মাহাত্ম্য
গৌর-কৃষ্ণ-জগন্নাথ
গৃহে বসে কৃষ্ণ ভজন
শ্রীহরিনামামৃত
শ্রীঈশোপনিষদ
জগতে আমরা কোথায় ?
জীবন আসে জীবন থেকে
কীর্তন করুন এবং সুখী হোন
কৃষ্ণভাবনাময় জীবনের প্রস্তুতি
কৃষ্ণভক্তি অনুশীলনের পন্থা
শ্রীকৃষ্ণের সন্ধানে
নিত্য আনন্দের পথ নির্দেশ
পরলোকে সুগম যাত্রা
যুগাচার্য শ্রীল প্রভুপাদ
প্রেমভক্তি চন্দ্রিকা
পুনরাগমন
মহাজন উপদেশ
বাল্মীকি রামায়ণ
শ্রীউপদেশামৃত
বৈষ্ণব সদাচার
বৈষ্ণব শিক্ষা ও সাধনা
মহাজন উপদেশ
*
ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
জপ-কীর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 2 দশ নামাপরাধ
*
আচার-আচরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
মৃত্যু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক (মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র)
*
ভক্ত সম্বন্ধীয় গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 ,
4 ,
5 ,
*
ভক্তিমূলক সেবা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 ,
4 ,
5 ,
*
কর্তব্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
গুরু / শিষ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 ,
2 ,
3 ,
*
মানবজন্ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
নির্বিশেষবাদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
কলিযুগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
জ্ঞান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকে
Page => 1 , 2
*
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 , 4 ,
5 ,
6 ,
*
মায়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 ,
*
অভক্ত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
*
আত্মা-পরমাত্মা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
জড় জগৎ ও চিন্ময় জগৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
যোগ, তপশ্চর্যা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
বর্ণাশ্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
শ্রীমদ্ভাগবতের গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 , 4 ,
5 , 6 ,
7 , 8 ,
9 , 10 ,
11 , 12 ,
*
শ্রীমদ্ভাগবত গীতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 , 4 ,
5 , 6
*
চৈতন্য চরিতামৃত থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
Page => 1 , 2
*
পূরাণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
চাণক্য পণ্ডিতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
ব্রহ্মসংহিতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
উপনিষদের গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
শিক্ষাষ্টক এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোকগুলো
*
ভক্তিরসামৃত সিন্ধু থেকে গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক
*
বিবিধ গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শ্লোক
Page => 1 , 2 ,
3 , 4 ,
5 , 6 ,
শ্রী শ্রী দামোদরাষ্টকম্
শ্রীশ্রীগুর্বষ্টকম্
দশাবতার স্তোত্র
এছাড়াও দেখুন
*
শ্রীভগবানের মুখে যুদ্ধের কথা কেন?
*
ধর্ম্ম কি বিজ্ঞান ছাড়া ? ভোগবাদীদের কতিপয় যুক্তি!
*
সত্ত্ব, রজো ও তমোগুণে প্রভাবিত মানুষের লক্ষণঃ
*
আমাদের বিশেষ বিশেষ ধরণের স্বভাব, আচরণ কেন?
*
প্রণাম মন্ত্র
For Ad Contact
0183 45 45 989
শ্রী শ্রী দামোদরাষ্টকম্
শ্রীশ্রীগুর্বষ্টকম , গুরুদেবের বন্দনা
শ্রীল প্রভুপাদ এর অবদান-
জপ-কীর্তন কেন করবেন ?
*
সত্যিই কি ঈশ্বর আছেন?
*
বিজ্ঞানী নিউটন কর্তৃক ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণঃ
*
অযৌক্তিক বিগ ব্যাং থিওরি !
*
সমগ্র সৃষ্টির ব্যাপারে বৈদিক সিদ্ধান্ত কি?
*
সমগ্র সৃষ্টির রহস্য ও উৎস কি?  
*
" জয় শ্রীকৃষ্ণ "