শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-৩, (শুদ্ধ ভক্তিঃ হৃদয়ের পরিবর্তন )

    শ্লোক: ৯
    রাজ্যকামো মনূন্ দেবান্ নির্ঝতিং ত্বভিচরন্ যজেৎ ।
    কামকামো যজেৎ সোমমকামঃ পুরুষং পরম্ ॥৯॥

  • অনুবাদ : যিনি রাজত্ব কামনা করেন , তাঁর মনুদের আরাধনা করা উচিত । যিনি শত্রুবিজয়ের আকাঙ্ক্ষা করেন , তাঁর অসুরদের আরাধনা করা উচিত , এবং যিনি ইন্দ্রিয় সুখভোগের বাসনা করেন , তাঁর চন্দ্রদেবের আরাধনা করা উচিত । কিন্তু যাঁর কোন জড় সুখভোগের বাসনা নেই , তাঁর পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত ।
  • তাৎপর্যঃ- মুক্ত পুরুষ উপরোক্ত সমস্ত ভোগগুলি সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে মনে করে । কেবল যারা বহিরঙ্গা জড়া প্রকৃতির গুণের দ্বারা আবদ্ধ , তারাই বিভিন্ন রকম জড় সুখভোগের আকাঙ্ক্ষার বন্ধনে আবদ্ধ । অর্থাৎ পরমার্থবাদীদের কোন রকম জড় বাসনা থাকে না , কিন্তু জড়বাদীরা নানা প্রকার ভোগ বাসনার আকাঙ্ক্ষী । ভগবান ঘোষণা করেছেন যে , জড় সুখভোগের আকাঙ্ক্ষী জড়বাদীরা , যারা পূর্বে বর্ণিত বিভিন্ন দেবতাদের অনুগ্রহ ভিক্ষা করে , কখনোই তাদের ইন্দ্রিয় দমন করতে পারে না এবং তাই তারা নানারকম অর্থহীন কার্যকলাপে লিপ্ত হয় । তাই কখনো কোনরকম জড় সুখভোগের আকাঙ্ক্ষা না করে পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত ।

        মূর্খ মানুষদের নেতারা আরও অধিক মূর্খ , কেননা তারা প্রকাশ্যভাবে প্রচার করে যে , যে কোন দেবতাদের পূজা করা যেতে পারে কেননা চরমে তার ফল একই । এই ধরনের প্রচার কেবল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের শিক্ষার বিরোধীই নয় , তা মূঢ়তাও বটে , এবং এটি যে কোন একটি ট্রেনের টিকিট কিনে একই গন্তব্যে পৌঁছনোর দাবী করার মতো মূঢ়তা । কেউই বরোদার টিকিট কিনে দিল্লী থেকে বোম্বাই যেতে পারে না।

        এখানে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে , বিভিন্ন বাসনার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রকার পূজার বিধি রয়েছে , কিন্তু যার কোনরকম জড় ভোগ বাসনা নেই , তিনিই কেবল পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করতে পারেন । এই আরাধনার পদ্ধতিকে বলা হয় ভগবদ্ভক্তি।

        শুদ্ধভক্তির অর্থ হচ্ছে সবরকম জড় বাসনা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হয়ে , এমন কি সকাম কর্ম এবং মনোধর্মী জ্ঞানের বাসনা থেকেও মুক্ত হয়ে পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করা । জড় বাসনা চরিতার্থ করার জন্য ভগবানের আরাধনা করা যায় , কিন্তু তার ফল ভিন্ন, যে কথা পরবর্তী শ্লোকে বিশ্লেষণ করা হবে । সাধারণত ভগবান কারও ইন্দ্রিয় সুখভোগের জড় বাসনা চরিতার্থ করেন না , কিন্তু ভাবান এই প্রকার পূজকদের পুরস্কৃত করেন , কেননা চরমে তারা সমস্ত সুখভোগের বাসনা ত্যাগ করেন । এখানে সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে , জড় সুখভোগের বাসনা হ্রাস করা উচিত , এবং সেই জন্য পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত , যাঁকে এখানে পরম বা জড়াতীত বলে বর্ণনা করা হয়েছে । শ্রীপাদ শঙ্করাচার্যও বলেছেন — নারায়ণঃ পরো হব্যক্তাৎ : পরমেশ্বর ভগবান শ্রীনারায়ণ জড়া প্রকৃতির অতীত ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।