শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ১ম স্কন্দ, অধ্যায়-১, ( ঋষিদের প্রশ্ন )

    শ্লোক: ২
    ধর্মঃ প্রোজ্ ঝিতকৈতবোঽত্র পরমো নির্মৎসরাণাং সতাং
    বেদ্যং বাস্তবমত্র বস্তু শিবদং তাপত্রয়োন্মূলনম্ ।
    শ্রীমদ্ভাগবতে মহামুনিকৃতে কিং বা পরৈরীশ্বরঃ
    সদ্যো হৃদ্যবরুধ্যতেঽত্র কৃতিভিঃ শুশ্রুষুভিস্তৎক্ষণাৎ ॥ ২ ॥

    ধর্ম — ধর্ম; প্রোজ্ ঝিত— সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে ; কৈতবঃ— ভুক্তিমুক্তি বাসনা যুক্ত ; অত্র — এখানে; পরমঃ- সর্বোচ্চ; নির্মৎসরাণাম্ — যাঁর হৃদয় সম্পূর্ণভাবে নির্মল হয়েছে; সতাম্ – ভক্ত ; বেদ্যম্ – বোধগম্য; ৰাস্তবম্- বাস্তব ; অত্র- এখানে : বস্তু - বস্তু ; শিবদম্ - পরমানন্দদায়ক ; তাপ ত্রয় — ত্রিতাপ : উন্মূলনম্ – সমূলে উৎপাটিত করে ; শ্রীমৎ — সুন্দর ; ভাগবতে - ভাগবত পুরাণ ; মহামুনি – মহামুনি ( ব্যাসদেব ) ; কৃতে – রচিত ; কিম্-কি; বা-প্রয়োজন; পরৈঃ — অন্য কিছু ; ঈশ্বরঃ পরমেশ্বর ভগবান ; সদ্যঃ — অবিলম্বে; হৃদি — হৃদয়ে ; অবরুধ্যতে- অবরুদ্ধ হয় ; অত্র — এখানে; কৃতিভিঃ– সুকৃতি সম্পন্ন মানুষদের দ্বারা ; শুশ্রুষুভিঃ — অনুশীলনের ফলে ; তৎ-ক্ষণাৎ - অবিলম্বে ।
  • অনুবাদ : জড় বাসনাযুক্ত সব রকমের ধর্ম সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে এই ভাগবত পুরাণ পরম সত্যকে প্রকাশ করেছে যা কেবল সর্বতোভাবে নির্মৎসর ভক্তরাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন । পরম সত্য হচ্ছে পরম মঙ্গলময় বাস্তব বস্তু । সেই সত্যকে জানতে পারলে ত্রিতাপ দুঃখ সমূলে উৎপাটিত হয় । মহামুনি বেদব্যাস ( উপলব্ধির পরিপক্ক অবস্থায় ) এই শ্রীমদ্ভাগবত রচনা করেছেন এবং ভগবত্ত্বজ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করতে এই গ্রন্থটিই যথেষ্ট । সুতরাং অন্য কোনও শাস্ত্রগ্রন্থের আর কি প্রয়োজন ? কেউ যখন শ্রদ্ধাবনত চিত্তে এবং একাগ্রতা সহকারে এই ভাগবতের বাণী শ্রবণ করেন , তখন তার হৃদয়ে ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান প্রকাশিত হয়।
  • তাৎপর্যঃ- ধর্মের অন্তর্গত চারটি মৌলিক বিষয় হচ্ছে — পুণ্যকর্ম , অর্থনৈতিক উন্নতি , ইন্দ্রিয় মুখভোগ এবং চরমে জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্তি । ধর্মবিহীন জীবন হচ্ছে অসভ্য জীবন । ধর্ম আচরণ শুরু হলেই কেবল যথার্থ মানব জীবনের শুরু হয় । আহার , নিদ্রা , ভয় এবং মৈথুন এই চারটি হচ্ছে পশু জীবনের ভিত্তি । এই প্রবৃত্তিগুলি মানুষ এবং পশু উভয়ের মধ্যেই রয়েছে । কিন্তু ধর্ম আচরণ হচ্ছে মানব জীবনের একটি বিশেষ কার্য । ধর্মবিহীন মনুষ্য জীবন পশুজীবনের থেকে কোন অংশেই উন্নত নয় । তাই মানব সমাজে ধর্ম - অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে যার উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মজ্ঞান লাভ করা এবং পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে জীবের নিত্য সম্পর্কের কথা অবগত হওয়া ।

       মানব সভ্যতার নিম্ন স্তরে সব সময়ই জড় জগতকে ভোগ করার তীব্র বাসনা থাকে এবং তার ফলে নিরন্তর ইন্দ্রিয় - তৃপ্তির জন্য পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় । এই ধরনের চেতনার দ্বারা তাড়িত হয়ে মানুষ ক্রমান্বয়ে বিপর্যস্ত হতে হতে অবশেষে ধর্মের প্রতি উন্মুখ হয় । সে তখন জড় মুখভোগের আশায় পুণ্যকর্ম অথবা ধর্ম - অনুষ্ঠান করে । কিন্তু এই ধরনের জড় সুখভোগ যদি অন্য উপায়ে লাভ করা যায় , তখন তারা তথাকথিত সেই সমস্ত ধর্ম আচরণে অবহেলা করে । এটিই হচ্ছে আধুনিক সভ্যতার পরিস্থিতি । মানুষ যথেষ্ট অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করেছে , তাই এখন আর তারা ধর্মের প্রতি ততটা উৎসাহী নয় । মন্দির , মসজিদ অথবা গির্জাগুলি এখন প্রায় শূন্যই পড়ে থাকে । মানুষ এখন তাদের পূর্ব পুরুষদের তৈরি ধর্ম - আচরণের স্থানগুলি থেকে কল - কারখানা , দোকান - বাজার এবং প্রেক্ষাগৃহ ইত্যাদির প্রতি অধিক উৎসাহী । এর থেকে সহজেই প্রমাণিত হয় যে কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি সাধনের জন্যই সেই ধরনের ধর্ম অনুষ্ঠান হয় । অর্থনৈতিক উন্নতির প্রয়োজন ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য । অনেক সময় দেখা যায় যে কেউ যখন ইন্দ্রিয় সুখভোগের প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয় , তখন সে মোক্ষলাভের চেষ্টা করে এবং পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে এক হয়ে যেতে চায় । প্রকৃতপক্ষে , এই ধরনের প্রচেষ্টাগুলিও ইন্দ্রিয় সুখভোগেরই নামান্তর ।

       বেদে এই চারটি কর্মেরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে , যাতে মানুষ যথাযথভাবে তাদের জীবনপথে অগ্রসর হতে পারে এবং ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য পরস্পরের মধ্যে অনর্থক প্রতিযোগিতা না হয় । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে ইন্দ্রিয়তৃপ্তি সাধনের উদ্দেশ্যে সমস্ত কার্যকলাপের অতীত এক দিব্য শাস্ত্র । এটি হচ্ছে পূর্ণরূপে জড় জগতের কলুষ থেকে মুক্ত একটি গ্রন্থ , যা কেবল জড় ভোগ - বাসনা রহিত ভগবানের শুদ্ধ ভক্তরাই হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন । জড় জগতের মানুষে মানুষে , পশুতে পশুতে , সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে , জাতিতে জাতিতে নিরন্তর প্রতিযোগিতা হচ্ছে । কিন্তু ভগবানের ভক্তরা এই ধরনের প্রতিযোগিতার অতীত । তারা জড়বাদীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেন না , কেন না তাঁরা ভগবদ্ধামের দিকে এগিয়ে চলেছেন , যেখানে জীবন নিত্য এবং আনন্দময় । এই ধরনের মহাত্মারা সম্পূর্ণরূপে নির্মৎসর এবং তাদের হৃদয়বৃত্তি সম্পূর্ণরূপে নির্মল । জড় জগতের সকলকেই একে অপরকে হিংসা করে , এবং তাই পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হয় । কিন্তু ভগবানের ভক্তরা কেবল জড়জাগতিক ঈর্ষা থেকেই মুক্ত নন , তাঁরা সকলেরই শুভাকাঙ্ক্ষী , এবং তাঁরা চেষ্টা করেন প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ভগবৎ - কেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার । আধুনিক যুগের সাম্যবাদও প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে । কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা যথাযথ নয় , কেন না সমাজতান্ত্রিক দেশগুলিতেও রাষ্ট্রপ্রধানের পদের জন্য প্রতিযোগিতা রয়েছে । বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিপ্রেক্ষিতে অথবা সাধারণ মানবিক কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায় যে ইন্দ্রিয় সুখভোগ হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভিত্তি । বেদে তিনটি পন্থার উল্লেখ করা হয়েছে । তার একটি হচ্ছে উচ্চতর লোকে উন্নীত হওয়ার জন্য সকাম কর্ম , দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করে তাদের লোকে উন্নীত হওয়া এবং তৃতীয়টি হচ্ছে নির্বিশেষরূপে পরম সত্যকে উপলব্ধি করে তাঁর সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া ।

       পরমতত্ত্বের নির্বিশেষ রূপ তাঁর সর্বোচ্চ প্রকাশ নয় । নির্বিশেষ রূপের ঊর্ধ্বে হচ্ছে । ভগবানের পরমাত্মা রূপ এবং তারও ঊর্ধ্বে হচ্ছে পরমতত্ত্বের সবিশেষ রূপ — তাঁর ভগবান রূপ । শ্রীমদ্ভাগবতে পরমতত্ত্বের সবিশেষ রূপের বর্ণনা রয়েছে । এটি নির্বিশেষ তত্ত্ব - সমন্বিত গ্রন্থাবলী এবং বেদের জ্ঞানকাণ্ড থেকে অনেক উচ্চস্তরের বিষয় । এমন কি এটি কর্মকাণ্ড এবং উপাসনাকাণ্ডেরও ঊর্ধ্বে , কেন না এতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার পন্থা নির্দেশিত হয়েছে । কর্মকাণ্ডে উন্নততর ইন্দ্রিয় সুখভোগের জন্য স্বর্গলোকে উন্নীত হওয়ার কামনা রয়েছে , এবং জ্ঞানকাণ্ড এবং উপাসনাকাণ্ডেও এই ধরনের কামনা রয়েছে । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত সেগুলি থেকে অনেক ঊর্ধ্বে , কারণ তাঁর লক্ষ্য হচ্ছে পরম সত্যের সবিশেষ প্রকাশ পরমেশ্বর ভগবান , যিনি হচ্ছেন সব কিছুরই পরম কেন্দ্র । শ্রীমদ্ভাগবতের মাধ্যমে মূল তত্ত্ব এবং তার বৈশিষ্ট্য উভয় সম্বন্ধেই অবগত হওয়া যায় । মূল তত্ত্ব হচ্ছেন পরম সত্য পরমেশ্বর ভগবান , এবং অন্য সব কিছুই হচ্ছে তাঁর শক্তির আপেক্ষিক প্রকাশ ।

       কোন কিছুই মূল তত্ত্ব থেকে বিচ্যুত নয় , কিন্তু তা সত্ত্বেও শক্তি শক্তিমান থেকে ভিন্ন । এই ধারণাটি পরস্পরবিরোধী নয় । বেদান্ত - সূত্রের একটি সূত্র জন্মাদ্যস্য যতঃ এর মাধ্যমে শুরু হয়েছে যে শ্রীমদ্ভাগবত , তাতে বেদান্ত - সূত্রের অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে । যে সমস্ত মনোধর্মী শক্তিকে পরমতত্ত্ব বলে প্রচার করতে চায় তাদের সেই বিকৃত সিদ্ধান্তের উত্তর হচ্ছে শ্রীমদ্ভাগবতের বিজ্ঞান , যাতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে ভগবানের শক্তি ভগবানের সঙ্গে যুগপৎ ভিন্ন এবং অভিন্ন । এই জ্ঞান যখন যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায় , তখন দেখা যায় যে দ্বৈতবাদ এবং অদ্বৈতবাদ উভয়ই অপূর্ণ । এই অচিন্ত্য ভেদাভেদ তত্ত্বের ভিত্তিতে যখন দিব্য চেতনার বিকাশ হয় তখন মানুষ জড় জগতের ত্রিতাপ দুঃখ থেকে মুক্ত হন । এই ত্রিতাপ দুঃখ হচ্ছে – ( ১ ) মন এবং দেহজাত আধ্যাত্মিক ক্লেশ , ( ২ ) অন্য প্রাণীজনিত আধিভৌতিক ক্লেশ , এবং ( ৩ ) প্রাকৃতিক বিপর্যয়জাত আধিদৈবিক ক্লেশ । শ্রীমদ্ভাগবতের সূচনা হচ্ছে ভগবানের চরণে শরণাগতির মাধ্যমে । ভক্ত সর্বতোভাবে অবগত থাকেন যে তিনি পরমেশ্বরের সঙ্গে এক , তবে তাঁর স্থিতি হচ্ছে পরমেশ্বরের নিত্য সেবক রূপে । জড় জগতে ভ্রান্তিবশত কেউ মনে করতে পারে যে তিনিই হচ্ছেন সব কিছুর অধীশ্বর , এবং তার ফলে তিনি নিরন্তর ত্রিতাপ দুঃখ ভোগ করেন । কিন্তু কেউ যখন হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন যে তার যথার্থ স্বরূপে তিনি হচ্ছেন ভৃত্য , তৎক্ষণাৎ তিনি সমস্ত দুঃখ - দুর্দশা থেকে মুক্ত হন । জীব যতক্ষণ জড় জগতের উপর প্রভুত্ব করার চেষ্টা করে , ততক্ষণ তার পক্ষে ভগবানের সেবক হওয়ার কোন রকম সম্ভাবনাই থাকে না । পরমেশ্বর ভগবানের সেবা পারমার্থিক স্বরূপের শুদ্ধ চেতনার মাধ্যমেই কেবল সাধিত হয় । এই সেবার মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়া যায় ।

       সর্বোপরি , শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে বেদান্ত - সূত্রের রচয়িতা শ্রীল ব্যাসদেব কর্তৃক প্রদত্ত বেদাস্ত - সূত্রের ভাষ্য । তাঁর পারমার্থিক জীবনের পরিপক্ক অবস্থায় নারদ মুনির কৃপায় তিনি সেটি রচনা করেন । শ্রীল ব্যাসদেব হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান নারায়ণের অবতার । তাই তাঁর প্রামাণিকতা সম্বন্ধে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না । তিনি হচ্ছেন বৈদিক শাস্ত্রগ্রন্থের প্রণেতা , আর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে অন্যান্য শাস্ত্রগ্রন্থ অধ্যয়ন করার আর কোন প্রয়োজন নেই , কেবল শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করলেই পরমার্থ সাধিত হবে । অন্যান্য পুরাণে বিভিন্ন দেবদেবীর উপাসনা করার পন্থা নির্দিষ্ট হয়েছে । কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতে কেবল পরমেশ্বর ভগবানের কথাই বর্ণিত হয়েছে । পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন পূর্ণ , এবং বিভিন্ন দেব - দেবীরা হচ্ছেন তাঁর অংশ - সদৃশ । তাই পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করলে আর অন্য দেব - দেবীর পূজা করতে হয় না । পরমেশ্বর ভগবান তৎক্ষণাৎ ভক্তের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হন । শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমদ্ভাগবতকে অমল পুরাণ বলে অভিহিত করে অন্যান্য সমস্ত পুরাণ থেকে তার স্বাতন্ত্র্য নিরূপণ করেছেন ।

       পারমার্থিক জ্ঞান লাভ করার যথার্থ পন্থা হচ্ছে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে শ্রবণ । উদ্ধৃত ভাবসম্পন্ন হলে এই অপ্রাকৃত বাণী হৃদয়ঙ্গম করা যায় না । যথার্থভাবে এই জ্ঞান আহরণ করা সম্বন্ধে ' শুশ্রুষু ' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । এই অপ্রাকৃত বাণী শ্রবণ করার জন্য ঐকান্তিকভাবে উৎকণ্ঠিত হতে হবে । নিষ্ঠাভরে তা শ্রবণ করাই হচ্ছে এই জ্ঞান আহরণের প্রাথমিক যোগ্যতা ।

       যে সমস্ত মানুষ দুর্ভাগা , তারা এই শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণে বিন্দুমাত্রও উৎসাহী নয় । এই পন্থাটি অত্যন্ত সরল , কিন্তু তার প্রয়োগ অত্যন্ত কঠিন । দুর্ভাগা মানুষেরা রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিষয়ে অলস আলোচনা করার যথেষ্ট সময় পায় , কিন্তু যখন তাদের ভক্তসঙ্গে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার জন্য আহ্বান করা হয় তখন তারা তাতে তাদের অনিচ্ছা প্রকাশ করে । কখনও কখনও পেশাদারি ভাগবত পাঠকেরা শুরুতেই পরমেশ্বর ভগবানের অতি অন্তরঙ্গ এবং অতি গোপনীয় লীলাবিলাসের আলোচনা করে , যা শুনে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় তা যেন একটি কাম - বিষয়ক গ্রন্থ । শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করতে হয় প্রথম থেকে । এই গ্রন্থটির বিষয়বস্তু হৃদয়ঙ্গম করার যোগ্যতা সম্বন্ধে এই শ্লোকে বলা হয়েছে : " বহু সুকৃতি অর্জন করার ফলে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার যোগ্যতা লাভ করা যায় । " বুদ্ধিমান মানুষেরা তাদের চিন্তাশীল বিচারের দ্বারা উপলব্ধি করতে পারেন যে মহর্ষি বেদব্যাস আশ্বাস দিয়ে গেছেন যে শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার মাধ্যমে পরমেশ্বর ভগবানকে জানা যায় । বেদে নির্দেশিত পারমার্থিক উপলব্ধির বিভিন্ন স্তরে উন্নীত না হয়েও , কেবলমাত্র শ্রীমদ্ভাগবতের এই জ্ঞান শ্রবণ করার মাধ্যমেই কেবল সরাসরিভাবে পরমহংস স্তরে উন্নীত হওয়া যায় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।