শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস কৃত শ্রীমদ্ভাগবত এর গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ও তাৎপর্য ।

কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কর্তৃক মূল সংস্কৃত শ্লোক, অনুবাদ এবং বিশদ তাৎপর্যসহ ইংরেজি SRIMAD BHAGAVATAM গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ

  • শ্রীমদ্ভাগবত ২য় স্কন্ধ, অধ্যায়-২, (হৃদয়াভ্যন্তরস্থ ভগবান )

    শ্লোক: ১৪
    যাবন্ন জায়েত পরাবরেঽস্মিন্
    বিশ্বেশ্বরে দ্রষ্টরি ভক্তিযোগঃ
    তাবৎ স্থবীয়ঃ পুরুষস্য রূপং
    ক্রিয়াবসানে প্রযতঃ স্মরেত ৷৷ ১৪ ৷৷

  • অনুবাদ : যতক্ষণ পর্যন্ত স্থূল জড়বাদীদের জড় এবং চেতন উভয় জগতেরই স্রষ্টা , পরমেশ্বর ভগবানে প্রেমভক্তির উদয় না হয় , ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কর্তব্যকর্ম সম্পাদনের পর যত্নপূর্বক ভগবানের বিরাট রূপেরই ধ্যান করা উচিত ।
  • তাৎপর্যঃ- পরমেশ্বর ভগবান জড় এবং চেতন উভয় জগতেরই দ্রষ্টা । অর্থাৎ , পরমেশ্বর ভগবান সমগ্র জগতের পরম সুহৃৎ এবং পরম ভোক্তা , যে কথা ভগবদ্গীতায় ( ৫/২৯ ) প্রতিপন্ন হয়েছে । চিজ্জগৎ ভগবানের অন্তরঙ্গা শক্তির প্রকাশ এবং জড় জগৎ তার বহিরঙ্গা শক্তির প্রকাশ । আর জীবেরা হচ্ছে তার তটস্থা শক্তি , এবং তাই তারা তাদের ইচ্ছা অনুসারে চিজ্জগতে অথবা জড় জগতে থাকতে পারে । জড় জগৎ জীবের বসবাসের উপযুক্ত স্থান নয় , কেননা সমস্ত জীবেরা তাদের চিন্ময় স্বরূপে ভগবানের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত , কিন্তু জড় জগতে জড়া প্রকৃতির আইনের প্রভাবে জীবেরা আবদ্ধ হয়ে পড়ে । ভগবান চান যে , তার বিভিন্ন অংশস্বরূপ জীবেরা যেন চিজ্জগতে তার সঙ্গে অবস্থান করে । তাই জড় জগতে বদ্ধ জীবদের অনুপ্রাণিত করার জন্য বেদ এবং অন্যান্য শাস্ত্র গ্রন্থসমূহ রয়েছে যাতে তারা যথার্থ জ্ঞান লাভ করে তাদের প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারে । দুর্ভাগ্যবশত , বদ্ধ জীবেরা যদিও নিরন্তর জড় জগতে ত্রিতাপ দুঃখ ভোগ করছে , তথাপি তারা ভগবানের কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী নয় । তার কারণ পাপ এবং পুণ্যের জটিলতার প্রভাবে তারা জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে । তাদের মধ্যে যারা পুণ্যবান তারা ভগবানের সঙ্গে তাদের হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে শুরু করে , কিন্তু তারা ভগবানের সবিশেষরূপ হৃদয়ঙ্গম করতে পারে না । জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে তার সেবা করা । সেটি প্রতিটি জীবের স্বরূপগত ধর্ম । কিন্তু যারা নির্বিশেষবাদী এবং ভগবানের প্রেমময়ী সেবা সম্পাদনে অক্ষম , তাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে ভগবানের নির্বিশেষ বিরাট বা বিশ্বরূপের ধ্যান করতে । কেউ যদি প্রকৃত সুখ লাভ করতে চায় , তা হলে কোন না কোনভাবে পরমেশ্বর ভগবানের সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করতে হবে । স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাথমিক স্তরের সাধকেরা ভগবানের বিরাট রূপের ধ্যান করার ফলে ধীরে ধীরে ভগবানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক স্থাপনের যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে । এখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বর্ণিত বিরাট রূপের ধ্যান করতে , যাতে তারা উপলব্ধি করতে পারে যে , বিভিন্ন গ্রহ , সমুদ্র , পর্বত , নদী , পশু - পক্ষী , মানুষ , দেবতা ইত্যাদি যা কিছু আমরা চিন্তা করতে পারি তা সবই হচ্ছে ভগবানের বিরাট রূপের বিভিন্ন অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ । এই প্রকার চিন্তাধারাও পরম সত্যের এক প্রকার ধ্যান , এবং যখনই এই প্রকার ধ্যান শুরু হয় , তখনই দিব্য গুণাবলীর বিকাশ হতে শুরু করে , এবং তখন সমগ্র জগতকে মনে হয় যেন সমস্ত জীবের বসবাসের এক সুখ এবং শান্তিপূর্ণ স্থান । ভগবানের এই ধরনের সবিশেষ অথবা নির্বিশেষ রূপের ধ্যান ব্যতীত মানুষের সমস্ত সদ্ গুণগুলি তার স্বরূপ সম্বন্ধে ভ্রান্ত ধারণার দ্বারা আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে , এবং এই ধরনের উন্নত জ্ঞান না থাকার ফলে সমগ্র জগৎ মানুষের পক্ষে নরকে পরিণত হয় ।

    পূরবর্তী শ্লোক দেখুন অথবা পরবর্তী শ্লোক
  • * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।