সনাতন ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ

নিজের ধর্ম সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জানুন এবং অন্যকেও জানতে উৎসাহিত করুন।

আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন। আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন ।
Krishna vs Arjun @ Gita



Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact
    0191 22 086 22









  • Bhogoban Krishner Picture
  • For Ad Contact
    0185 977 97 98



  • পুনর্জন্ম কি?

    (সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম )

    জড় বস্তু ও চেতন পদার্থের স্বরূপ সম্বন্ধে শাস্ত্র আমাদেরকে তথ্য প্রদান করে। প্রথম যে মৌলিক জ্ঞান আমাদের শিক্ষা দেওয়া হয়, তা হচ্ছে এই যে, আমরা এই জড়দেহগুলি নই, আমরা চেতন আত্মা। আত্মার শরীর সচ্চিদানন্দময়, জড়-উপাদান-বিহীন; তাঁকে বলা হয় স্বরূপ দেহ। পরিবর্তনশীল জড় দেহটি জড় পদার্থের নির্মিত। প্রকৃ্তপক্ষে, জড় শরীরের দুটি ভাগ রয়েছে স্থূল ও সূক্ষ্ম। মাটি (কঠিন পদার্থ), জল (তরল), অগ্নি (তাপ), বায়ু (গ্যাসীয়) এবং আকাশ, এই পাঁচটি উপাদানে তৈরী হয়

    স্থূল শরীর।

    মন, বুদ্ধি ও অহঙ্কার – এই তিনটি উপাদানে তৈরী হয়

    সূক্ষ্ম শরীর।

    এই দুটি শরীরই আত্মার জড় আবরণ বিশেষ।


    স্বরূপতঃ প্রতিটি জীবসত্তাই চিন্ময়, অজড় (সচ্চিদানন্দময়), কিন্তু যখন কোন জীব জড়জগৎকে উপভোগ করার বাসনা করে, তখন সে চিন্ময় জগৎ হতে জড় জগতে অধঃপতিত হয়। এভাবে যখন আত্মাকে জড় জগতে প্রেরণ করা হয়, তখন জড়জগতে তাকে জড় শরীরের আবরণে আচ্ছাদিত করা হয়, যাতে সে এই জড় পরিবেশের সংগে সামঞ্জস্যবিধান করে চলতে পারে, জড়জগতে বাস করতে পারে।


    ঠিক যেমন আপনি যখন বিদেশে যান, তখন সেই ঠান্ডা দেশের উপযোগী শীত বস্ত্র নিয়ে যান। জীবাত্মাকে প্রথমে মানব বা উচ্চতর কোনো প্রজাতির জন্ম দেওয়া হয়; কিন্তু সে যখন তার অপরাধ প্রবণতা সংশোধন না করে অধিকতর জড়-বিষয় সম্ভোগে আকাঙ্ক্ষিত হয়, তখন তাঁকে নিম্নতর প্রজাতিতে অধঃপতিত হতে হয়। তাঁর বিবর্তনের ধারায় ৮৪ লক্ষ প্রজাতির জীব শরীর - জলচর, উদ্ভিদ, পশু প্রভৃতি নানা জীব-শরীরে দেহধারণ করার পর তার মূল্যবান মানব-জন্ম লাভ হয়। তাকে বার বার দেহান্তরিত হওয়ার এই অন্তহীন চক্র হতে মুক্ত হবার আরেকটি সুযোগ প্রদান করা হয়।

    যে সরল প্রক্রিয়ায় জীব এক দেহ হতে অপর দেহে স্থানান্তরিত হয়, তাকে পূনর্জন্ম বলা হয়।



    বাংলাতেই সংগৃহীত পুনর্জন্মের এক বাস্তব কেস-হিস্ট্রিঃ

    (সূত্রঃ ভগবদগীতার সারতত্ব ছয় পর্বের প্রাথমিক পাঠক্রম )

    ডঃ স্টিভেনসন-এর সংগৃহিত ২০০০ কেস-হিস্ট্রির একটি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট্ট মেয়ে। শুক্লার বয়স যখন মাত্র দেড় বছর, কথা বলতে শিখেছে কি শেখেনি, তখন থেকেই সে একটি বালিশ নিয়ে দোলনায় দোল দিত, আর বলত যে এটি হচ্ছে ‘মিনু’। সে বলত সে মিনু হচ্ছে তাঁর মেয়ে। পরবর্তী তিন বছরে শুক্লা তার পূর্ব জন্মের অনেক ঘটনাই স্মরণ করতে পারল, যাতে বোঝা গেল যে মিনু সত্যিই গত জন্মে তাঁর মেয়ে ছিল।


    শুক্লা ছিল পশ্চিমবঙ্গের কম্পা গ্রামের এক রেলকর্মীর মেয়ে। সে কেবল তার মেয়ে মিনুর কথাই বলত না, ‘মিনুর বাবা’, অর্থাৎ তার স্বামী কথাও বলত, (অবশ্য তার নাম সে বলেনি- হিন্দু স্ত্রী তাঁর স্বামীর নামোচ্চারণ করে না)। সে তার গত জন্মের দুটি ভাইয়ের কথাও বলত- খেতু এবং কানাই। সে বলেছিল যে এরা সবাই ভাটপাড়ার রথতলাতে থাকত।


    শুক্লার পরিবার- গুপ্তরা ভাটপাড়া অল্প চিনতেন; এটা ছিল প্রায় ১১ মাইল দূরের একটা বাজার, কিন্তু তাঁরা কখনো রথতলার কথা শোনেননি, বা যেসব লোকদের শিশু শুক্লা নাম করেছিল, তাঁদেরকেও তাঁরা চিনতেন না। শুক্লা সেখানে যাওয়ার জন্য জিদ করতে থাকে এবং বলে যে তারা না নিয়ে গেলে সে একাই ওখানে যাবে।


    শুক্লার পরিবার- গুপ্তরা ভাটপাড়া অল্প চিনতেন; এটা ছিল প্রায় ১১ মাইল দূরের একটা বাজার, কিন্তু তাঁরা কখনো রথতলার কথা শোনেননি, বা যেসব লোকদের শিশু শুক্লা নাম করেছিল, তাঁদেরকেও তাঁরা চিনতেন না। শুক্লা সেখানে যাওয়ার জন্য জিদ করতে থাকে এবং বলে যে তারা না নিয়ে গেলে সে একাই ওখানে যাবে।


    শুক্লার বাবা, শ্রী কে. এন. গুপ্ত বিষয়টি সম্বন্ধে তাঁর বন্ধুবান্ধবদেরকে বললেন। তিনি তাঁর একজন রেলের সহকর্মী, অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাষ্টার শ্রী এন. সি. পালকেও ঘটনাটি বলেন।

    বাংলাতেই সংগৃহীত পুনর্জন্মের এক বাস্তব কেস-হিস্ট্রিঃ



    শুক্লার বাবা, শ্রী কে. এন. গুপ্ত বিষয়টি সম্বন্ধে তাঁর বন্ধুবান্ধবদেরকে বললেন। তিনি তাঁর একজন রেলের সহকর্মী, অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন মাষ্টার শ্রী এন. সি. পালকেও ঘটনাটি বলেন। শ্রীপাল ভাটপাড়ার কাছাকাছি অঞ্চলে থাকতেন, আর ভাটপাড়ায় তাঁর দুই ভাইপো থাকত। তাঁর ভাইপোদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়ে তিনি জানতে পারলেন যে সত্যিই ভাটপাড়ার কাছে রথতলা বলে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে খেতু বলে একজন ব্যক্তির খবরও পাওয়া গেল। খেতুর একটি শ্যালিকা ছিল, নাম মান্না। সে কয়েক বছর আগে (১৯৪৮) মিনু নামের একটি ছোট শিশু কন্যাকে রেখে মারা যায়। শ্রীসেনগুপ্ত বিষয়টি আরো অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিলেন। পরিবারের সম্মতি গ্রহণ করে তিনি একদিন রথতলায় যাবার জন্য তৈরী হলেন। শুক্লা বলল যে সে পথ দেখিয়ে বাড়ীতে নিয়ে যেতে পারবে।


    সুতরাং একদিন ১৯৫৯ সালে, শুক্লার বয়স যখন পাঁচ, শ্রীসেনগুপ্ত পরিবারের আরো পাঁচ জনকে ও শুক্লাকে নিয়ে ভাটপাড়ার দিকে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছানোর পর শুক্লাই পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। বিভিন্ন মোড় অতিক্রম করে, ভুল রাস্তায় না গিয়ে সে সরাসরি সে তাঁর পূর্বজন্মের শ্বশুর অমৃতলাল চক্রবর্তীর গৃহে সবাইকে নিয়ে উপস্থিত হলে। ঘটনাক্রমে, ঐ বাড়ীর শ্রীচক্রবর্তী তখন বাড়ির বাইরে রাস্তাতে ছিলেন। তাঁকে দেখতে পেয়ে শুক্লা সলজ্জভাবে তাঁর দিকে তাকাতে লাগল, ঠিক যেমন একজন বাঙ্গালী গৃহবধু পরিবারের বয়স্ক পুরুষকে দেখে লজ্জা অনুভব করে থাকে। কিন্তু শুক্লা বাড়ীতে প্রবেশ করতে গিয়ে হতচকিত হলো। মনে হলো সে বাড়ীর প্রবেশ পথটি চিনতে পারছে না। পরে জানা গেল কেন এমন হয়েছে- মনার (শুক্লার পূর্ব জীবনের নাম) মৃত্যুর পর বাড়ীর প্রধান প্রবেশ পথ বড় রাস্তা থেকে সরিয়ে গলিতে করা হয়েছে।


    গুপ্ত পরিবার অবিলম্বে দেখলেন, শুক্লা কেবল বাড়ীটিকেই সনাক্ত করে নি, বাড়ীর লোকজনকেও সে যথাযথভাবে চিনিয়ে ছিল- তাঁর (মনার ) শ্বাশুড়ী মা, ঠাকুরপো, তাঁর স্বামী, এবং তাঁর মেয়েকে। সেসময় শ্রীঅমৃতলাল চক্রবর্তী মহাশয়ের বাড়ীতে শুক্লাকে ঘিরে ঐ ঘরটিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন লোক ছিল। যখন শিশু শুক্লাকে জিজ্ঞাসা করা হল, “তুমি কি এর মধ্য থেকে তোমার স্বামীকে দেখাতে পারো?” উত্তরে শুক্লা ঠিকঠিক ভাবে শ্রীহরিধন চক্রবর্তীকে চিনিয়ে দিল, সে-ই ছিল মনার স্বামী।


    শুক্লা ও হরিধন চক্রবর্তীর এরপর বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছিল, শুক্লা এজন্য সাগ্রহে প্রতীক্ষা করত। যখন হরিধন চক্রবর্তী একবার শুক্লাদের বাড়ীতে এলেন, শুক্লা তাঁর পরিবারকে গলদা চিংড়ি রান্না করতে বলল; সে বলেছিল যে এটাই তাঁর পূর্ব-স্বামীর প্রিয় খাবার। তাঁর কথামত তাঁর পরিবার ঐ খাবারই তৈরি করলেন, এবং পরে তাঁরা দেখলেন যে শুক্লা ঠিক কথাই বলেছে। হরিধন চক্রবর্তীর সংগে ছোট্ট শুক্লা একজন যথার্থ হিন্দু স্ত্রীর মতোই আচরণ করত। শ্রীচক্রবর্তী খাওয়া হলে সেই থালার অবশিষ্ট খাবার শুক্লা সযন্তে খেত, ঠিক যেমন একজন হিন্দু গৃহিণী করে থাকেন। কিন্তু শুক্লা কখনো অন্য কারো থালা থেকে তাদের উচ্ছিষ্ট খেত না।


    একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণঃ

    শুঁয়ো পোকা থেকে প্রজাপতিঃ শুঁয়োপোকা সকলের কাছেই অপাংক্তেয় – তার বিদঘুটে চেহারা, ততোধিক বিদঘুটে চলাফেরা আর অ্যাসিড-ভর্তি শুঁয়ো বা রোমের জন্য – ছোঁয়া লাগলেই বিপত্তি। কিন্তু সেই শুঁয়োপোকা যখন বড় হয়, তখন সে নিজের মুখের লালা দিয়ে সুপুরির খোলসের মতো দেখতে একটি গুটি তৈরি করে। ঐ গুটির মধ্যে থেকে সে পুরো মুখটি আটকে দেয়। পরে গুটি ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ঝলমলে, রঙীণ পূর্ণাঙ্গ এক প্রজাপতি- শিল্পের এক অনবদ্য সৃষ্টি, যার কাজ শুধু আনন্দে ওড়া আর ফুলের মধু খাওয়া। গুটির মধ্যে পড়ে থাকে শুঁয়োপোকার অস্পর্শ্য মৃতদেহটি। শুঁয়োপোকার দেহের মালিকটিই এখন প্রজাপতি দেহে, যে জীবন-কণা শুঁয়োপোকার দেহে ছিল, সেই জীবন-কণা এখন বিরাজ করছে প্রজাপতি দেহে; দেহের সাথে সাথে তার বদলে গিয়েছে খাদ্যাভাস, চলন-গমন – সবকিছু।

    প্রাসঙ্গিক বিষয়ঃ

    * * * Anupamasite-এ আপনাকে স্বাগতম। আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের লেখা পোস্ট করতে এখানে ক্লিক করুন।   আপনাদের পোস্ট করা লেখাগুলো এই লিংকে আছে, দেখতে এখানে ক্লিক করুন। ধন্যবাদ * * *

    জ্ঞানই শক্তি ! তাই- আগে নিজে জানুন , শেয়ার করে প্রচারের মাধ্যমে অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

    Say something

    Please enter name.
    Please enter valid email adress.
    Please enter your comment.