শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১২শ অধ্যায়:- ভক্তিযোগ -এর সার সংক্ষেপ:-
লেখক-
শ্রী স্বপন কুমার রায়
মহা ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ ব্যাংক৷
সাধারণ সম্পাদক, শ্রী শ্রী গীতাসংঘ, মতিঝিল শাখা, ঢাকা৷
--------------------------------------
ভগবানকে লাভের অন্যতম উপায় হচ্ছে ভক্তি। ভক্তিধন যার আছে তিনিই ভক্ত। ভগবান ভক্তি রজ্জুতে বাধা পড়েন। তাই ভক্ত ভগবানের অতীব প্রিয়। এই ভক্তি এবং ভক্তের কথাই এই অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে বিধায় এ অধ্যায়ের নাম ভক্তিযোগ। মাত্র বিশটি শ্লোক বিশিষ্ট এ অধ্যায়ের শুরুতেই অর্জুন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট জানতে চাইলেন, যিনি সতত যুক্ত হয়ে পরমেশ্বরের সগুণ রূপের উপাসনা করেন এবং যিনি নিরাকার অক্ষরব্রহ্মের উপাসনা করেন- এদের মধ্যে কে যোগবিত্তমা বা অধিকতর উত্তমযোগী। তদুত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন যে, আমাতে মন একাগ্র করে নিরন্তর আমার ভজন ও ধ্যানে মগ্ন হয়ে যে ভক্তগণ সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে আমার সগুণ রূপের উপাসনা করেন যোগীদের মধ্যে তারাই অতি উত্তম যোগী।
অবশ্য যে পরম গুণ ইন্দ্রিয়সমূহকে বশীভূত করে মন ও বুদ্ধির অগোচরে সেই অক্ষর ব্রহ্মের উপাসনা করে থাকেন, তারাও
আমাকেই লাভ করে থাকেন। সগুণ ও নির্গুণ ব্রহ্মের উপাসনা পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনায় শ্রীকৃষ্ণকে অর্জুন শুধালেন যে, নির্গুণ ব্রহ্মের উপাসনা আসলে অত্যন্ত কঠিন। ধারণের জন্য এপথ অতি দুর্বোধ্য। কিন্তু সেতুলনায় ভক্তি পথ অপেক্ষাকৃত সরল। কারণ, অনাসক্তভাবে সকল কর্মই ভগবানের মনে করে কর্মসম্পাদন করাই ভক্তিপথের সাধনা। অভ্যাসের মাধ্যমে মনকে সেভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব। আর যদি অভ্যাস যোগেও কেউ অপারগ হন তবে সকল কর্মের ফলাকাংক্ষা ত্যাগ করে ভগবানের শরণাপন্ন হয়ে থাকা আরও ভাল। অতপর শ্রীকৃষ্ণ ফলাকাংক্ষা ত্যাগী ভক্তের লক্ষণ বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, তাঁর ভক্ত কাউকে হিংষা করেনা, তিনি সকলের প্রতি মিত্র ভাবাপন্ন, দয়ালু ও ক্ষমাবান। তিনি সমত্ববুদ্ধি সম্পন্ন ও অহংকার বর্জিত, তিনি শত্রু-মিত্র, মান-অপমান, শীত-উষ্ণ, শুভ-অশুভ, নিন্দা-স্তুতি, হর্ষ-বিষাদ ইত্যাদিতে কোন প্রভেদ করেন না। এসবই তার নিকট সমান। এহেন সমত্ববুদ্ধি সম্পন্ন ভক্তগণই তাঁর প্রিয়। অতএব, অনাসক্ত, অনহংকারী এবং সর্বত্র সমত্ব বুদ্ধিসম্পন্ন ভক্তের গুণবর্ণনের মাধ্যমেই এ অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনেছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
জয় শ্রীকৃষ্ণ ।।
শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৩শ অধ্যায়: ক্ষেত্রক্ষেত্রজ্ঞবিভাগযোগ- এর সার সংক্ষেপ দেখুন
Comments