শ্রীমৎ আচার্য বিবেকানন্দ গোস্বামী

এম.এ.(ট্রিপল), সপ্ততীর্থ, বি.সি.এস (শিক্ষা) প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক (দর্শন) বরগুনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ । প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ সেবাশ্রম। -এর স্বহস্তে লিখিত গ্রন্থ
মৃত্যু হতে অমৃতলোকে
Krishna vs Arjun @ Gita



Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact
    0183 45 45 989









  • Gurudeb Photo Gurudeb Photo

  •  তপস্যা   (4)

         সমস্ত জীবনের মধ্যে সুজ্ঞান হয় নাই, মরতে হবে এভাবনা নাই এবং মৃত্যুর পর কি দুর্গতি হবে তা মনে হয় নাই; কেবল অর্থ স্বার্থ করে অনর্থক সময় নষ্ট ও জীবন কলুষিত হয়েছে। এখন শেষের সেদিন নিকট অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব লক্ষণ জেনে সঞ্চিত অর্থের কিছু দান করেন এবং একাগ্রচিত্তে ভগবানের ধ্যান ও স্মরণ করেন তাহলে সর্বপাপমুক্ত হয়ে পরমগতি প্রাপ্ত হবে।
         আর একটি কথা সকলেই জানেন- ধর্মপতি যমরাজের পার্শ্বে চিত্রগুপ্ত নামে একজন আছে। তাঁর নিকট আমাদের পাপপুণ্য ধর্মাধর্ম লেখা রয়েছে। এর ভাবার্থ এই যে, “চিত্রগুপ্তের অর্থ গুপ্ত চিত্র”। এখানে লোকের চোখে ধূলা দিয়া বেমালুম পাপ করে হজম করা যায় কিন্তু সেখানে ধর্মরাজের নিকট আমাদের কর্মের গুপ্ত চিত্রের সমস্তই লেখা রয়েছে। কাজে কাজেই নিস্তার নাই। এ কারণ মৃত্যু নিকট জেনে ধর্ম কার্য্যের অনুষ্ঠান ও অনন্যচিত্তে ভগবানের ধ্যান করা উচিত বা কর্তব্য।
       অতএব সকলেরই পূর্ব লক্ষণগুলি জেনে সাবধান হওয়া আবশ্যক। যারা যোগী তাঁরা মৃত্যুকে নিকটে জেনে যোগারূঢ় হয়ে প্রাণত্যাগ করতে চেষ্টা করেন। মৃত্যুকালে যদি যোগস্মৃতি বিলুপ্ত না হয় জন্মান্তরে সিদ্ধি লাভে সমর্থ হবেন। আর যারা যোগী নহেন তারা রমনের লক্ষণগুলি দেখে অস্থির না হয়ে এবং যাতনা অনুভব না করে যাতে ভগবানের প্রতি সতত মন সমর্পন করে থাকতে পারেন, নিয়ত সেই চেষ্টাই করবেন। ভগবানের ধ্যান ও তাঁর নাম স্মরণ করতে করতে মৃত্যুর সম্মুখীন হলে আর কোন যাতনা ভোগ করতে হয় না।
         শেষ বক্তব্য এই যে, শাস্ত্র অনন্ত, স্থুল বুদ্ধিতে স্থুলচক্ষে শাস্ত্র বিভিন্ন বলে বোধ হয়; আর সাধনার পথও অনেক প্রকার। শাস্ত্র ও সর্বপ্রকার সাধনের মূখ্য উদ্দেশ্য এক এবং ফলও এক। এতে বিভিন্নতা কিছুমাত্র নাই। গুরুর কৃপায় প্রকৃত জ্ঞান হলে সাধকগণ তা বুঝতে পারেন। যেমন-
    মথিত্বা চতুরো বেদন্ সর্বশাস্ত্রানি চৈব-হি,
    সারস্তু যোগিতিঃ পিতুন্ডক্রং পিবন্তি পন্ডিতাঃ ।।
         অর্থাৎ সর্বশাস্ত্রে সামঞ্জস্য যোগীগণ দেখে বুঝে থাকেন। এজন্য চারিবেদ ও অন্যান্য শাস্ত্রসকল মন্থন পূর্বক সারভাগ (মাখন) যোগীরা গ্রহণ করেন, আর অসার ভাগ (ঘোল) পন্ডিতগণ গ্রহণ করে থাকেন। বাস্তবিক পন্ডিতগণ শাস্ত্রের অসারভাগ গ্রহণ করে বিরাট তর্কজাল বিস্তার পূর্বক বৃথা বচসা করে বেড়ান; শাস্ত্রের সার গ্রহণ করার শক্তি প্রকৃত যোগী ভিন্ন আর কারো নাই।
         শাস্ত্র অনন্ত কিন্তু জীবন অল্পকাল স্থায়ী। এক জীবনে কেহ শাস্ত্র পড়ে শেষ করতে পারে না। এজন্য সকলকে “ভাগবতগীতা” পাঠ করতে অনুরোধ করি। যদিও গীতার প্রকৃত অর্থ বুঝাবার বা বুঝিবার লোক গৃহস্থলোকের মধ্যে বিরল, তথাপি বারংবার গীতা পাঠ করা সকলের কর্তব্য। একমাত্র গীতার উপর নির্ভর করলে অন্য কোন শাস্ত্র পড়ার আবশ্যক হয় না এবং গীতা পড়তে থাকলে গীতা বুঝাবার গুরু আপনা হতেই আসবে।।

    জয় রাধে শ্যাম

    পূর্ববর্তী পৃষ্ঠা -

  • সুনির্বাচিত শ্লোকঃ-

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।