* ভগবান শ্রীকৃষ্ণ *
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্ব্বকারণকারণম্।।

Krishna vs Arjun @ Gita Bhogoban Krishner Picture Bhogoban Krishner Picture
*

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ : পরম শক্তিমান

           এজগতে যারা খুব বলশালী, মানুষ তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়৷ ওয়েট-লিফ্ টার- যারা সারা জীবন ধরে ওজন তোলার জন্য মর্মন্ত্তদ পরিশ্রম করে, তারপর বহু বছরের নিদারুণ কসরতের শেষে বিশ্ব-ক্রীড়াঙ্গনে য্খন তারা অল্প কিছু ওজন কয়েক মুহূর্তের জন্য উপরে তুলে ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে সে একজন বীর তারকায় পরিণত হয়৷ কিন্তু তাদের শক্তির সংগে যদি গোবর্দ্ধনধারী কৃষ্ণের শক্তি তুলনা করা হয়? শ্রীকৃষ্ণের বয়্স য্খন মাত্র সাত বছর, তখন তিনি তাঁর বাঁহাতের কনিষ্ঠ আঙুলটির সাহায্যে একটা গোটা পর্বত তুলে ধরেছিলেন-- ইন্দ্রের সৃষ্ট অবিশ্রান্ত বর্ষণ থেকে ব্রজবাসীদের রক্ষা করার জন্য৷ সেই গোবর্দ্ধন পর্বতটি এখনো বৃন্দাবনে রয়েছে, ২২ কিলোমিটার যার পরিধি, আর পাঁচ হাজার বছর আগে এটি আরো বড় ছিল৷ কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ সহজেই পর্বতটি ধরে রেখেছিলেন-- কয়েক মুহূর্তের জন্য নয়-- সাতদিন সাত রাত্রি ধরে৷ শ্রীকৃষ্ণের অলোকসামান্য বীর্যবত্তার এটি একটি দৃষ্টান্ত৷**

এক বার শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর শিষ্যা য্দুরাণীকে (জ্যাড, অস্ট্রেলিয়া) গোবর্দ্ধন-ধারী কৃষ্ণের একটি ছবি আঁকতে বলেছিলেন৷ য্দুরাণী কৃষ্ণকে একজন বলশালী এক যুবক-রূপে আঁকল, তাঁর পেশীবহুল দেহের বাইসেপ্ গুলো ভালভাবেই দেখা যাচ্ছিল৷ শ্রীল প্রভুপাদ তাঁকে বললেন যে গোবর্দ্ধন উত্তোলন করার জন্য শ্রীকৃষ্ণের এইরকম বড় বড় পেশীর প্রয়োজন হয় না; তাঁর দেহটি চিন্ময়, আর তিনি অচিন্ত্য অনন্ত শক্তির অধিকারী৷ একটি হাতি যেমন বিনা আয়াসে একটি ব্যাঙের ছাতা বা ছ্ত্রাক তুলে ধরতে পারে, শ্রীকৃষ্ণ ঠিক তেমনই অনায়াসে গোবর্দ্ধন পর্বত তুলেছিলেন, ধরে রেখেছিলেন সাতদিন৷


------------------------------------------------
** তাহলে, বড় পৃথিবী গ্রহটি কিংবা দৈত্যাকার বৃহস্পতি-গ্রহ- যার খোলের মধ্যে ধরে যাবে ১৩০০ পৃথিবী, কিংবা মহাদ্যুতিশালী সূর্য -এদের মহাশূন্যে ভাসিয়ে রাখার জন্য যে মহাকর্ষ-শক্তির প্রয়োজন, সেটি কত প্রচণ্ড হতে পারে ? সেটি আসছে কোথা থেকে, কার কাছ থেকে ? শ্রীকৃষ্ণ বলেন, 'গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়ামি অহম্ ওজসা' (ভ. গী. ১৫/১৩), তাঁর শক্তিতেই গ্রহ, জীবসমূহ রয়েছে নির্ভর করে৷ শুধু একটি সৌরজগৎ নয়, কোটি কোটি ব্রহ্মাণ্ড তিনি ধারণ করেন- সূত্রে গ্রথিত মণি-সমূহের মতো, তিনিই সবকিছুকে ধারণকারী সূত্র (ময়ি সর্বম্ ইদং প্রোতঃ সূত্রে মণিগণা ইব (ভ. গী. ৭/৭)৷ গ্রহসমূহ যে ভগবানের পরিকল্পনায়, ভগবানের শক্তিতে স্থিত, সেকথা বলেছেন মাধ্যাকর্ষণের আবিষ্কর্তা নিউটনও; তিনি তাঁর 'প্রিন্সিপিয়া' গ্রন্থে লিখেছেন : " The motions which the planets now have, could not spring from any natural cause alone, but were impressed by an Intelligent Agent." --------------------------------------------

শ্রীকৃষ্ণ কংসের আমন্ত্রণে মথুরায় গিয়ে বিশাল হরধনুটি নিমেষেই ভেঙে ফেলেছিলেন; বিশাল ও ক্রোধোন্মত্ত কুবলয় হস্তীকে বধ করেছিলেন, চাণুর, মুষ্টিকের মতো বিশালদেহী মুষ্টিযোদ্ধাদের বধ করেছিলেন৷ অথচ তখন তাঁর 'বয়স' ছিল মাত্র ১১ বছর ৬ মাস৷ ভগবান সবসময়ই ভগবান, শিশু বা তরুণ- তিনি সবসময়ই সমান শক্তিশালী, সমান অচিন্ত্য শক্তির অধিকারী৷ শ্রীকৃষ্ণের বয়্স য্খন মাত্র সাত দিন, তখন তিনি কংসের পাঠানো বিশালদেহী পুতনা রাক্ষসীকে বধ করেছিলেন৷ পরবর্তীতে, অর্জুনকে তিনি বিশ্বরূপ দেখিয়েছিলেন, যা দর্শন করে অর্জুনের মতো বীরও ভয়ে কাঁপছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন যে ভীষ্ম-দ্রোণ-দুর্যোধন-সহ সমস্ত যোদ্ধাদের তিনি নিহত করেই রেখেছেন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের ইতিহাস তাঁর উক্তির সত্যতা বহু করেছেন৷ ভীষ্ম-দ্রোণ ছিলেন প্রায় অজেয়৷ অথচ তাঁদের মৃত্যুবরণ করতে হয়, কেননা সেটাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছা৷ শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মদেব স্বীকার করেন যে অনন্ত শক্তিধর সর্বাধীশ্বর শ্রীকৃষ্ণের ইচ্ছাই চূড়ান্ত৷ শুধু তাই নয়, আমাদের যা বল, শক্তি, শৌর্য আছে, তা শ্রীকৃষ্ণের থেকেই আসছে৷ ভগবদ্ গীতায় শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং তা বলেছেন :

বলং বলবতা চ অহম্, "আমি বলবানদের বল৷"

পরবর্তী বিবরণ

সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম।

*ভগবান শ্রীকৃষ্ণ*
! ! ! ! ! ! ! ! ! !

সাইট-টি আপনার ভাল নাও লাগতে পারে, তবুও লাইক দিয়ে উৎসাহিত করুনঃ

শেয়ার করে প্রচারে অবদান রাখতে পারেন

Say something

Please enter name.
Please enter valid email adress.
Please enter your comment.